Friday, 13 December 2013

মা আর মাসীর গল্প

সময় বদলেছে। কিন্তু শত বছরের প্রবাধ 'মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি' এর রকম ফের খুভ হয়েছে বলে মনে হয় না!

আপনি যাদের কে স্বাধীনতার পক্ষের লোক বলে চিতকার করতে দেখেন, একাত্তরে দেশের মানুষের উপর পাকিদের নৃশংসতায় যাদের হৃদয় ভারাক্রান্ত-ক্ষোভে ফুসফুস ফেটে যাবার উপক্রম, রাজাকার-স্বাধীনতা বিরোধী মুক্ত স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার তাত্ত্বিকতায় আস্ফালন করছেন, তারা কিন্তু বর্তমান দেশের অবস্থায় ততটা উদ্ধিগ্ন নন।
কথাটা বোধহয় সম্পুর্ন সত্য নয়। হ্যাঁ, কিছুটা তো উদ্ধিগ্ন তো বটেই, সেটা 'জামাত শিবিরের তান্ডবতায়'।
আজকে শত শত মৃত্যু তাদের কে আহত করে না। কারন মরছে যারা সেতো জামাত শিবির কিংবা বি এন পি, তারা অন্য পক্ষ। এই মাইন্ড সেটের কারনে আজকে তাদের মন দেশের জন্য কাদেঁনা।

এবার একটু ভিন্ন দৃষ্টি। ব্যাপারটা মনস্তাত্ত্বিক। ৭১ পাকিরা নিরস্র বাংলার জনগনকে হত্যা করেছে পাইকারি হারে। কেন? কারন তারা ছিল 'পাকিস্তান' বিরোধী। 'দেশ বিরোধী' বিপক্ষ গোষ্ঠী। তার মানে সেখানেও সেই পক্ষ বিপক্ষ। পক্ষ বিপক্ষের পুতুল নাচে এক সময়ের 'ন্যায়' অন্য সময় 'অন্যায়', আবার 'অন্যায়' তার সংজ্ঞা বদলে হয়ে যায় 'অন্যায়'। সুতরাং এই মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে পাকি এবং বর্তমান অবস্থাকে যারা মৌন সম্মতি দেন, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এপ্রিসিয়েট করেন, তাদের মধ্যে পার্থক্য কিন্তু নেই, বরং সমগোত্রীয় বৈশিষ্টের   আধিক্যই বেশি। ভাষা আর স্লোগান বদলে গেলে এবং  আবেগের রং গাঢ় করে মিশিয়ে দিলেই যে তা 'পবিত্র' হয়ে যাবে, সেটা ভাবাও নিশ্চয়ই কোন সুস্থ মস্তিষ্ক প্রসূত নয়।

আজকে যারা মনে করেন বর্তমান পরিস্তিতির জন্য দায়ী বি এন পি আর জামাত কিংবা যারা মনে করেন 'যুদ্ধাপরাধী'দের বাঁচানোর জন্য (যা গত কয়েক বছর ধরে আমাদের আওয়ামি জীবন্ত কিংবদন্তিদের মুখ নি:সৃত উজ্জল সম্ভাবনাময় রাজনৈতিক বানী) আজকের এই অবস্থা সৃষ্টি, তবে তাদের 'সেন্স অব হিউমারের' প্রশংসা করতেই হয়। যারা নিজেদের স্বার্থে সংবিধান সংশোধন করে আজীবন ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার বেসম্ভব ইচ্ছার মানিসিক বৈকল্যতায় এই বি এন পি-জামাতের রাস্তায় নেমে সহিংসতা, তাদেরকে কেউ কি প্রশ্ন করেছেন 'কেন আপনি বা আপনারা তাদের সেই সুযোগ দিলেন'? না, সেই প্রশ্ন করার যে মানসিক পরিশুদ্ধতা প্রয়োজন, তা আপনাদের নেই।
আজকের বর্তমান পরিস্থিতি কিন্তু ঘটনা পরষ্পরা হচ্ছে না, বরং এটি একটি প্লান মাফিক এগুচ্ছে। কি ভাবেন আপনি? একটি দল ক্ষমতা আঁকড়ে থাকবে আর অন্যান্য রাজনৈতক দল ও দল প্রধানরা হাত পাখা নিয়ে সেই ক্ষমতার মসনদে বাতাস করবেন, এব সেই আয়েসি মুহুর্তে আমাদের 'শেখ সাবের বেটি' চোখ বুজে হিন্দি সিরিয়াল দেখবেন, নিশ্চই এইরকম প্লান করে রাখেন নি। বরং প্লান মাফিকই প্রতিদিন মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। এগুচ্ছেন নিজের ক্ষমতায় থাকার মনস্তাত্ত্বিক বিকৃতির রক্তের নদীতে নৌকা ভাসিয়ে সমুদ্রের দিকে! পশুবত জানোয়ার যখন বাসে আগুন দিয়ে জীবিত মানুষ হত্যা করে, তার দায়ভার নেই উনার? কিংবা ইন্ধন?

