Monday, 25 March 2013

YOUNG.BRITISH.FEMALE.MUSLIM


সালটা ছিল ২০১০,২৯শে মে । সানডে টাইমসে ছাপা হয় Sarah Harris এর এক যুগান্তকারী রিপোর্ট, সাথে সাক্ষাৎকার। (রিপোর্টটি সম্পুর্ন পড়া যাবে না যদি না আপনি দি টাইমস / সানডে টাইমস এর পেইড সাস্ক্রাইভড মেম্বার না হন)। রিপোর্টা ছিল বর্তমান ইউ কে তে ক্রমবর্ধমান মুসলিম জনগোষ্ঠী ও তুলনামূলক বৃটিশ তরুণীদের মধ্যে ইসলাম ধর্মে প্রত্যাবর্তনএর উপর। রিপোর্টটি ছিল তথ্য নির্ভর ও নও মুসলিমদের সাক্ষাৎকার ভিত্তিক ফলে পুরো রিপোর্টটি আবেগ বা পক্ষপাত দুষ্ট থেকে মুক্ত। আমার মনে হয় ঐ রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে অন্য সবাই এই কথা ব্যাপক প্রচার করেছেন যে ইউ,কে তে বৃটিশ তরুণীদের মধ্যে ইসলাম গ্রহণ করার হার বেশি। আমি এখন পর্যন্ত ঐ রিপোর্টের কোন লিংক বা বাংলায় ভাষান্তরিত পূর্ণ রিপোর্টটি কোথাও পড়িনি।
গত সপ্তাহ দুই আগে কয়েকজন মুসলিম তরুণ কে ইংল্যান্ডের একটি কোর্ট সন্ত্রাসী কাজের পরিকল্পনাকারী হিসেবে দোষী সাব্যস্থ করে। তাদের কে অলিম্পিক পার্কের নিকটবর্তী একটি টাউন থেকে পুলিশ এরেস্ট করে জুলাই এর ৭ তারিখ, ২০১২, 
এর ই একদিন আগে মহাসড়কে রুটিন টহল কালে আরও সাত জন কে আটক করে পুলিশ; 
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী তারা একটি গাড়ি আটক করে ইনস্যুরেন্স না থাকার কারনে। তখন গাড়ির ভিতর সার্চ করতে গিয়ে পুলিশ আগ্নেয়াস্ত্র সহ ভিবিন্ন যন্ত্রানাদি পায়।
এইসব নিউজ পড়লে আর মুখ দেখানোর উপায় থাকে না, একে তো মিডিয়া গুলো মুসলিম কমিউনিটিতে বা মুসলিম নামের কারো পান থেকে চুন খসলেই সংবাদের শিরোনাম করতে দ্বিধা করে না, সে ক্ষেত্রে এইরকম ঘটনাতো তাদের কাছে ৭/৭ এর মতো। আর সবচেয়ে মারাত্বক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে আমাদের উপর যখন সেই সব নিউজ প্রথম পৃষ্ঠায় বড় করে ছবিসহ ছাপায়। এতে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলেও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে শত ভাগ। তারাএমনভাবে কথা বলবে যে যাকে আমরা বলি মিটা জুতাদেওয়া। এই ব্যাপারটা আসলে বলে বুজাবার না, ভুক্তভোগী মাত্রই জানে সে যন্ত্রণা কতটা নিষ্ঠুর। ইদানীং অনেক কেই দেখি তাই সহজে মুসলিম পরিচয় দিতে দ্বিধা বোধ করেন। অবশ্য সেটা তাদের ক্ষুদ্র ব্যাক্তি স্বার্থের জন্যই করেন বলে আমার কাছে মনে হয়। অনেকে আবার তখন সামনে আনেন বাঙ্গালীত্ব / বাংলাদেশিত্ব। যতোটা না দেশবোধ বা জাতীবোধ থেকে তারচেয়ে বেশি এটা করেন হীনমন্যতার কারনে।
তো, সবচেয়ে কষ্টদায়ক হচ্ছে সে দোষীদের মধ্যে এমন একজন ছিল যে কিনা নও মুসলিম। শুধু তাই না উনি, রিচার্ড ডার্ট, ধর্মান্তরিত হওয়ার আগে দু বছরের মত মেট্রোপলিটন পুলিশ বিভাগে কাজ করেছেন খুবই দক্ষতার সাথে। কিন্তু ধর্মান্তরিত হওয়ার পর তাঁর এইরকম চরমপন্থি অবস্থান বেছে নেওয়ায় অন্যদের কাছে  সহজেই এই ক্ষুদ্র অংশ একটি নেগেটিভ ম্যাসেজ দেয় ইসলাম সম্পর্কে। আমি এর পেছনের কারন, কারা এদেরকে চরম পন্থা বেচে নিতে উৎসাহ দেয় কিংবা এইসব চরম পন্থা বেচে নেবার পক্ষে ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি কি, সেইসব এখানে আলোচনা করতে চাচ্ছি না, তবে এটুকু বলতে পারি তারা যে দোষী ইউ,কের প্রচলিত আইনে, তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। জাস্টিস এর ক্ষেত্রে এখনো এখানকার যে কোন কোর্ট তথাকথিত ইসলামিক দেশের যেকোনো কোর্টের চেয়ে অনেক বেশি দায়িত্বশীল, হাতে গোনা দু চারটি ঘটনা ছাড়া।  
এইসব শুনে এবং পড়ে মনটা স্বাভাবিক ভাবেই অস্থির থাকে। একদিকে অমুসলিমরা ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আসছে দলে দলে আবার অন্যদিকে আমাদের মধ্য থেকেই অনেকে জড়িয়ে পড়ছে চরমপন্থি কর্মকাণ্ডে। সেদিন আমার উইন্ডোজ স্কাই ড্রাইভ এ পুরনো ফাইলগুলো সর্টিং করতে গিয়ে এই রিপোর্টটি চোখে পড়ল। ২০১০ সালেই আমি ম্যাগাজিন থেকে ঐ অংশটুকু স্ক্যান করে রাখি। ঐ সময়ে আই ফোন থ্রি জি এস দিয়ে স্ক্যান করার কারণে ততটা পরিষ্কার আসেনি, কিন্তু পড়া যায় অপেক্ষাকৃত বেশি চোখটার উপর প্রেসার দিয়ে।

