Sunday, 28 April 2013

হেফাজতের দফা ও 'নাগরিক সমাজ'


পুঁজিবাদ নারীকে সর্বপ্রকার স্বাধীনতা দিয়েছে বলে আস্ফালন করে, অথচ ব্যাপার একই, উভয় ক্ষেত্রে। মেয়েদেরকে জড়পিন্ড বলে গন্য করা হয় সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায়, দামী ও সচল পুতুল বলে গন্য করা হয় পুঁজিবাদী ব্যবস্থায়। ঐটুকুই তফাৎ। কিন্তু উভয় ব্যবস্থাই অমানবিক, জড়পিন্ড যেমন মানুষ নয়, সচল পুতুলও তেমনি মানুষ নয়। নারী মুক্তি এদেশে ঘটেনি, নারীর অবস্থানের পরিবর্তন হয়েছে, গৃহাভ্যন্তর থেকে তাঁকে কোথাও কোথাও এনে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে প্রদর্শনীর প্রাঙ্গনে
উপরিক্ত কথাগুলো আমার প্রিয় একজন শিক্ষক (সরাসরি অর্থে নয়) যার লেখা আমাকে নতুন ভাবে, নতুন করে চিন্তা করতে অনুপ্রাণিত করেছে। যখনই তার কোন লেখা পড়েছি, নতুন কিছু শিখেছি, নতুন একটি জানালা আমার সামনে খুলেছে। প্রগতিশীলতার যা কিছু আমার কাছে সে উনার কাছ থেকেই শেখা। বিশেষ করে তার লেখার স্টাইল আমি না চাইলেও চলে আসে আমি যখন কোন কিছু লিখি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ডঃ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।
কিন্তু সে তাকেই যখন সেদিন ‘নাগরিক সমাজের’ ব্যানারে উপস্থিত হয়ে বর্তমান হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফার বিশেষ কয়েকটি দফা নিয়ে সমালচনা করতে শুনি, খুভ খারাপ লাগল তখন। আপনিও কি করে পারলেন চলমান স্রোতে গা ভাসিয়ে দিতে? তাই সন্দেহ আসে এই তিনিই কি তার অন্য একটি লেখায় উপরের কথা গুলো লিখেছিলেন নারীর বর্তমান অবস্থানের উপর?
বর্তমান সময়ে হট টপিক হচ্ছে হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা। দাবী মানা হবে কিনা সেটা ভিন্ন কিন্তু সেই দফাগুলোর পোস্টমর্টেম করা হচ্ছে প্রতিদিন। সেগুলো দেখে নিজে কিছু লেখার আর প্রয়োজন মনে করিনি। কিন্তু এখন যাদের কাছ থেকে হেফাজতের দফা গুলোর ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ পড়ছি তাতে মাথা হট হয়ে যায়।
আজকে যারা ভিবিন্ন ব্যানারে প্রগতিশীলতার ধোঁয়া তুলছেন, মৌলবাদ এর কথা বলছেন, এগুলো কিন্তু নতুন কিছু না। আপনি আমি যদি একটু গভীরভাবে লক্ষ্য করি তবে দেখব এখন যারা মৌলবাদ নিয়ে, ইসলাম ফোবিয়া নিয়ে কথা বলছেন তারা সে অনেক আগে থেকেই বলেছেন। আমার মনে আছে ৯৬ এর পর আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাদের এই মৌলবাদ ফোবিয়া’র পারদ উপরের দিকে উঠা শুরু। পত্রিকার প্রতিদিনের কলামে, প্রবন্ধে-নিবিন্ধে ঐ একই সুর, মৌলবাদে দেশ ভরে গেছে। বাংলাদেশ আফগানিস্থান হতে আর বেশি দিন বাকী নেই। কিন্তু আমরা কি দেখলাম দেশতো আফগানিস্তান হইনি, বরং ২০০১ বি এন পি জামাতের সরকার।
সেই প্রথম থেকেই তাই আমার মনে হচ্ছে এদের, এইসব বুদ্ধিজীবীর আসলেই অন্য কোন দায় নেই। তাই এ নিয়েই পড়ে থাকেন দিন রাত। মৌলবাদ, জঙ্গীবাদ এইসব নিয়ে। জানিনা এতে তাদের কি লাভ, কিন্তু তাদের যে মেধা আর সম্মান, সেটা যে দিন দিন ক্ষয়ের দিকে সেটা বুঝতে বাকি থাকেনা। আর সেই দিনের নাগরিক সমাজের ব্যানারে তাদের চেহারা দেখে আরো বেশি নিশ্চিত হলাম। হেফাজত কি এমন দফা দিল যে সেটা নিয়ে আমাদের বাঘা বাঘা বুদ্ধিজীবিদের নিদ হারাম হয়ে গেল। নাকি, ঐ অসুখটাই আসল, তাদের বক্তৃতা আর প্রগতিশীলতা দেখানোর, বাহাদুরি দেখানোর মোক্ষম বিষয় সামনে এসেছে, চুপ থাকেন কি করে।