কিন্তু আমাদের দেশ দরদী প্রগতিশীল আর স্বাধীনতার একমাত্র পক্ষাবলম্বনকারীরা কিন্তু বলছেন না, জননেত্রী আপনি থামেন, আপনি যাকে রাস্তায় গুলি করে হত্যা করছেন, সেও আমার দেশী ভাই, সেও এই দেশের নাগরিক। আমি ও সে একই পাড়ায়, এক সাথে ক্রিকেট খেলে, দুষ্টুমি করে, সিগারেট ফুকে বড় হয়েছি। তাকে হত্যা করা আর আমাকে হত্যা করা সেতো সমান? আর রক্ত? তার মতো আমারও সেই একই মেঘ বৃষ্টি আলো বাতাস আর আবেগের রক্ত!
কিন্তু বলবেন না, কারন ঐ একটাই, পক্ষ আর বিপক্ষ। আপনাদের হৃতপিন্ডের অলিন্দ যদি হয় আলোকিত তবে হৃদয়ের অন্য অংশ 'নিলয়' অন্ধকার। সেই অন্ধকার দেখার বা উপলব্ধি করার যে চেতনা, যে মানবিক প্রবৃত্তি, সেটা নেই আজ আর আপনাদের মধ্যে কিংবা বিকৃত হয়ে গেছে।

কিন্তু আপনাদের এই পক্ষ আআর বিপক্ষ খেলায় একটা ভাল দিক আছে। দায় মুক্তির। ৭১ পিচাশদের! আংগুল দিয়ে তারা আজ দেখিয়ে দিচ্ছে- দেখ, দেখ, পক্ষ বিপক্ষ যে খেলা খেলে আমরা আজ তোদের ইতিহাসে ঘৃনিত প্রেতাত্মা, সে একই খেলা এখন তোরা খেলছিস! সুতরাং আমরা যা করেছি সুযোগ ও সময় হলে তোরাও তা করতে পারিস! তাহলে তোদের আর আমাদের মধ্যে পার্থক্য কি! আয় ভাই, আয়! আমরা বুক মিলাই, একসাথে না হয় আবার শুরু করব পক্ষ বিপক্ষ খেলা!!
তাই বুজতে পারিনা- দেশের জন্য কার দরদ বেশী, মায়ের না মাসির? আর এই মা'টাই বা কে আর মাসীটাই বা কে?

Sunday, 13 October 2013

আরাফাত দিবস

"লাব্বয়িক আল্লাহ হুম্মা লাব্বায়ীক
লাব্বায়িকা লা শারিকালাকা লাব্বায়িক
ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’মাতা
লাকা ওউয়াল মুলকা লা শারিকা লাক"

                                               বিদায় হজ্জের ঐতিহাসিক ভাষনের বিষয়াবলি

১০ই হিজরীর ৯ই জিলহাজ্জ তারিখে বিশ্বনবী সাঃ আরাফাতের বিশাল ময়দানে উপস্থিত লক্ষাধিক সাহাবীর সম্মুখে জীবনের যে অন্তিম ভাষন দান করে ছিলেন তা ইসলামের ইতিহাসে বিদায় হজ্জের ভাষন নামে পরিচিত।

উক্ত ভাষনে রাসূল সাঃ মানবাদিকার সম্পর্কিত কতগুলো বিষয়ে সঠিক দিক নির্দেশনা দান করেন; যার প্রধান বিষয়গুলো হচ্ছেঃ

১। ধর্মীয় আদেশ নিষেধ মনোযোগ সহকারে শ্রবন করা
২। দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
৩। আমানতের খিয়ানত না করা
৪। জুলুম নির্যাতন বন্ধ করন
৫। সুদের লেনদেন নিষিন্ধ করন
৬। নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠাকরন
৭। ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করন।
৮। আভিজাত্যের গর্ব রহিত করন।
৯। দ্বীনের পরিপূর্নতা লাভ।
১০। সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠায়  গুরুত্বারোপ
১১। রক্তপাত নিষিদ্ধকরন
১২। নবুয়্যতের ধারা সমাপ্ত ঘোষনা
১৩। শ্রমিকের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠাকরন।
১৪। শিরক্ নিষিদ্ধকরন
১৫। আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা
১৬। পিতামাতার সাথে উত্তম আচরন করা
১৭। জ্ঞান অর্জনে গুরুত্বারোপ
১৮। প্রতিবেশীর অধিকার প্রতিষ্টা
১৯। আল্লাহকে সর্বাবস্থায় ভয় করা
২০। চাকর চাকরানির অধিকার প্রতিষ্টাকরন
২১। মানবতার সেবা করন
২২। ঘুষ ও অন্যান্য হারাম পদ্ধতিতে উপার্জন নিষিদ্ধকরন
২৩। উত্তারাধিকারীত্বে অধিকার নিশ্চতকরন
২৪। মদ ও ব্যাভিচার নিষিদ্ধকরন
২৫। ইয়াতীমের মাল ও সম্পদ আত্বসাৎ না করা
২৬। আমীরের আনুগত্ব করা
২৭। মাপে ও ওজন কম না দেয়া
২৮। অঙ্গীকার পালন করা
২৯। পথ ভ্রষ্ট না হবার উপায়
৩০। কৃতজ্ঞতা ও কর্তব্যপরায়নতা
৩১। তাবলীগ তথা দ্বীন প্রতিষ্টার জন্য দাওয়াতি কাজ করা।