তখনই মাথায় আসল এই রিপোর্টটির বাংলা অনুবাদ করলে কেমন হয়? শুরু করলাম কিন্তু সমস্যা বাধল বাংলা প্রতি শব্দ নির্বাচনে। বাক্যটি আমি বুজতে পারছি কিন্তু বাংলায় লিখে প্রকাশ করার জন্য যুতসই শব্দ পাচ্ছিনা। কোন কোন ক্ষেত্রে আক্ষরিক অনুবাদ করতে পারলেও বাক্যের মধ্যে শব্দের বিন্যাস কিছুতেই করতে পারছিনা। তাই, মেনে নিলাম চর্চা না থাকলে অনেক কিছুই নিজের অনিচ্ছা সত্বেও ছেড়ে দিতে হয়। এবং আরও রূঢ়ভাবে এই সত্যটাকে মেনে নিলাম অনুবাদ কর্ম সহজ সাধ্য নয়। একটি ভাষা জানলেই যে তাকে সহজে নিজ মাতৃভাষায় ভাষান্তরিত করতে পারব, এই রকম ভাবটাই বড় একটা বোকামি। যেহেতু আমি প্রফেশনাল অনুবাদক নই, তাই এই লেখার সাথে মুল রিপোর্টটির স্ক্যান করা অংশ গুলোও জুড়ে দিলাম। এমনতো হতে পারে আমি যেমন করে একটি বাক্য কে বুজেছি আসলে সেটি সেরকম বুজায় না। এই সহজ সত্য অনেকে বুজতে পারেন না বলেই ধর্মীয় ব্যাপারে অতিমাত্রায় ভুল বুজাবুজির প্রাদুর্ভাব।
এই রিপোর্টটিতে
*Joanne Bailey, solicitor 30,Bradford;
* Aqeela Lindsay, Housewife & mother 26 leads; 
*Sukina Douglas, spoken-word poet,28, London; 
*Catherine Huntley, Retail assistant, 21, Bournemouth;
*Catherine Heseltine, Nursery school, teacher, 31, North London

মোট ৫ জন তরুণীর ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার আগে ও পরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে

আজ আমি রিপোর্টটির ভূমিকা সহ রিপোর্টটিতে বর্ণিত Joannae Bailely- এর  অভিজ্ঞতা আপনাদের  জন্য এখানে হুবহু অনুবাদ করে তুলে ধরছি, বাকি চারজনেরটাও আশা করি আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আপনাদের সামনে আনতে পারব আশা করি, তবে শর্ত একটাই, আপনাদের ফিডব্যাক। ভাল/খারাপ যে কোন ফিডব্যাক ই আমার পরবর্তী অনুবাদ কর্মের সলতেতে তৈল পাবে বলে আমি বিশ্বাস করি। 

                   YOUNG.BRITISH.FEMALE.MUSLIM
                    MEET THE NEW CONVERTS 
                   মূল রিপোর্ট - Sarah Harris
                  ভাষান্তর-     সৈ য় দ কা ম রা ন আ হ মে দ