সবাই জানেন, হেফাজতে ইসলামের দফা নিয়ে প্রথম প্রথম কেউ তেমন রা করেন নি। কিন্তু যখন সেটি একটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে চলে গেল এবং সেটা নিজেদের অস্তিত্বের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াল, তখনই শুরু হল অপপ্রচার। অপপ্রচাইতো বলব। আমি খুব ভালো করেই জানি তারা হেফাজতে ইসলামের দফা গুলো ভালো করেই বুঝেছেন। এক এক জন ডক্টরেট, তদেরকে যদি ‘অবাধ মেলামেশা’ ‘বেহায়াপনা’ ‘অবাধ বিচরন’ টাইপের শব্দ কে ব্যখ্যা বিশ্লেষণ করে বুজাতে হয়, তবে এর চেয়ে লজ্জাজনক ব্যাপার আর কি হতে পারে।
হ্যাঁ, যতদুর দেখা যাচ্ছে আমাদের বুদ্ধিজীবীদের বর্তমান মাথা ব্যাথা হেফাজতের এই দফা নিয়ে
 ব্যক্তি ও বাকস্বাধীনতার নামে সব বেহায়াপনা, অনাচার, ব্যভিচার, প্রকাশ্যে নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ, মোমবাতি প্রজ্বলনসহ সব বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে হবে
আরেকটা দফা হয়ত তাদের কিছুটা বিরক্ত করেছে সেটা হচ্ছেঃ
 মসজিদের নগরী ঢাকাকে মূর্তির নগরীতে রূপান্তর এবং দেশব্যাপী রাস্তার মোড়ে ও কলেজ-ভার্সিটিতে ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন বন্ধ করতে হবে।
এখন কথা হচ্ছে আসলেই কি তারা এই সব শব্দের ভুল অর্থ করেছেন নাকি ইচ্ছা করেই ভুল অর্থ দাড় করাচ্ছেন? আমি তাতে এমন কিছু পাইনি যাতে তাদের মত মনে হবে এই দফায় দেশ ১৩০০ বছর পিছনে চলে যাবে। কেউ কেউ বলছেন মধ্যযুগে দেশ চলে যাবে।
সত্যি কথা বলতে কি এইরকম কথা বার্তা আমরা  কিছু কিছু সুবিধাবাদী ব্যাক্তি ও লম্পট রাজনীতিবিদদের কাছে থেকে শুনে অব্যস্থ। তাই আমাদের জাতীয় পর্যায়ের ডক্টরেট গনদের কাছ থেকে এই রকম বাক্য শুনে আমি কেন যে কোন স্বাভাবিক চিন্তার মানুষ ‘টাসকি’ খাবে। হেফাজতের দফাগুলো নিয়ে একজন মুসলিম হিসেবে আমার কোন আপত্তি নেই বিশেষ করে যে দফাগুলোতে আমাদের সুশীলগণ মধ্যযুগের চুলকানি অনুভব করেন। তাই কে কি বললেন তাতে আমার মাথা ব্যাথাও নাই। তবে সঙ্কা যে নেই তা কিন্তু না। যাই ঘটুক এই চাপ্পান্নহাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশেই ঘটবে, সুতরাং ভুক্তভোগী সে আমরাই হব।
কিন্তু আমার চিন্তা অন্য বিষয়ে। কেন আমাদের বিশিষ্ট নাগরিক সমাজ অধিপতিদের কাছে হেফাজতের দফাগুলোকে মধ্যযুগীয় মনে হবে, কেন মনে হবে বাংলাদেশ আফগানিস্তান হয়ে যাবে? দেশ পিছিয়ে যাবে ১৪০০ বছর পিছনে? যেহেতু তারা চিন্তাশীল মানুষ তাদের চিন্তারোতো একটা দাম আছে। তাই সেটা মেনে নিয়ে আরো দু একটি কথা বলতে চাই।
তাঁদের বক্তৃতা আর আবেগী গলার বক্তব্য থেকে এ কথা মোটামুটি পরিষ্কার বাংলাদেশের এখন একমাত্র সমস্যা হচ্ছে হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা। কেটে চেটে সেটা আসলে ইসলাম কিংবা ইসলামিক মৌলবাদ। (কারন তাঁদের কাছে ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো আগে যেমন এখনও তেমন, মৌলবাদ হিসেবেই পরিচিত। আমার মনে আছে যখন ইসলাম প্রিয় জনগনের সংবদ্ধতাকে উনারা মৌলবাদের সাথে তুলনা করতেন তখন প্রথম দিকে খারাপ লাগত। পরে যখন আমরা স্বীকার করলাম এবং দ্বের্থহীন ভাষায় বললাম হ্যাঁ, আমরা মৌলবাদী, ইসলামের মৌলিখ বিষয়ের সাথে আমরা কোন আপোষ করিনা, তখনই তারা চুপসে গেলেন, মৌলবাদ শব্দ আজকাল আর এত বেশি শুনা যায় না, যেমন শুনা যেত ১৯৯৪-২০০০ সালের দিকে ।) সুতরাং তাঁদের