তিনি আরো বলেনঃ হে উপস্থিত জন মন্ডলীগন, তোমরা যারা এখানে উপস্থিত আছ তারা আমার এ বানী যারা এখানে উপস্থিত নেই তাদের কাছে পৌছে দিবে। ভাষন শেষে রাসুল সাঃ বলেনঃ হে সাহাবীগন আমি কি আমার দায়িত্ব পালন করতে পেরেছি? উপস্থিত সাহাবীগন সমুচ্চস্বরে বললেনঃ হ্যাঁ আপনি তা করেছেন।

এর পর বিশ্বনবী আকাশের দিকে তাকিয়ে বললেনঃ হে আল্লাহ আপনি সাক্ষ্য থাকবেন।

এর পর পবিত্র কোরাআনের সুরা মায়েদার ৩ নং আয়াত অবতীর্ন হয়ঃ ‘আজিকার এই দিনে আমি তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামতকে পূর্ন করলাম। আর জীবন ব্যাবস্থা হিসেবে ইসলাম কে তোমাদের জন্য মনোনীত করলাম।  

Sunday, 2 June 2013

ঘাসফুল জীবন

ঘাস ফুল। কি অযতন আর অবহেলায় জন্ম তার। কিন্তু যখন তাকাই ছোখ জুড়িয়ে যায়। জানি, খেলার মাঠে বলটাকে জালে ডুকানোর প্রতিযোগিতায় কেউই সেদিকে ছোখ রাখার বা দেখার অবসর পায় নি। 'কাটা যুক্ত' বুটের পিষ্ট হয়েছে বার বার।
 - কি ভাবছিল ঘাসফুল? কি ভাবছিল ঘাসফুল তার সমস্থ শরীরকে পিষ্ট করে যখন পায়ের কারসাজি দেখিয়ে যাচ্ছিল কন্টকি পা?
 পড়ন্ত বিকেলে ক্লান্ত রোদ যখন দিনের শেষ চুমু দিয়ে যায় ঘাস ফুলের শরীরে, ঘাস ফুল কি পারে সাড়া দিতে পথম চুমুর মত, ভোরের আলোকে দিয়েছিল যেমনটি করে? আর সে একই শিহরন কি পেয়েছিল পিষ্ট দেহে, ক্ষত বিক্ষত হওয়া শরীরে?
ঘাসফুল কি জানত তার বিকেল এমনটি হবে? নাকি তপ্ত দুপুর তাকেও দিয়েছিল আলসেমি? প্রচণ্ড অভিমানে কি ভ্রুকুটি কেটেছিল সুর্য্যকে। নাকি হেয়ালীর ঠোট বাকিয়ে হেলিয়ে দিয়েছিল বাড়ন্ত শরীর?
নিজের গন্ডি পেরিয়ে দেখাতো হলনা, নিজের চারপাশ, এই সবুজ মাঠের অপাশে ঐ পিচডালা রাস্তা। শোঁ শোঁ করে হাজারে হাজার যন্ত্র দানব চলে যাওয়া, একবারও কেন আমার দিকে তাকায় না? কিংবা ঐ বহুতল ফ্ল্যাটের বিমর্ষ নারী। জানা যদি যেত, কিংবা একবার যদি তার চুলের ঘ্রান নেয়া যেত? ইস' কতকি যে দেখার বাকি, কত কি স্প্র্শ করার বাকী!
পাস! পাস! এইদিকে! এই দিকে........
 - ঘাসফুল সত্যি সত্যিই নেতিয়ে পড়ে। ঘাসফুল প্রচন্ড অভিমানে আর ঘৃনা নিয়ে মিশে যায় সবুজ ঘাসের শরীরে ।। 02:09 AM 02/06/2013