মুসলিম মেয়েদের মৌলিক হেডস্কার্প হিসেবে হিজাব পরা নিয়ে বৃটিশ মহিলাদের জন্য এখন একটি বিতর্কিত সময়। গত মাসে ইউরোপিয়ান প্রথম দেশ হিসেবে বেলজিয়াম বোরকা নিষিদ্ধ করতে আইন পাশ করে, কারন হিসেবে তারা বোরকা কে মহিলাদের আত্ম সম্মানের প্রতি হুমকি বলে উল্লেখ করেছে। একি সিদ্ধান্ত নেয়ার পথে ফ্রান্স। এ মাসের প্রথম দিকে একটি পোস্ট অফিসের বাহিরে নেকাব পরার কারণে একজন মুসলিম মহিলাকে ৫০০ ইউরো জরিমানা করে ইতালি।
বর্তমানে যেখানে মোট জনসংখ্যার ২ শতাংশেরও কম লোক চার্চ অব ইংল্যান্ডের সাপ্তাহিক প্রার্থনা সভায় অংশ নেয় সেখানে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত মহিলাদের সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলছে। রিসেন্ট পার্কে অবস্থিত লন্ডন সেন্ট্রাল মাসজিদ’ ; যেখানে নও মুসলিমরা তাদের  ধর্মীয় বিশ্বাসের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়, তাদের প্রায় দুই তৃতীয়াংশই মহিলা এবং অধিকাংশের বয়সই ত্রিশ বছরের নীচে।
ধর্মান্তরের পরিসংখ্যান সুনির্দিষ্ট না হলেও ২০০১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী মুসলিম ধর্মান্তরিত বৃটিশ মহিলাদের সংখ্যা ছিল কমপক্ষে ৩০,০০০। Sawn sea - বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘Central for Migration Policy Research’ বিভাগের কেভিন ব্রাইস এর মতে এ সংখ্যা বর্তমানে ৫০,০০০ এর কাছাকাছি এবং অধিকাংশই মহিলা। ব্রাইস নিশ্চিত করেন যে, প্রাথমিক পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, এই ক্রম বর্ধমান ধর্মান্তরন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া কুড়ি থেকে ত্রিশ বছরের তরুণীদের মধ্যে থেকেই হচ্ছে বেশি। Dr Mohammad Seddon, lecturer in Islamic studies at the university of chester, তিনি তার এক ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেন যে, ‘আমাদের বহুজাতিক ২১ শতাব্দীর মুক্ত সমাজ হচ্ছে এমন, যেখানে আমরা আমাদের নিজস্ব ক্যারিয়ার, রাজনৈতিক মতাদর্শ পছন্দ করে নিতে পারি, বেচে নিতে পারি আমরা কে কোন ধর্ম বিশ্বাসী হবআমরা এখন ধর্মীয় সুপারমার্কেটএ বাস করছি’- বলেন তিনি। 

JOANNE BAILEY, Solicitor,30, Bradford.