কথা মেনে নিলে সেটা দাড়ায় সেটা হচ্ছে-এদেশে ইসলাম ও ইসলামিক ভাবধারার জনগন ই মুল সমস্যা। এর বাহিরে আর কোন সমস্যা নাই, অন্তঃত বিরাট সেমিনার করে সেটা ফলাও করে নিজেদের সুশীলতা প্রচার করার মত। কিন্তু আমার কুঠিল মন তাঁদের এই সরলতার মধ্যে ছিদ্র দেখতে পায়। তাই আমার প্রশ্ন- বাংলাদেশে যখন দুর্নীতির বন্যায় ভেসে যায় তখন দেশ পিছিয়ে যায় না। প্রতিবছর বন্যার বাধ ভেঙে হাজার হাজার পরিবারের উদ্ধাস্তু হয়ে মানবেতর জীবন যাপনে বাধ্য হয়, তাতেও দেশ পিছায় না। সন্ত্রাসী, চাদাবাজ, ঋণ খেলাফি, ঘোষখোর চাকরিজীবী আর সন্ত্রাসের গডফাদাররা সংসদ সদস্য হয়ে আমাদের ভাগ্য নিয়ন্তা হয়ে বসে, তাতেও আমার দেশে কিছু যায় আসে না। লঞ্চ ডুবিয়ে মানুষ হত্যায়ও কোন বর্বরতা হয় না। বহুতল  আর গার্মেন্টস এ গেইট লাগিয়ে জীবন্ত মানুষ দগ্ধ করাতে মধ্যযুগীয় বর্বরতা হয় না। প্রতিদিনের খুন, গুম আর বিপরীত মতের লোকদেরকে অত্যাচারে দেশের ভাবমুর্তি প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে নিশ্চয়ই। এতেও দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ভাবতে ভালোই লাগে। চারিত্রিকভাবে দুর্বল অতি কথকরা যখন আমাদের সাধারনের সুখ দুঃখ নিয়ে উপহাস করেন তাতেও আপনাদের কিছু যায় আসে না। আপনারা সুবিধাভূগী উচ্চ মধ্যবিত্তরা সেই সব হাহাকার শুনেন না। তাই আজ হেফাজতের ১৩ দফাই আপনাদের চোখে ভয়ংকর হয়ে দেখা দিয়েছে। হেফাজতকে না থামালে দেশের স্বাধীনতা থাকবে না! সত্যিই করে বলুনতো, বুকে হাত দিয়ে, চার পাশ দেখে বলুনতো – এই চলমান বাংলাদেশে এই অরাজকতায়, এই দুর্বিসহ জীবনে হেফাজতের কি আদৌ কোন দায় আছে?
না, আর কিছু বলার নেই। সেদিনের নাগরিক সমাজের সেমিনারে আপনারা যদি এই কোথাগুলোও বলতেন দীপ্ত কন্ঠে, তবে বুজতাম দেশের প্রতি আপনাদের এ দরদ খাটি। কিন্তু পারছি না। আর আপনারাও পারেন না সকল জায়গায় সব কিছু বলতে। তা না হলে যে যারা আপনাদের সম্মানিত করে, পুরস্কার দেয়, টেলিভিশনে আপনাদের থক থকে চেহারা ভিবিন্ন এঙ্গেল থেকে দেখায় সেটা যে আর হবে না। সামাজিকভাবে আপনারা হয়ে যাবেন বন্ধ্যা। আমার ইদানীং কেন জানি মনে হয়, আপনারা আসলেই বন্ধ্যা, কেবল আপানদের প্রতিভাগুনে আমরা সেটা বুজতে পারি না, আমাদেরকে বুজতেও দেন না।  এর চেয়ে বেশি কিছু বলা আমার শোভা পায় না। আপনারা উচ্চ শিক্ষিত, আপনাদের প্রতিভা আমার দেশের সুনাম উচ্চ করে। তাই আপনাদের কিছু বলার দুঃসাহস আমি দেখাই না। শুধু আপনাদের মতই উচ্চ শিক্ষিত, প্রগতিশীল মানুষের উক্তি দিয়ে শেষ করছি –
      ‘আধুনিক প্রচার মাধ্যমগুলো অসংখ্য শুয়োরবৎসকে মহা মানব রুপে প্রতিষ্ঠিত করেছে ( ডঃ হুমায়ূন আজাদ)
( এই লিখা ‘সাভার ট্রাজেডি’ শুরুর দুদিন আগে লিখা, তাই উপরে উল্লেখ করা হয় নি। এই সাভার ট্রাজেদিকেও নিশ্চয়ই মধ্যযুগীয় বর্বরতায় ফেলা যায় না? হেফাজতে ইসলামের দফা গুলো সরকার মানুক কিংবা না মানুক একদিক থেকে ভালোই হল যে আমাদের কিছু বর্নচোরা বুদ্ধীজীবিদের আসল চেহারা চেনা গেল, যারা ধর্ম হিসেবে ইসলামকে শিখেলে ভাবেন, ১৩০০ বছরের পুরনো নিয়ম কানুন হিসেবে মানেন ও দেখেন এবং মনে করেন এই স্মার্ট ফোনের যুগে ইসলাম অচল। আর এটা যদি উনারা ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে বলেন ইসলামিক পরিভাষায় এর পরও তারা মুসলমান কিনা সেটা একটি বিরাট ভাবানার বিষয়, যদিও মুখে তারা স্বীকার করতে চান না।) 