Wednesday, 1 May 2013

হেফাজত কে নিয়ে কেন এত চুলকানি


হেফাজতের আমীর আশিতপর বৃদ্ধ আল্লামা আহ্মদ শফী কে নিয়ে যেরকম কথা বলা হচ্ছে তাতে আর যাই হোক তাদের কে রুচিশীল চিন্তার মানুষ বলে মনে হয় না। কুরুচীশীল মানুষের প্রধান অস্রই হচ্ছে অশ্লীল ভাষা নয়ত গালি। সুতরাং আর কি বলা আছে তাদের কে নিয়ে? তবে আমার কাছে একটা ব্যাপার মনে হচ্ছে যেটা বলেই ফেলি; যারা অন্ধভাবে হেফাজত কে নিয়ে চরম চুলকানি অনুভব করেন তাদের রোগটা আর কিছু না, এটা আমাদের সিলেটি ভাষায় বলে 'দাউদ।' মামুষের গায়ে সেটা যেমন গরূ মহিষদেরও সেটা হয়, বিশেষ করে কাঁধের দিকে। আমাদের বাড়িতে দেখতাম বলদ গুলোর সেকি অস্বস্থি আর চুলকানি সেই দাউদ নিয়ে। কোন কিছু পেলেই সেকি ঘষারে ভাই ? কি বলব, রক্ত বের হয়ে যেত, তারপর সেই 'দাউদ' আক্রান্ত অনশ নিয়ে ঘষামাজা কিন্তু থামাত ন। সেদিঙ্গুলোতে যেমন ব্যাপারটা নিজের কাছে খারাপ লাগত, সেটা চিন্তা করে আজও খারাপ লাগে। এই 'দাউদ' এ আক্রান্ত মানুষদের দেখিছি চরম অস্বস্থি এমন কি তাঁরা সে দাউদ চুলকাতে গিয়ে এমন কিছু করেন যা রীতিমত ভয়ংকর।এখানে সেটা উল্লেখ করে আর তাদেরকে হেয় করবনা। আমার নিজের সেটা না হলে দেখিছি খুব কাছ থেকে। আমাদের  অঞ্চলে বাজারে দাউদ আর চুলকানীর ঔষদ বিক্রি করা ক্যনভাসারদের কথাগুলোতো চরম! যারা শুছেন তারাই কেবল জানেন।একটা উল্লেখ করি- 'মাইলর ধরা খাউজওয়ানী, জেগাত খাওজওয়ায়, বে জেগাতও খাওজওয়ায়।' এবার আসি আসল কথায়, হেফাজতের দফা কিংবা হেফাজতে ইসলাম নিজেই কারো কারো কাছে 'দাউদ' বা একটা চুলকানীর রোগ। সুতরাং যখন চুলকানি শুরু হয় তখন আর মনে থাকেনা জায়গা-অজায়গা, স্থান কাল, বয়স কাল।চুলকাতে হয়ই, বলদের মত কিংবা সে আক্রান্ত মানুষটির মত, ভয়ংকর উপায়ে। আর সেটাই দেখছি হেফাজতকে নিয়ে এ যাবৎ কিছু দিন।
স্বীকার করি হেফাজতের দফা নিয়ে দেশ বিদেশের সব বাংলাদেশীই যে একমত হবেন, তাতো না, তাহলে আর দফা দেয়ার দরকারটা কি? কিন্তু যারা দফাগুলোকে ফেলে ব্যক্তি মানুষ নিয়ে লাফালাফি করেন তখন সেটা অরুচিকর শুধু নয়, অমানবিকও বটে।
স্বীকার করি কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক কিংবা ছাত্ররা ততটা আমাদের মত ততটা বৈষয়িক নন। কিন্তু সময়তো বদলেছে।যারা ছাত্র শিক্ষক সম্পর্ক বলতে লাল দল নীল দলের আর ভিসির চেয়ার দখল বুঝেন তাঁরা কওমি মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষক সম্পর্কে চুল পরিমাণও ধারণা নেই। ধারনা থাকলে আল্লামা শফি সাহেব এর হেলিকপ্টার এ চড়া নিয়ে কুটিলতা করতেন না। প্রকৃত  শ্রদ্ধা বা সম্মান চেহারা বা আদল দেখে আসে না , আসে হৃদয় থেকে যেটা আমাদের চলমান শিক্ষা ব্যবস্থায় অকল্পনীয়। তাই 'লিল্লাহ খাওয়া হুজরের' হেলিকপ্টার চড়া দেখে যাদের চুলকানি চরমে তাদেরকে কিছু আর বলার নেই, রোগের চিকিৎসা আগে না রোঘীর চিকিৎসা আগে, সেটা হোমিওপ্যাথির যে কোন হাতুড়ে ডাক্তারও বলে দিতে পারবেন।
তাছাড়া দেশের যে অবস্থা, তাতে যে কোন ধর্ম পরায়ন লোক এই অবস্থায় 'হুজুরকে' সহায়তা করবেন, এটা এমন কি আশ্চর্যের ? আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেক কেই জানি যারা এখনও না খেয়ে (!) পকেটের শেষ পেনিটাও হেফাজতের আমীর এর হাতে তুলে দিতে একপায়ে খাঁড়া। তাই প্লিজ, হেফাজতে ইসলাম এর অর্থনৈতিক ব্যাপারটাকে  'আন্ডার এস্টিমেট' করবেন না।
শেষ যে আশঙ্কা আমার সেটা বলে এই প্যাচাল শেষ করছি। বর্তমানে যে ভাবে ভিন্নমতের কারনে ব্যক্তিগতভাবে একে অন্যকে মুখের ভাষা দিয়ে অপমান করছেন, তাতে সন্দেহ সেদিন আর বেশি দূরে নেই ছেলে তা্র 'বাবা কে শালা বলে গালি দিবে' কেননা, পারিবারিক ক্ষেত্রে বিশেষ করে জায়গা জমি বাটরা করতে গিয়ে বাবার সাথে প্রায়ই ছেলেদের মতের মিল হয় না। শুভেচ্ছা সবাই কে।