প্রথমবারের মত আমি যখন অফিসে হিজাব পড়ি, আমি খুবই নার্ভাস ছিলাম। আমি বাহিরে দাঁড়িয়ে আমার বন্ধুর সাথে অনেক্ষন ফোনে কথা বলছিলাম। দুনিয়া শুদ্ধ সবাই কি বলবে?
আমি যখন হেটে ভিতরে প্রবেশ করলাম দুজন লোক আমাকে জিজ্ঞেস করল তুমি কেন এই স্কার্প পড়েছ। আমি জানতাম না যে তুমি একজন মুসলিম
আমি হচ্ছি সেই ব্যাক্তি যাকে ইসলামে ধর্মান্তরিত হওয়ার ক্ষেত্রে সবার শেষে আশা করা যেতে পারে।  সাউথ ইয়রকশিয়ারে আমি ছিলাম স্থায়ীভাবে বেড়ে উঠা কর্মজীবিদের একজন । এমন কি ইউনিভার্সিটিতে যাবার আগ পর্যন্ত আমি হঠাৎ কালে ভদ্রে দু একজন মুসলিম দেখেছি।
Barnsley- তে একটি সলিসিটর ফার্মে আমার প্রথম কর্মজীবন শুরুর দিকে, আমি সচেতনভাবেই চেষ্টা করতাম নিজেকে একজন তরুণ স্বাবলম্বী হিসেবে দেখতে।  অত্যধিক ডায়েটিং, কেনাকাটায়, বারে সময় কাটাতাম, কিন্তু কখনই আমি সত্যিকার অর্থে স্বস্তি বোধ করতাম না।
তারপর, ২০০৪ সালে, সব কিছু কেমন পরিবর্তিত হয়ে গেল। আমি আমার এক মুসলিম বন্ধুর সাথে কফি খেতে খতে আলাপ করার কালে সে আমার গলায় স্বর্ণের ক্রুশদেখতে পায়।
-সে বলল, ‘তুমি স্রষ্টায় বিশ্বাস কর তাহলে’?
-আমি এটা ধর্মীয় দিক থেকে নয় বরং ফ্যাশনের জন্যই পড়ি, আর হ্যাঁ, আমি স্রষ্টায়ও বিশ্বাস করিনা।
তখন সে তার ধর্মীয় বিশ্বাসের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথাবার্তা শুরু করল।
প্রথমে আমি তাকে পাত্তাই দিইনি, কিন্তু তার কথাগুলো আমার মনে গেঁথে গেল। এর কিছুদিন পর দেখি আমি নিজেই অনলাইনে এক কপি কোরআন শরীফ অর্ডার দিচ্ছি! ‘Leeds New Muslims Group’ দ্বারা পরিচালিত স্থানীয় একটি মহিলাদের অনুষ্ঠানে যেতে নিজেকে প্রস্তুত করতে বেশ সময় নিয়েছিল। আমার মনে পড়ে, দরজার বাহিরে দাঁড়িয়ে আমি তখন ভাবছিলাম
- ‘দুর ছাই, আমি এখানে কি করছি?’
আমি কল্পনা করছিলাম, সেখানে থাকবে সবাই পা থাকে মাথা পর্যন্ত কালো কাপড়ে ঢাকা, আমার মত ২৫ বছর বয়সী স্বর্ণ কেশী ইংলিশ মেয়ের সাথে তাদের কি মিল থাকতে পারে? কিন্তু আমি যখন ভিতরে প্রবেশ করলাম, দেখলাম তারা কেউই ঘড়ে আবদ্ধ সচরাচর মুসলিম গৃহিণীদের সাথে খাপ খায় না। বরং তাদের সবাই ছিল কেউ ডাক্তার, কেউ শিক্ষক এবং কেউবা মন বিশেষজ্ঞ। আমি তাদের মধ্যে যে পরিতৃপ্ততা আর দৃঢ়তা দেখেছি, তা দেখে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম। আমি মুসলিম হতে চাই- এই সিদ্ধান্ত নিতে আমি অন্য যে সকল বই পত্র পড়ে এগিয়েছিলাম, তার মধ্যে ঐ যোগসূত্রটাই প্রভাব রেখেছে বেশি।
চার বৎসর পরে ২০০৮ সালে আমি আমার এক বন্ধুর বাসায় আমার নতুন ধর্ম বিশ্বাসের ঘোষণা দেই। প্রথমে আমি খুবই উদ্বিগ্ন ছিলাম এই ভেবে যে আমি বোধহয় সঠিক সিদ্ধান্ত নেইনি। কিন্তু খুব দ্রুতই আমি স্বাভাবিক হয়ে উঠি যেমন ঘটে নতুন একটি চাকরী বা কাজ শুরুর কালে।
এর কিছু মাস পর আমি আমার বাবা মার কাছে বসে বললাম
- ‘ তোমাদের কে আমার কিছু বলার আছে
কিছুক্ষণের জন্য নীরবতা নেমে আসল।
তারপর আমার মা বললেন:
-তুমি মুসলিম হতে যাচ্ছ, তাই নয় কি?’
তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন এবং একের পর এক কথা আমার কাছে জিজ্ঞেস করতে লাগলেন যেমন তুমি বিয়ে করার পর কি হবে, তোমার নিজেকে কি ঢেকে রাখতে হবে, তোমার চাকরীর কি হবে?
আমি তাকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করলাম যে আমি যা তাই (আমার মতই) থাকব। কিন্তু তিনি আমার ভালর চিন্তায় অস্থির ছিলেন।
ইসলাম বিষয়ে অধিকাংশ মানুষ যে সকল বিপরীত চিন্তা করে, ইসলাম আমাকে কোন জবরদস্তি বা নির্যাতন করেনি বরং এটি আমাকে আমার মত হতে সাহায্য করেছে যে রকমটি ছিলাম আমি আমার জীবনভর। আমার যা আছে সেগুলো নিয়ে এখন আমি আরও বেশি সন্তুষ্ট এবং কৃতজ্ঞ। কয়েক মাস আগে একটি প্রশিক্ষণ কোর্সে পরিচয় হওয়া একজন মুসলিম আইনজ্ঞের সাথে বাগদান সম্পন্ন হয়েছে। ক্যারিয়ার বিষয়ে তার সাথে আমার কোন সমস্যাই নেই কিন্তু আমি মুসলিম পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যকার প্রত্যাশিত ইসলামিক নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থার সাথে একমত। আমি চাই আমার বাচ্চা ও সন্তানদের দেখাশুনা করতে এবং আমি আমার স্বাধীনতাও চাই। আমি একজন বৃটিশ হিসেবে গৌরব করি, একজন মুসলিম হিসেবেও গৌরব বোধ করি। এবং আমি তাদের মধ্যে কোন সাংঘর্ষিক কিছু দেখি না।       