Sunday, 14 April 2013

প্রতিবাদহীন বর্তমান বাংলা গান, বিদ্রোহ নেই আছে প্রচণ্ড রুমান্টিসিজম


যে কোন সমাজে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ করার অন্যতম মাধ্যম বা উপায় হচ্ছে গান ও কবিতা। এটি যে কোন সৃষ্টিশীল ও সুস্থ সমাজের একটি বহিঃপ্রকাশও বটে। ইতিহাসের প্রতিটি ক্লান্তিকালে গান ও কবিতা এনেছে প্রাণ। আমাদের মহান মুক্তি যুদ্ধে গাওয়া স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত গানগুলোই তার প্রমান। গানের ক্ষেত্রে বলা – আমাদের দুর্ভাগ্য এই যে স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে জাতীয় দুর্দিনে দেশের জনগন কে একটি প্লাটফর্ম দাড় করাবার মত গান সৃষ্টি হয়নি। যা দু একটা হয়েছে সেটা সময় ও চাহিদার অনুপাতে না হওয়ারই মত। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে যে অংশ প্রচুর গান শুনে তাদের কে উৎসাহিত, আলোড়িত করার মত কোন গানই এ যাবত কালে সৃষ্টি হয়নি। বয়সের রোমান্টিকতাকে প্রাধান্য দিয়েই আধিকাংস শিল্পী নিজেদের ক্যারিয়ার গড়েছেন। যা দু একটা করেছেন সেটা দেশাত্ববোধক বলে যেটা বুজি সেই রকম। প্রতিবাদ বা বিদ্রোহ মুলক গান নেই বললেই  চলে। অর্থ্যাৎ আমাদের ‘আধুনিক গান’ বা ‘নতুন প্রজন্মের গান’ যারা শুনে তারা এই বিশাল শুন্যতা নিয়ে নিজেদের রুচিকে শানিত করছে। তাই আজকাল রুমান্টিক গান তরুণ-তরুণীদেরদের মুখে ও এয়ারফোনে যে পরিমানে উপস্থিত দেশ, সমাজ, রাষ্ট্র নিয়ে, বাস্তব জীবন সংশ্লিষ্ট গানগুলো নাই বললেই চলে। আর এই শুন্যতা আজ কাল আমরা আমাদের উঠতি বয়সি তরুন তরুণীদের আঁচার আচরনে সেই অভাবটা একটু করুনভাবেই দেখছি। আসলে এ নিয়ে আরো অনেক কিছু বলার আছে, লিখার আছে। স্বল্প পরিসরে সেগুলো বলা বা ব্যাখ্যা করাও সম্ভব নয়।
না, একদম হতাশ হওয়ারও আমাদের কিছু নেই। এই তরুন-তরুনীদের আরেকটি অংশ কিন্তু পেয়েছে। বাংলাদেশে ব্যান্ড সংগীত নামে যে নতুন ধারা, সে ধারাতেই আমারা শুনেছি অনেকগুলো সফল বিদ্রোহী- প্রতিবাদী গান। সে অর্থে আমাদের ব্যান্ড সংগীত দেশ ও সামজের অবক্ষয়মুলক দিকগুলো তুলে আনতে অন্যতম প্রধান ভুমিকা রেখেছে। একটা সময় ছিল এই সঙ্গীতের প্রতি মোটামুটি সবার একটা নাক সিটকানোভাব ছিল। তাই প্রাথমিক দিকে যে সকল ব্যান্ড দল ও শিল্পী অনেকটা সাধারণের পছন্দের বাহিরে ছিল। সাধারনত প্রধান কিছু বড় বড় শহুরে পরিবেশে ব্যান্ড গানগুলো সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন সেটা মোটামুটি সকল মফঃস্বল শহরেরই স্ট্যাটাস। যাদের গানগুলো কলেজ – ভার্সিটি পড়ুয়াদের টুঠে শুনা যেত তাদের গানই এক সময় চলে আসল হাই স্কুল পড়ুয়াদের টুঠে। (ব্যাক্তিগতভাবে আমি এই শ্রেনীর।) ব্যান্ড সঙ্গীতের নাড়িয়ে দেবার, আলোড়িত করার ক্ষমতা কিন্তু এক দিনে হয় নি, একজনের দ্ধারাও হয়নি। তাই সেই ইতিহাস আপাতত এখানে টানছিনা।
বর্তমানে যে সকল ব্যান্ড রয়েছে তাদের কাছ থেকেও আসছে প্রচুর বিদ্রোহী ও প্রতিবাদী গান।
ব্যান্ড সঙ্গীতের সাথে বর্তমানে যারা সংযুক্ত তাদের কেউ কেউ নিজেদের আন্ডারগ্রাউন্ড ব্যান্ড হিসেবে প্রচার ও বলতে দেখা যায়। তবে এখানে কিছুটা বিভ্রান্তি আছে। আছে বিতর্কও। তারপরও তাদের কেউ কেউ চরম কিছু বিদ্রোহী ও প্রতিবাদী গান গাচ্ছে; যদিও তাদের নাম বা ব্যান্ডের নাম সাধারন শ্রুতা বলতে যা বুজায়, তাদের কাছে সম্পুর্ন অপরিচিত। বর্তমানে সেটা আরো প্রকট। এটা হয়ত শ্রোতা শ্রেনীর বিভাজন কে মেনে নিয়েই হয়ত।
একটা ব্যাপার এই ফাঁকে বলে নেয়া অযুক্তিক হবে না যে, ব্যান্ড এর গান আর আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে গাওয়া গান এক ব্যাপার না। এবং এটা মনে রাখা দরকার যে বর্তমানে যারা অত্যাধুনিক মিউজিক সিস্টেম ব্যবহার করে গান তৈরী করছেন, ভিবিন্ন শিল্পীকে প্রমোট করেছেন, তারাও কিন্তু ব্যান্ড শিল্পী নন, নয় তাদের গানও। বর্তমান ব্যান্ড দল ও ব্যান্ড শিল্পীকে এই বিষয়ে আরো মনযোগ দেয়া উচিৎ, উচিৎ নিজেদের অবস্থার ও অবস্থানের স্বকীয়তাকে রক্ষা করা।
আমার লেখাটা কিছু অগুছালো জানি। মাকসুদ ও ঢাকা (এক্স ফিডব্যাক)এর একটি গান গুলো শুনে চার পাঁচ লাইন লিখব নেটবুক খোলা।
(ছয় বছরেরও উপর প্রবাশে, নিয়মিত তাদের গান শুনা হয়না, কিন্তু ইন্টারনেট ঘেটে যে সব গান শুনে আসছি ও সংগ্রহ করছি, সে অভিজ্ঞটা থেকেই লেখা।, ফাকঁ বা জানার, শুনার ফাঁক কিছু থাকবেই, আপনারাও ব্যাপারটা সহজভাবে নিবেন আশা করি।)  
যে গানটি শুনে এই লেখার চিন্তা সেটার লিং দিচ্ছে, আপনারাও বুজতে পারবেন পুরো ব্যাপারটা।(আমার দৃষ্টিতে এই একটি প্রায় পুরো এ্যালবামে দেশ, সমাজ ও রাস্ট্রের কুৎসিত দিক গুলো নিয়ে সোচ্চার হয়েছে, এর আগে কেউ এইরকম হইনি, সাম্নেতে হবে কিনা সেটাও দেখার বিষয়।