Sunday, 28 April 2013

হেফাজতের দফা ও 'নাগরিক সমাজ'


পুঁজিবাদ নারীকে সর্বপ্রকার স্বাধীনতা দিয়েছে বলে আস্ফালন করে, অথচ ব্যাপার একই, উভয় ক্ষেত্রে। মেয়েদেরকে জড়পিন্ড বলে গন্য করা হয় সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায়, দামী ও সচল পুতুল বলে গন্য করা হয় পুঁজিবাদী ব্যবস্থায়। ঐটুকুই তফাৎ। কিন্তু উভয় ব্যবস্থাই অমানবিক, জড়পিন্ড যেমন মানুষ নয়, সচল পুতুলও তেমনি মানুষ নয়। নারী মুক্তি এদেশে ঘটেনি, নারীর অবস্থানের পরিবর্তন হয়েছে, গৃহাভ্যন্তর থেকে তাঁকে কোথাও কোথাও এনে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে প্রদর্শনীর প্রাঙ্গনে
উপরিক্ত কথাগুলো আমার প্রিয় একজন শিক্ষক (সরাসরি অর্থে নয়) যার লেখা আমাকে নতুন ভাবে, নতুন করে চিন্তা করতে অনুপ্রাণিত করেছে। যখনই তার কোন লেখা পড়েছি, নতুন কিছু শিখেছি, নতুন একটি জানালা আমার সামনে খুলেছে। প্রগতিশীলতার যা কিছু আমার কাছে সে উনার কাছ থেকেই শেখা। বিশেষ করে তার লেখার স্টাইল আমি না চাইলেও চলে আসে আমি যখন কোন কিছু লিখি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ডঃ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।
কিন্তু সে তাকেই যখন সেদিন ‘নাগরিক সমাজের’ ব্যানারে উপস্থিত হয়ে বর্তমান হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফার বিশেষ কয়েকটি দফা নিয়ে সমালচনা করতে শুনি, খুভ খারাপ লাগল তখন। আপনিও কি করে পারলেন চলমান স্রোতে গা ভাসিয়ে দিতে? তাই সন্দেহ আসে এই তিনিই কি তার অন্য একটি লেখায় উপরের কথা গুলো লিখেছিলেন নারীর বর্তমান অবস্থানের উপর?
বর্তমান সময়ে হট টপিক হচ্ছে হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা। দাবী মানা হবে কিনা সেটা ভিন্ন কিন্তু সেই দফাগুলোর পোস্টমর্টেম করা হচ্ছে প্রতিদিন। সেগুলো দেখে নিজে কিছু লেখার আর প্রয়োজন মনে করিনি। কিন্তু এখন যাদের কাছ থেকে হেফাজতের দফা গুলোর ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ পড়ছি তাতে মাথা হট হয়ে যায়।
আজকে যারা ভিবিন্ন ব্যানারে প্রগতিশীলতার ধোঁয়া তুলছেন, মৌলবাদ এর কথা বলছেন, এগুলো কিন্তু নতুন কিছু না। আপনি আমি যদি একটু গভীরভাবে লক্ষ্য করি তবে দেখব এখন যারা মৌলবাদ নিয়ে, ইসলাম ফোবিয়া নিয়ে কথা বলছেন তারা সে অনেক আগে থেকেই বলেছেন। আমার মনে আছে ৯৬ এর পর আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাদের এই মৌলবাদ ফোবিয়া’র পারদ উপরের দিকে উঠা শুরু। পত্রিকার প্রতিদিনের কলামে, প্রবন্ধে-নিবিন্ধে ঐ একই সুর, মৌলবাদে দেশ ভরে গেছে। বাংলাদেশ আফগানিস্থান হতে আর বেশি দিন বাকী নেই। কিন্তু আমরা কি দেখলাম দেশতো আফগানিস্তান হইনি, বরং ২০০১ বি এন পি জামাতের সরকার।
সেই প্রথম থেকেই তাই আমার মনে হচ্ছে এদের, এইসব বুদ্ধিজীবীর আসলেই অন্য কোন দায় নেই। তাই এ নিয়েই পড়ে থাকেন দিন রাত। মৌলবাদ, জঙ্গীবাদ এইসব নিয়ে। জানিনা এতে তাদের কি লাভ, কিন্তু তাদের যে মেধা আর সম্মান, সেটা যে দিন দিন ক্ষয়ের দিকে সেটা বুঝতে বাকি থাকেনা। আর সেই দিনের নাগরিক সমাজের ব্যানারে তাদের চেহারা দেখে আরো বেশি নিশ্চিত হলাম। হেফাজত কি এমন দফা দিল যে সেটা নিয়ে আমাদের বাঘা বাঘা বুদ্ধিজীবিদের নিদ হারাম হয়ে গেল। নাকি, ঐ অসুখটাই আসল, তাদের বক্তৃতা আর প্রগতিশীলতা দেখানোর, বাহাদুরি দেখানোর মোক্ষম বিষয় সামনে এসেছে, চুপ থাকেন কি করে।