Saturday, 23 March 2013

রাষ্ট্রপতি পদ ও আমার ক্ষোভ


মরহুম প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রাহমানের অসুস্থতা জনিত মৃত্যুর কারনে দলমত নির্বিশেষে সবাই শোকাহত। শোক কাটিয়ে এখন যে বিষয়টি টক শো থেকে সদরঘাট, সব জায়গায় যে ব্যাপারটি নিয়ে চায়ের কাপে সাইক্লোন উঠছে সেটা হচ্ছে কে হতে যাচ্ছেন আমাদের পরবর্তী সাংবিধানিক প্রেসিডেন্ট। সাংবিধানিক বলছি একারনেই যে, বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এবং বাস্তবতায় সর্বদল থেকে গ্রহনযোগ্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সম্ভব নয়। আওয়ামীলীগ কেন, বি এন পিও যদি আজকে সরকারে থাকত, তারাও সেই একই কাজ করতো আগামীতে বর্তমান সরকার যেটা করতে যাচ্ছে। কেননা আওয়ামীলীগ, তাদের নিজেদেরই দুই তৃতীয়াংশ আসন রয়েছে যার ফলে কারও মতামত না নিয়েই তারা প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে পারবে। আর অন্য যে ব্যাপার, সেটা কিছুটা শ্রতিকটু হলেও সত্য যে, আওয়ামীলীগ এর কি দায় পড়ছে যে এমন একজন কে প্রেসিডেন্ট নিয়োগ দিবে যে আওয়ামীলীগ এর কথা শুনবেন না। বিস্তারিত বলছি একটু পর।
সুতরাং এটা শতের উপর আরো এক শত নিশ্চিত যে আমাদের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট আসছেন দলীয় ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে, আওয়ামীলীগ পরিবার থেকেই।
আমার অবশ্য তাতে বিন্দু মাত্র আহ উহু নেই। খোলাসা করেই বলি। বাংলাদেশ এর প্রেসিডেন্ট নিয়ে আমার জানার দৌড় দশম শ্রেনীতে পড়া পাঠ্য বই। এর পর ইন্টারে পড়ারকালে একদিন পাবলিক লাইব্রেরী থেকে এনে পড়া একটি বইয়ের কয়েকটি বাক্যই প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে আমার ধারনা আমূল পাল্টে দেয়। বইটির পুরো নাম মনে নেই তবে লেখকের নাম মনে আছে; ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম। বইয়ের একপর্যায়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে উনার বক্তব্য মোটামুটি ছিল এইরকম বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন এমন একজন ব্যাক্তি যে মনে হবে তিনি ফেরেশতা, অফুরন্ত ক্ষমতার মালিক, তিনি যে করো মৃত্যু দন্ড মাপ করে দিতে পারেন, দেশের কোন আদালত পারবে না তাঁকে বিচার করতে বা গ্রেফতার পরওয়ানা দায়ের করতে। কিন্তু সংবিধানের আরেক জায়গায় রাষ্ট্রপতির কাজের ক্ষেত্র জানলে মনে হবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি স্রেপ একজন ‘সো পিস’। আসলেই কথা গুলো নির্মম সত্য। ঐ সময়ে হাতের কাছে বাংলাদেশের সংবিধান এর কোন কপি না থাকার কারনে কথা গুলোর সত্যতা যাচাই এর কোনই সুযোজ ছিলনা। কিন্তু সৌভাগ্য ক্রমে গত কয়েক মাস আগে ‘বাংলাদেশ সংবিধান’ কপিটি হাতে পাই। এবং আমার কৌতহল দমাতে গিয়ে প্রথমেই ঐ রাষ্ট্রপতি অংশ পাঠ করি।    
এই দু এক দিনের রাষ্ট্রপতি বিষয়ক ভিবিন্ন টক-জাল-মিষ্টি কথা বার্তায় পুরনো ক্ষতটা আবার জেগে উঠল।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদটাকে আমার কাছে কেমন বেমানান লাগে। আর তত্বাবদায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিলের কারনে রাষ্ট্রপতি পদটা আরো বেশি ‘সিম্পল’। আমি সংবিধান বিশেষজ্ঞ নই। কিন্তু আপনারা অনেকে যে সামান্য বিষয় সম্পর্কে জ্ঞাত আমিও অনেকটা তেমন ই।
প্রকৃত পক্ষেই বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদটা যতটা না কাজের তারচেয়ে বেশি আনুষ্টানিকতার। ‘প্রেসিডেন্টের আর কি কাজ, মাজার জিয়ারত, ভিবিন্ন দিবসে ফুল দেওয়া আর বিদেশি মেহমানদের সাথে চা নাস্তা খাওয়া’ এই রকম একটা কথা কোন এক বাজারে প্রচলিত আছে। আমি কোনভাবেই এই রাষ্ট্রপতি পদটাকে প্রয়োজনীয় মনে করিনা। আমাদের মত গরিব দেশের এটা অনেকটা গরীবের হাতি পালনের মত।
রাষ্ট্রপতি বিষয়ক কয়েকটি অনুচ্ছেদ তুলে ধরছি, আনারা নিজেরাও ব্যাপারটা বুজতে পারবেন।
রাষ্ট্রপতির দায় মুক্তি: 
৫১। (১) এই সংবিধানের ৫২ অনুচ্ছেদের হানি না ঘটাইয়া বিধান করা হইতেছে যে, রাষ্ট্রপতি তাঁহার দায়িত্ব পালন করতে গিয়া কিংবা অনুরুপ বিবেচনায় কোন কার্য করিয়া থাকিলে বা না করিয়া থাকিলে সেই জন্য তাঁহাকে কোন আদালতে জবাবদিহি করতে হবে না, তবে এই দফা সরকারের বিরুদ্ধে কর্যধারা গ্রহনে কোন ব্যক্তির অধিকার ক্ষুন্ন করিবে না। 
(২) রাষ্ট্রপতি কার্যভারকালে তাঁহার বিরুদ্ধে কোন আদালতে কোন ফৌজাদারী কার্যধারা দায়ের করা বা চালু রাখা যাইবে না এবং তাঁহার গ্রেফতার বা কারাবাসের জন্য কোন আদালত হইতে পরোয়ানা করা যাইবে না 

ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকার : ৪৯। কোন আদালত, ট্রাইবু্যনাল বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত যে কোন দন্ডের মার্জনা, বিলম্বন ও বিরাম মনজুর করিবার এবং যে কোন দন্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস কেইবার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকিবে।


কি মনে হচ্ছে না আমাদের রাষ্টেপতি যিনি হবেন তিনি রাষ্ট্রীয় অসীম ক্ষমতার অধিকারী। কিন্তু আসল চমকটা তো এখানেঃ
(৩) এই সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুযায়ী কেবল প্রধানমন্ত্রী ও ৯৫ অনুচ্ছেদের(১) দফা অনুসারে প্রধান বিচারপ্রতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত রাষ্ট্রপতি তাঁহার অন্য সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কার্য করিবেন : 
তবে শর্ত থাকে যে, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে আদৌ কোন পরামর্শদান করিয়াছেন কিনা এবং করিয়া থাকলে কি পরামর্শ দান করিয়াছেন, কোন আদালত সেই সম্পর্কে কোন প্রশ্নের তদন্ত করিতে পারিবেন না। 

অর্থ্যাৎ একটু সরস কথায় বললে বুজায় প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন অন্যান্য মন্ত্রীর মতই উচ্চ পদস্থ সাংবিধানিক ব্যাক্তি যিনি তাঁর কাজের জন্য প্রধান মন্ত্রীর কাছে জবাবদিহিতা করতে হবে।
এই সহজ অর্থ বুজতে পারেন নই বলেই হয়ত ২০০১ সালে বি এন পি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের কাছ থেকে বদরোদ্দজা চৌধুরী কে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে ‘অপসারন’ করা হয়েছিল।
আশা করি আমার ভেতরের ক্ষোভটা কে কিছুটা হলেও ব্যাক্ত করতে পেরেছি। 

Tuesday, 19 March 2013

হুমায়ূন আহমেদের 'দেয়াল' ও কিছু কথা


হূমায়ুন আহমেদের দেয়াল ও কিছু কথা
                                    সৈ য় দ কা ম রা ন আ হ মে দ
  