https://soundcloud.com/abu-shakil/maksud-o-dhaka-gonotontro

এবং
ইউটিউব লিং
https://www.youtube.com/watch?v=YEnTtQPwhh8

অথবা  Viemo -তে

http://vimeo.com/64030743

সবাই কে শুভেচ্ছা

Saturday, 13 April 2013

মানুষের প্রতি মানুষের এই হিংস্রতা অন্ধকার যুগের কথাই মনে করিয়ে দেয়


মাজে মধ্যে ভাবি- আল কায়েদা ও অন্যান্য চরম পন্থিরা আমাদের চেয়ে অনেক ভাল, অন্তত তারা মানুষ মেরে তার দায় স্বীকার করে, কিন্তু আমাদের এখানে কেউ স্বীকার করে না।
এই কি সেই বাংলাদেশ- জাতীর সাত শ্রেষ্ঠ বীর সহ তাজউদ্দীন, উসমানি, জিয়াউর রহমান, ব্রিগ্রেডিয়ার খালেদ মোশারফদের নিয়ে সাতকোটি 'বাংলাদেশীর' চৌদ্দকোটি হাত প্রসারিত করেছিল- স্রষ্টার কাছে - 'হে বিশ্ব প্রতিপালক, এই জনপদ কে অত্যাচারী জালেমের হাত থেকে মুক্ত করে দাও, আমাদের লাঞ্চনার দিনগুলোর অবসান ঘটাও' -
কিন্তু ফল তাতে কি হল--- আমার তো মনে হয় আমরা যারা সাধারন, তাদের অবস্থা বরং কড়াই থেকে অংগারের মধ্যে প্রতিস্থাপন।
গত পরশু ফটিকছড়িতে যে হত্যাযগ্গ হল, সেটা শুনে এবং আজকে বেশ কয়েকটি ভিডিও দেখে উপরিক্তো কথা গুলোই বার বার মাথায় চক্কর দিচ্ছে।
দায়টা কার বেশী সেটা না হয় উহ্য থাকল, কিন্তু মানষের প্রতি মানুষের এই ঘৃণার দায়বার কেউ নিবে না জানি। আজ হয়ত ঐ জায়গায় আমি থাকলে একটা পক্ষ আমাকে নিতেই হত। কেউ ই চায় না ঘাতকের হাতে নিজের সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ তার জীবনটাকে তুলে দিতে। কিন্তু আমার জানতে ইচ্ছা করে আমাকে ঐ জায়গায় টেনে নিল কে????
আমি বিশ্বাস করি ঐ ঘটনায় আপানদের (হেফাজতে ইসলামের) সংগঠন হিসাবে কোন ভুমিকা ছিলনা, তবুও আপনাদের উচিৎ এই ঘটনার জন্য আপনাদের অবস্থান সবার কাছে পরিষ্কার করা। শিবির কিংবা জামাতের প্রতিরোধ বা প্রতিশোধের কিংবা স্থনীয় জনগনের কথিত প্রতিরোধের দায় কেন আপনারা নিবেন?
আমি আগেও লিখেছি এখনো লিখছি- হেফাজতে ইসলামের নেতৃবিন্দ, সতর্ক থাকুন আপানাদের চারপাশে কে ? কেউ কি আপনাদের ব্যবহার করছে? অতি উৎসাহীদের থেকে সতর্ক থাকুন।
আর অন্ধভাবে যদি চলেন আমাদের আবেগ কে পুজি করে, তবে আপনাদের পরিনতিও যে খুভ ভালো হবে সেটা আমি বিশ্বাস করিনা, অন্তত: আগামী দিনের ইতিহাস আপনাদের ক্ষমা করবে না।