সবাই জানেন, হেফাজতে ইসলামের দফা নিয়ে প্রথম প্রথম কেউ তেমন রা করেন নি। কিন্তু যখন সেটি একটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে চলে গেল এবং সেটা নিজেদের অস্তিত্বের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াল, তখনই শুরু হল অপপ্রচার। অপপ্রচাইতো বলব। আমি খুব ভালো করেই জানি তারা হেফাজতে ইসলামের দফা গুলো ভালো করেই বুঝেছেন। এক এক জন ডক্টরেট, তদেরকে যদি ‘অবাধ মেলামেশা’ ‘বেহায়াপনা’ ‘অবাধ বিচরন’ টাইপের শব্দ কে ব্যখ্যা বিশ্লেষণ করে বুজাতে হয়, তবে এর চেয়ে লজ্জাজনক ব্যাপার আর কি হতে পারে।
হ্যাঁ, যতদুর দেখা যাচ্ছে আমাদের বুদ্ধিজীবীদের বর্তমান মাথা ব্যাথা হেফাজতের এই দফা নিয়ে
 ব্যক্তি ও বাকস্বাধীনতার নামে সব বেহায়াপনা, অনাচার, ব্যভিচার, প্রকাশ্যে নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ, মোমবাতি প্রজ্বলনসহ সব বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে হবে
আরেকটা দফা হয়ত তাদের কিছুটা বিরক্ত করেছে সেটা হচ্ছেঃ
 মসজিদের নগরী ঢাকাকে মূর্তির নগরীতে রূপান্তর এবং দেশব্যাপী রাস্তার মোড়ে ও কলেজ-ভার্সিটিতে ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন বন্ধ করতে হবে।
এখন কথা হচ্ছে আসলেই কি তারা এই সব শব্দের ভুল অর্থ করেছেন নাকি ইচ্ছা করেই ভুল অর্থ দাড় করাচ্ছেন? আমি তাতে এমন কিছু পাইনি যাতে তাদের মত মনে হবে এই দফায় দেশ ১৩০০ বছর পিছনে চলে যাবে। কেউ কেউ বলছেন মধ্যযুগে দেশ চলে যাবে।
সত্যি কথা বলতে কি এইরকম কথা বার্তা আমরা  কিছু কিছু সুবিধাবাদী ব্যাক্তি ও লম্পট রাজনীতিবিদদের কাছে থেকে শুনে অব্যস্থ। তাই আমাদের জাতীয় পর্যায়ের ডক্টরেট গনদের কাছ থেকে এই রকম বাক্য শুনে আমি কেন যে কোন স্বাভাবিক চিন্তার মানুষ ‘টাসকি’ খাবে। হেফাজতের দফাগুলো নিয়ে একজন মুসলিম হিসেবে আমার কোন আপত্তি নেই বিশেষ করে যে দফাগুলোতে আমাদের সুশীলগণ মধ্যযুগের চুলকানি অনুভব করেন। তাই কে কি বললেন তাতে আমার মাথা ব্যাথাও নাই। তবে সঙ্কা যে নেই তা কিন্তু না। যাই ঘটুক এই চাপ্পান্নহাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশেই ঘটবে, সুতরাং ভুক্তভোগী সে আমরাই হব।
কিন্তু আমার চিন্তা অন্য বিষয়ে। কেন আমাদের বিশিষ্ট নাগরিক সমাজ অধিপতিদের কাছে হেফাজতের দফাগুলোকে মধ্যযুগীয় মনে হবে, কেন মনে হবে বাংলাদেশ আফগানিস্তান হয়ে যাবে? দেশ পিছিয়ে যাবে ১৪০০ বছর পিছনে? যেহেতু তারা চিন্তাশীল মানুষ তাদের চিন্তারোতো একটা দাম আছে। তাই সেটা মেনে নিয়ে আরো দু একটি কথা বলতে চাই।
তাঁদের বক্তৃতা আর আবেগী গলার বক্তব্য থেকে এ কথা মোটামুটি পরিষ্কার বাংলাদেশের এখন একমাত্র সমস্যা হচ্ছে হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা। কেটে চেটে সেটা আসলে ইসলাম কিংবা ইসলামিক মৌলবাদ। (কারন তাঁদের কাছে ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো আগে যেমন এখনও তেমন, মৌলবাদ হিসেবেই পরিচিত। আমার মনে আছে যখন ইসলাম প্রিয় জনগনের সংবদ্ধতাকে উনারা মৌলবাদের সাথে তুলনা করতেন তখন প্রথম দিকে খারাপ লাগত। পরে যখন আমরা স্বীকার করলাম এবং দ্বের্থহীন ভাষায় বললাম হ্যাঁ, আমরা মৌলবাদী, ইসলামের মৌলিখ বিষয়ের সাথে আমরা কোন আপোষ করিনা, তখনই তারা চুপসে গেলেন, মৌলবাদ শব্দ আজকাল আর এত বেশি শুনা যায় না, যেমন শুনা যেত ১৯৯৪-২০০০ সালের দিকে ।) সুতরাং তাঁদের