                     বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্ট সাহেব জোহরের নামাজ শেষ করে চোখ বন্ধ করে জায়নামাজে বসে আছেন । .........।
 মোশতাক সাহেবের একাগ্র মনোযোগ ব্যাহত হল। মেজর রশিদের গলা-
'আপনি দেখি বঙ্গভবন কে মসজিদ বানিয়ে ফেলেছেন! সারাক্ষণ নামাজ কালাম পড়লে রাষ্ট্র কার্য্য পরিচালনা করবেন কিভাবে? ....
আপনার নামাজ শেষ হয়েছে? আমি জরুরী কাজ নিয়ে এসেছি। .........
- সেনাবাহিনী প্রধান জিয়াউর রহমান কে যে আটক করা এটা জানেন?
- জানি না। ডিজিএফই আমাকে কোনও খবর দেয় না। তারা আমাকে ভাসুর জ্ঞান করে। ভাসুর কে সব কথা বলা যায় না।
মেজর রশীদ বিরক্তির সঙ্গে  বললেন রসিকতা করবেন না, সময়টা রসিকতার জন্য উপযুক্ত না।
খন্দকার মোশতাক বললেন, অবশ্যই, অবশ্যই।
_______________________

হুমায়ুন আহমেদের  সর্বশেষ উপন্যাস 'দেয়ালের' কিছু অংশ হচ্ছে উপরিউক্ত অংশ। বইটির অধিকাংশ তথ্যই ঐতিহাসিক সত্য। আর প্রিয় লেখক তার 'হুমায়ুনি স্টাইলে' সেই তথ্যগুলোকে করেছেন আরও আকর্ষণীয়।ইতিহাসকে বর্ণনা করেছেন 'ঘড়ুয়াভাবে'
অনেকদিন পর প্রিয় লেখকের বইটি হাতে পেয়ে যুগপৎ আনন্দ আর বেদনা, দুটোই ছুঁয়ে গেছে। আরও কিছুদিন কি পারতেন না এই মহা পুরুষ আমাদের মধ্যে থাকতে? না, থাকলেন না, জীবনের চরম সত্যকে মেনে নিয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। স্রষ্টার ইচ্ছাই আমাদের শিরোধার্য।
_____________________________________