Thursday, 4 April 2013

মাথার ভেতর পোকারা করে কিল বিল


মাথার ভিতর বেশ কয়েকটি বিষয় কিল বিল করছে............ শেয়ার না করে  যে পারলাম না।

** বাংলাদেশ দেশ থেকে যে সকল পেইজ বিশেষ করে পার্টিকুলার মত ও দলের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করে তাদের এডমিন গুলোকে আমার মানুসিকভাবে অসুস্থ মনে হয়। '১৮ দলীয় জোট' নামে একটি পেইজ এর স্টাটাসে দেখলাম শামীম ঊসমানের হেফাজতে ইসলাম এর নং মার্চ এ সমর্থনে একটি মিটিং।  ঐ স্টাটাসে একটি বাক্য পড়ে আমিতো টাস্কি খাইলাম। ফেইসবুকে এইসব মস্তিষ্ক বিকৃতরাও লাইক শেয়ার পায়? শামীম ঊসমানের ঐ সমর্থন দেখে স্টাটাস দাতার হযরত উমর রাঃ এর ইসলাম গ্রহনের কথা মনে পড়ে গেল! কতবড় টাল হলে এইরকম স্টাটাস কেউ দিতে পারে সে ভাবনা আর ভাবছিনা......।
https://www.facebook.com/photo.php?fbid=615309875149905&set=a.435320413148853.117552.435316696482558&type=1&theater

'টিনের চালে কাক, আমিতো অবাক' এই পেইজ এর সট্যাটাস পড়ে যে কোন ভদ্র লোকের ই মুখে অশ্লীল গালি চলে আসার সম্ভাবনা স্বাভাবিক। প্রজন্ম চত্বরের মৌলিক দাবীর প্রতি সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক আবেগ কে তারা ধরে নিয়েছে তাদের সকল চিন্তা, কর্ম কান্ডের প্রতিও সাধারণ মানুষের সমর্থন রয়েছে। তারা ভুলে যায় তাদের অবস্থান। 'বাশের কেল্লা' আর তাদের মধ্যে যে বিষয় বস্তু ছাড়া গুন গত কোন পার্থক্য নাই সেটা বুজতে পিএইচডি লাগেনা, হাই স্কুল পাশ দিলেই চলে। 'বাসের কেল্লা' ধর্মীয় ব্যাপার সামনে এনে যেমন মাথা ধুলাই দেয় তেমনি 'টিনের চালে কাক, আমিতো অবাক'রাও মুক্তিযুদ্ধ আর স্বাধীনতার পক্ষ বিপক্ষ নিয়ে চাপাবাজি করে সহানুভূতি আর মানুষ কে বিভ্রান্ত করতে সকল কুটিলতাই তারা প্রয়োগ করে। মিথ্যা আর নিজেদের প্রপাগান্ডা করতে গিয়ে মাজে মধ্যে বাশের কেল্লাকেও শত মেইল পিছনে ফেলে দেয়। তবে গত কিছুদিন থেকে এই পেইজ থেকে বেগম জিয়া কে সরাসরি ইঙ্গিত করে যে সকল পোষ্ট দিচ্ছিল তাতে আমার মনে হয়েছে এই পেইজ এর এডমিনরা আর যাই হোক কোন ভদ্র পরিবারে সন্তান নয়। আর  গত দুদিন থেকে এই পেইজ থেকে আল্লাম শফি সাহেব কে নিয়েও এই পেইজ চরম অবজ্ঞা করছে। মৌলবাদী, হেফাজতে জামাত তো বলছেই সাথে সাথে উনাকে ব্যাক্তিগতভাবে মুনাফিক আখ্যা দিতেও মুখে আটকাচ্ছে না। এখন আমি নিশিচত কোন ভদ্র বাঙ্গালী (মুস্লিম কিংবা অমুসলিম) পরিবারের ছেলে বা মেয়ে) এই পেইজ এর সাথে নেই। আরে বাবা তোমার মতের সাথে মিল না তাহলে আমাকে গালি দিতে হবে। আর আমাদের সমাজ বিজ্ঞানীরাতো এদের পরিচয় অনেক আগেই দিয়ে গেছেন যারা অন্যকে গায়েল করতে অশ্লীল বাক্য আর গালি ব্যাবহার করে। এরা হচ্ছে তারা যারা মূল উৎপাঠিত, শিখড়হীন, কচুরিপানার মত অবস্থান সমাজের মধ্যে। এর বেশি কিছু বলার রুচি আসলেই আমার নেই এদের প্রতি। 