কথা মেনে নিলে সেটা দাড়ায় সেটা হচ্ছে-এদেশে ইসলাম ও ইসলামিক ভাবধারার জনগন ই মুল সমস্যা। এর বাহিরে আর কোন সমস্যা নাই, অন্তঃত বিরাট সেমিনার করে সেটা ফলাও করে নিজেদের সুশীলতা প্রচার করার মত। কিন্তু আমার কুঠিল মন তাঁদের এই সরলতার মধ্যে ছিদ্র দেখতে পায়। তাই আমার প্রশ্ন- বাংলাদেশে যখন দুর্নীতির বন্যায় ভেসে যায় তখন দেশ পিছিয়ে যায় না। প্রতিবছর বন্যার বাধ ভেঙে হাজার হাজার পরিবারের উদ্ধাস্তু হয়ে মানবেতর জীবন যাপনে বাধ্য হয়, তাতেও দেশ পিছায় না। সন্ত্রাসী, চাদাবাজ, ঋণ খেলাফি, ঘোষখোর চাকরিজীবী আর সন্ত্রাসের গডফাদাররা সংসদ সদস্য হয়ে আমাদের ভাগ্য নিয়ন্তা হয়ে বসে, তাতেও আমার দেশে কিছু যায় আসে না। লঞ্চ ডুবিয়ে মানুষ হত্যায়ও কোন বর্বরতা হয় না। বহুতল  আর গার্মেন্টস এ গেইট লাগিয়ে জীবন্ত মানুষ দগ্ধ করাতে মধ্যযুগীয় বর্বরতা হয় না। প্রতিদিনের খুন, গুম আর বিপরীত মতের লোকদেরকে অত্যাচারে দেশের ভাবমুর্তি প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে নিশ্চয়ই। এতেও দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ভাবতে ভালোই লাগে। চারিত্রিকভাবে দুর্বল অতি কথকরা যখন আমাদের সাধারনের সুখ দুঃখ নিয়ে উপহাস করেন তাতেও আপনাদের কিছু যায় আসে না। আপনারা সুবিধাভূগী উচ্চ মধ্যবিত্তরা সেই সব হাহাকার শুনেন না। তাই আজ হেফাজতের ১৩ দফাই আপনাদের চোখে ভয়ংকর হয়ে দেখা দিয়েছে। হেফাজতকে না থামালে দেশের স্বাধীনতা থাকবে না! সত্যিই করে বলুনতো, বুকে হাত দিয়ে, চার পাশ দেখে বলুনতো – এই চলমান বাংলাদেশে এই অরাজকতায়, এই দুর্বিসহ জীবনে হেফাজতের কি আদৌ কোন দায় আছে?
না, আর কিছু বলার নেই। সেদিনের নাগরিক সমাজের সেমিনারে আপনারা যদি এই কোথাগুলোও বলতেন দীপ্ত কন্ঠে, তবে বুজতাম দেশের প্রতি আপনাদের এ দরদ খাটি। কিন্তু পারছি না। আর আপনারাও পারেন না সকল জায়গায় সব কিছু বলতে। তা না হলে যে যারা আপনাদের সম্মানিত করে, পুরস্কার দেয়, টেলিভিশনে আপনাদের থক থকে চেহারা ভিবিন্ন এঙ্গেল থেকে দেখায় সেটা যে আর হবে না। সামাজিকভাবে আপনারা হয়ে যাবেন বন্ধ্যা। আমার ইদানীং কেন জানি মনে হয়, আপনারা আসলেই বন্ধ্যা, কেবল আপানদের প্রতিভাগুনে আমরা সেটা বুজতে পারি না, আমাদেরকে বুজতেও দেন না।  এর চেয়ে বেশি কিছু বলা আমার শোভা পায় না। আপনারা উচ্চ শিক্ষিত, আপনাদের প্রতিভা আমার দেশের সুনাম উচ্চ করে। তাই আপনাদের কিছু বলার দুঃসাহস আমি দেখাই না। শুধু আপনাদের মতই উচ্চ শিক্ষিত, প্রগতিশীল মানুষের উক্তি দিয়ে শেষ করছি –
      ‘আধুনিক প্রচার মাধ্যমগুলো অসংখ্য শুয়োরবৎসকে মহা মানব রুপে প্রতিষ্ঠিত করেছে ( ডঃ হুমায়ূন আজাদ)
( এই লিখা ‘সাভার ট্রাজেডি’ শুরুর দুদিন আগে লিখা, তাই উপরে উল্লেখ করা হয় নি। এই সাভার ট্রাজেদিকেও নিশ্চয়ই মধ্যযুগীয় বর্বরতায় ফেলা যায় না? হেফাজতে ইসলামের দফা গুলো সরকার মানুক কিংবা না মানুক একদিক থেকে ভালোই হল যে আমাদের কিছু বর্নচোরা বুদ্ধীজীবিদের আসল চেহারা চেনা গেল, যারা ধর্ম হিসেবে ইসলামকে শিখেলে ভাবেন, ১৩০০ বছরের পুরনো নিয়ম কানুন হিসেবে মানেন ও দেখেন এবং মনে করেন এই স্মার্ট ফোনের যুগে ইসলাম অচল। আর এটা যদি উনারা ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে বলেন ইসলামিক পরিভাষায় এর পরও তারা মুসলমান কিনা সেটা একটি বিরাট ভাবানার বিষয়, যদিও মুখে তারা স্বীকার করতে চান না।) 