বইটি পড়ে ভালোলাগার চেয়ে  দুঃখবোধটা ছিল প্রবল। কে চায় হৃদয় খুড়ে দুঃখ কে জাগাতে। তেমনি আমাদের ১৫ই আগস্ট ও পরবর্তী সামরিক অভ্যুত্থান গুলো যেভাবে রক্তের স্রোত প্রবাহিত করেছিল, সেটা কতটা ভয়ংকর আর ধ্বংসাত্মক ছিল সেটা আজকের বাস্তবতায় অনুধাবন কিছুটা কষ্টসাধ্যই। ১৫ই আগস্ট পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ ক্যান্টনমেন্ট ও বংগভবন কেন্দ্রিক হওয়ার সাধারণ জনগণের উপর এর প্রত্যক্ষ প্রভাব ছিল অনেকটা লঘু, কিন্তু ছিল সুদূর প্রসারী। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাই মনে করি। আমি মনে করি ঐ সময়গুলো স্বাধীন বাংলাদেশের পারসোনালিটিনির্ধারণ করে দিয়েছে। এবং সেই পারসোনালিটি এখনো বিদ্যমান। আমার কাছে সে পারসোনালিটির একটা বিশেষ দিক হচ্ছে পারষ্পরিক অবিশ্বাস। এছাড়া আরও অনেক গুলি দিকও রয়েছে এই পারসোনালিটির যে গুলো আবার কয়েকটি স্ববিরোধী। যদিও সামরিক বেসামরিক অনেক লেখকই লিখেছেন আমাদের ঐ বিশেষ ক্রান্তিকাল নিয়ে তবুও আমি মনে করি এইসব বিষ্যের উপর গবেষনামুলক লেখার ঘাটতি রয়েছে।
জানি এই বইয়ের উপর শত শত রিভিউ লেখা হবে। ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ  দিবেন যে যার মত। আমি যেই যোগ্যতা রাখিনা তবে আমি আমার পাঠক রিয়েকশনহিসেবে বলব বইটিতে লেখক নিজে একজন দ্রষ্টা ছিলেন, তাই ঘটনা বর্ণনায় তিনি ছিলেন শতভাগ সৎ। তাই বইটি ইতিহাসের টেক্সট বুক হতে না পারলেও ইতিহাস বর্ণনায় বিশুদ্ধ নিঃসন্দেহে ।
বইতটি ঐতিহাসিক উপন্যাসটাইপের হলেও আসল এটা একটা নির্দিষ্ট ৫-৬টি বছরের সংক্ষিপ্ত নোট বুকবলা চলে। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের চারিত্রিক দূষণের ঐ কয়েকটি বছর সম্পর্কে উদাসীনদের আলসেদের জন্য তুলনামূলক অল্প পৃষ্ঠার নোটবুক হাসি ফোটাবে বলে আমার মনে হয়। আর চাপাবাজ  সুযোগসন্ধানী সুবিধাবাদী রাজনীতিবিদ দের কাছে এটা হতে পারে একটি বাইবেল।
লেখক নিজে মন্তব্য বা নিজের মতামত চাপিয়ে দেয়ার কোন চেষ্টাই করেন নি এই বইয়ে। সেটাই এই বইয়ের অন্যতম সৌন্দর্য। দু এক জায়গায় মনে হতে পারে তিনি করেছেন তবে আমি মনে করিনা সেটা চাপিয়ে দেওয়া,  বরং সেটা তাঁর লেখক হিসেবে মানব মনের অনুভূতিকে জাগিয়ে দেওয়া। আশা করি ব্যাপারটা উপলব্ধি করতে পারবেন অনেকেই।
বইটিতে বঙ্গবন্ধুর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এসেছে। এসেছে বঙ্গবন্ধু কে ঘিরে চাটুকার আর সুবিধাভোগী শ্রেণীর কথা। সবচেয়ে গুরুত্ব পেয়েছে রক্ষিবাহীনীর অপকর্ম। সে রক্ষীবাহিনীর দ্বারা লেখকের পরিবার তাদের বরাদ্দকৃত শহিদ পরিবারের বাড়ী বেদখল হয়েছিল এবং অনেক দেন দরবার করে বাসার দোতলাতে থাকার সুযোগ পেয়েছেন এবং নীচের তলা রক্ষীবাহিনীর একজন সুবেদারের জন্য ছেড়ে দিতে হল। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর নিগৃহীত সে রক্ষীবাহিনীর সুবেদার পালিয়ে গেলেন। তাঁর দুটি মেয়ে এসে লেখকের মাকে অনুরোধ করছে তাদের কে আশ্রয় দেয়ার জন্য। কারণ এখন তাদের পাবলিক মেরে ফেলবে। এই পরিমাণ ঘৃণা ছিল মানুষের রক্ষিবাহিনীর প্রতি। ক্ষোভ ছিল তুখোড় ছাত্র নেতা হিসেবে খ্যাত তোফায়েল আহমেদ কে নিয়েও। তিনিও ছিলেন রক্ষিবাহীনির সাথে।
   এসেছে খন্দকার মোশতাকেরও যেটা একেবারে প্রথমে বর্নিত সংলাপে বুজা যায় কেমন আমোদি ছিলেন তিনি। ছিলেন ক্ষমতা মসনদে বসার সুযোগ সন্ধানী । এসেছে প্রেসিডেন্ট জিয়ার সাধারণ সৈনিক জীবনের উল্লেখ।
 বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন সাব, প্রথম অস্থায়ী প্রসিডেন্ট সৈয়দ নজরুল ইসলাম সহ কামরুজ্জামান সাহেব ও ক্যাপ্টেন মনসুর সাহেবের মত চার নেতার নির্মম হত্যাকাণ্ড ইতিহাসের এক নির্মম ঘটনা, যা অশ্রু শিক্ত করবে চোখ।
কর্নেল তাহেরের মৃত্যুর (ফাঁসির)জন্য সামরিক প্রশাসক জিয়া দায়ী, এ সু প্রতিষ্ঠিত সত্য বইটিতে উল্লেখ থাকলেও জিয়ার এ ভিন্ন যে অন্য কোন উপায় ছিলনা, সেটা বইটিতে উল্লেখ করলে ভাল হত। বিপ্লবের নামে অফিসার হত্যার কাজ সিপাহীরা করতএবং সেই রেশ তখনও  কিন্তু কাটেনি। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছেন বলে যে অভিযোগ জিয়ার প্রতি সেটা মনে করি সত্য নয়। কর্নেল ফারুক, মেজর রশীদ, মেজর ডালিম কে দেশ ত্যাগে বাধ্য করেছেন বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বাঁচাতে নয়, বরং নিজেকে খুনিদের হাত থেকে বাঁচাবার জন্য। তবে তিনি নিজের সামরিক ক্ষমতা প্রয়োগে বাড়াবাড়ি করেছেন এবং তাঁর মূল্য তাঁকে দিতে হয়েছে চট্টগ্রামে।
আর অবধারিতভাবে অবন্তি ও শফিকদের হাহাকার মিলিয়ে যায় মিলিটারীদের বুটের কর্কশ শব্দের মাজে আর শাসকের খেয়ালী ইচ্ছায়।
বইটি এক বৈঠকেই পড়ার মত বই। অবশ্য এটা ঘটনার চেয়ে ঘটনা লেখকের কৃতিত্বই বেশি। আশা করি ভালো লাগবে সবার। তবে এক এক করে স্বীয় জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নিভে যাওয়া গল্পে পড়ে বিষাদের ছায়া পিছু নিবে, দীর্ঘশ্বাস পড়বে নিজের অজান্তেই ।।
                      ____________X_____________