 একটা প্রবণতা দেখছি কিছু মুখ পরিচিত 'সামাজিক যোগাযোগ' ব্যাক্তিদের মধ্যে। একটা গা বাঁচানোর প্রবনতা। এতদিন যারা সজ্ঞানে, স্ববোধে, অতিউৎসাহী হয়ে বর্তমান সরকারের চাটুকারীতা করেছেন, তাদের অপকর্মের প্রতি সমর্থন দিয়েছেন, দেখেও না দেখার ভান করেছেন, সত্যকে স্বীকার করার প্রতি দেখিয়েছেন অস্বাভাবিক নির্লিপ্ততা আজকে তারাই বলছেন,' আমারা জানতাম আওয়ামীলীগ এইরকম করবে, গাছে তুলে মই কেড়ে নিবে, আওয়ামিলীগ কে চিনে রাখলাম, তাদের অপকর্মকে মেনে নেইনি' ইত্যাদি ইত্যাদি; তখন তাদের এই বর্ন চোরা স্টাইল আর স্টাটাস দেখে এই বরফ শীতল দিনেও  বেশ উষ্ণতা বোধ করি। বিনা গ্যাস ইলেকট্রিক খরচে এই উষ্ণতা আসলেই তুলনাহীন। অন্য অনেকের সব স্ট্যাটাস পড়ার সুযোগ হয়না, তবে কিছুদিন যাবত নিজুম মজুমদারের স্টাটাস গুলো পড়ি মনেযোগ দিয়ে। আর যাই হোক  এ দেশে থেকে আমাদের দেশের প্রচলিত চিন্তা ভাবনা থেকে হয়ত উনার চিন্তা ভাবনা একটু ভিন্ন হবে, কিন্তু না যে চর্বন একবার উনি শুরু করেছেন, সেই চর্বিত চর্বন ই এই শীতের দেশে এসেও চালিয়ে যাচ্ছেন, ‘লন্ডনীস্টাইলে। এখনো উনারা মাদ্রাসা শিক্ষা কে জঙ্গি উৎপাদনের উর্বর ক্ষেত্র হিসেবেই দেখেন। ধর্মীয় অনুভূতির বাহ্যিক চরম প্রকাশ কে দেখেন মৌলবাদির উথ্বান কে। আমার হাসি পায় এদের চিন্তা ভাবনার গোড়ামি দেখে। এরা এখনও রয়ে গেছেন সেই একই কাসুন্দি গাওয়াতে ।  অবশ্য এর বাহিরে গিয়ে কোন কাসুন্দি গাওয়ার মোলিক কোন সৎ ইচ্ছা আছে কিনা সেটাও ভাবার বিষয়। তবে একটা ব্যাপার উনাদের বলতে চাই, যদি বেয়াদবি না নেন, আপনারা ছলে, কৌশলে, কথার মার প্যাচে, যেভাবেই ইসলামিক এই সংগবদ্ধতাকে মৌলবাদহিসেবে আখ্যায়িত করেন না কেন, এই মৌলবাদ থাকবেই, অন্তত আপানাদের মত বর্নচোরা ব্লগার আর মুক্তমনারাথাকবেন।আপনারা তাদের হাতে তীর তুলে দিবেন আর তারা সেটা হাতে করে সাজিয়ে সুজিয়ে আয়জন করে নৌ বিহারে যাবেন সেটা  নিশ্চই আপনারা ভাবেন না? আরেকটি ব্যাপার  না বললেই নয়। ১৯৯৬ সালেও আওয়ামীলীগ যখন ক্ষমতায় এসেছিল, তখনও কিন্তু মৌলবাদজুজু দেখিয়ে ইসলামিক কমন প্লাটফর্ম কে আপনারা প্রশ্ন বিদ্ধ করতে চেয়ে ছিলেন, পেরেছেন কিনা, সে উত্তর আপনারাই ভালো জানেন। এইবার এসেওই সেই একই জুজু তবে শব্দ নির্বাচনে বৈচিত্রতা এনেছেন সন্দেহ নেই। জঙ্গিমুক্তি যুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি, স্বাধিনতা বিরোধী চক্র, 'যুদ্ধাপরাধিদের বাঁচানোর জন্য একটি বিশেষ মহল' ইত্যাকার শব্দ চয়নে আপনারা সৃ্ষ্টি করেছেন বাংলা শব্দ ভান্ডারে এক নতুন মাত্রা, সন্দেহ নেই। জামাত বিরোধিতাকরতে গিয়ে এক সময় আপনারা অন্য একটি শ্বাপদীয় খোলস গায়ে জড়িয়েছেন, সেই উপলব্ধি আসছে, কিংবা আসতে আরো সময় নিবে হয়ত, কিন্তু আসবেই, সেটা আজ কাল, কিংবা অনেক অনেক বছর পর। সাময়িক উন্মাদনা নিজের অস্তিত্যকে জানিয়ে দিতে সাহায্য করলেও আসলে কিন্তু ক্ষয় সেখান থেকেই শুরু। আপনাদেরও শুরু হয়েছে, শুধু ফিলকরছেন না এই যা ! আর যেটা সবচেয়ে ভয়ংকর, সেটা হচ্ছে এই ক্ষেত্রে জামাত-শিবির আর আপনাদের সাইকোলজিক্যাল মিল কিন্তু খুভই সুক্ষ, ক্ষেত্র বিশেষে স্থূলও বটে। আপনাদের প্রতি শুভ কামনা।

 আচ্ছা হেফাজতে ইসলাম এর লং মার্চ নিয়ে জামাত-শিবির এর এত আগ্রহ কেন? বি এন পিও কম যাচ্ছে না তলে তলে। কারণটা কি? হেফাজতে ইসলাম তো কোন রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে আসছে না। তাহলে এইসব রাজনৈতিক দলের নিদহীন রাত্রী যাপনের অর্থ কি ? হ্যাঁ, এখানে আপনাদের অনেকেরই সাথে আমার সহমত। জামাত-শিবির চাচ্ছে এই লং মার্চ থেকে ফায়দা লুটতে, বিএনপি চাইছে নির্ভেজাল মসনদের সিড়ি। শুনেছি এরশাদ সাহেবের জাতীয় পার্টিও লং মার্চ এ পানি পান করিয়ে অশেষ সোয়াব হাসিল করার সুযোগ হাত ছাড়া করতে চাচ্ছে না। যদিও আমাদের কুঠিল মন(!) এর অন্য অর্থ করে নিচ্ছে। কিছু কিছু জ্ঞানপাপীরা জামাত ও হেফাজতে ইসলামের কাজ কর্ম প্রক্রিয়া কে সমধাচে ফেলতে চাচ্ছেন । তারা জানেন না যে তা নয়, ভালো করেই জানেন, শুধু নিজেদের জাবড় কাটাকে আরো সুস্বাধু করার জন্যই জামাত ও হেফাজত কে একচোখে দেখেন। অথচ কোন কওমি মাদ্রাসায় জামাতের বা শিবিরের নাম গন্ধ শুনলেই একজন শিক্ষকের চাকরী ঠেকানো দায় হবে, ছাত্রকে গুড বাই বলা হবে তৎক্ষনাত। এখনও এই ওপেন লং মার্চএ যদি শিবির বা জামাত যোগ দেয় তার দায় হেফাজতে ইসলাম নিতে প্রস্তুত হবে কিনা সেটাও ভাবার ব্যাপার।
এর থেকেও কিছু কিছু জেগে ঘুমানোদের হুঁশ আসছে না যে, ‘হেফাজতে ইসলামহচ্ছে একটা পাকা ফল, এই ফলের গ্রহণযোগ্যতা আছে মুটামুটি সবার কাছেই। তাই সব রাজনৈতিক দল ই চাচ্ছে এই ফলটাকে নিজেদের ঘরে নিতে। এই সহজ সমীকরনটাতে যারা হাইয়ার ম্যাথ এর সুত্র ব্যবহার করতে চান আর যাই হোক আপনাদের উচ্চ জ্ঞান আর শিক্ষার তারীফ না করে পারি না। জয় হোক আপনাদের কৃত্তিম অহমের।

 হেফাজতে ইসলামের মৌলিক নেতৃবিন্দের দৃষ্টি শুধু একটি বিষয়ের প্রতি রাখার অনুরোধ করব। আপাতত এই সময়ে আপনারা কোন দলের গিনপিগ হবেন না। আপনাদের কাধে বন্দুক রেখে কূট শিকারীদের বড় শিকারের সুযোগ করে দিবেন না প্লিজ। আপনাদের আশ পাশের লোক জনদের কে চিনুন, বুজুন, অনাকাঙ্কিতদের কানটা ধরে বের করে দিন। বাংলাদেশে একটি বিরাট অংশের বিশ্বাস আর শ্রদ্ধার সাথে সামান্য ভুল সিদ্ধান্ত বা কথার মাধ্যমে বালি মিশিয়ে দিবেন না। বিশেষ করে জামাত ও শিবির- এর দিকে একটু বিশেষ নজর রাখবেন। ইনশাল্লাহ আপনারা সফলকাম হবেন ই।