Sunday, 14 April 2013

প্রতিবাদহীন বর্তমান বাংলা গান, বিদ্রোহ নেই আছে প্রচণ্ড রুমান্টিসিজম


যে কোন সমাজে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ করার অন্যতম মাধ্যম বা উপায় হচ্ছে গান ও কবিতা। এটি যে কোন সৃষ্টিশীল ও সুস্থ সমাজের একটি বহিঃপ্রকাশও বটে। ইতিহাসের প্রতিটি ক্লান্তিকালে গান ও কবিতা এনেছে প্রাণ। আমাদের মহান মুক্তি যুদ্ধে গাওয়া স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত গানগুলোই তার প্রমান। গানের ক্ষেত্রে বলা – আমাদের দুর্ভাগ্য এই যে স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে জাতীয় দুর্দিনে দেশের জনগন কে একটি প্লাটফর্ম দাড় করাবার মত গান সৃষ্টি হয়নি। যা দু একটা হয়েছে সেটা সময় ও চাহিদার অনুপাতে না হওয়ারই মত। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে যে অংশ প্রচুর গান শুনে তাদের কে উৎসাহিত, আলোড়িত করার মত কোন গানই এ যাবত কালে সৃষ্টি হয়নি। বয়সের রোমান্টিকতাকে প্রাধান্য দিয়েই আধিকাংস শিল্পী নিজেদের ক্যারিয়ার গড়েছেন। যা দু একটা করেছেন সেটা দেশাত্ববোধক বলে যেটা বুজি সেই রকম। প্রতিবাদ বা বিদ্রোহ মুলক গান নেই বললেই  চলে। অর্থ্যাৎ আমাদের ‘আধুনিক গান’ বা ‘নতুন প্রজন্মের গান’ যারা শুনে তারা এই বিশাল শুন্যতা নিয়ে নিজেদের রুচিকে শানিত করছে। তাই আজকাল রুমান্টিক গান তরুণ-তরুণীদেরদের মুখে ও এয়ারফোনে যে পরিমানে উপস্থিত দেশ, সমাজ, রাষ্ট্র নিয়ে, বাস্তব জীবন সংশ্লিষ্ট গানগুলো নাই বললেই চলে। আর এই শুন্যতা আজ কাল আমরা আমাদের উঠতি বয়সি তরুন তরুণীদের আঁচার আচরনে সেই অভাবটা একটু করুনভাবেই দেখছি। আসলে এ নিয়ে আরো অনেক কিছু বলার আছে, লিখার আছে। স্বল্প পরিসরে সেগুলো বলা বা ব্যাখ্যা করাও সম্ভব নয়।
না, একদম হতাশ হওয়ারও আমাদের কিছু নেই। এই তরুন-তরুনীদের আরেকটি অংশ কিন্তু পেয়েছে। বাংলাদেশে ব্যান্ড সংগীত নামে যে নতুন ধারা, সে ধারাতেই আমারা শুনেছি অনেকগুলো সফল বিদ্রোহী- প্রতিবাদী গান। সে অর্থে আমাদের ব্যান্ড সংগীত দেশ ও সামজের অবক্ষয়মুলক দিকগুলো তুলে আনতে অন্যতম প্রধান ভুমিকা রেখেছে। একটা সময় ছিল এই সঙ্গীতের প্রতি মোটামুটি সবার একটা নাক সিটকানোভাব ছিল। তাই প্রাথমিক দিকে যে সকল ব্যান্ড দল ও শিল্পী অনেকটা সাধারণের পছন্দের বাহিরে ছিল। সাধারনত প্রধান কিছু বড় বড় শহুরে পরিবেশে ব্যান্ড গানগুলো সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন সেটা মোটামুটি সকল মফঃস্বল শহরেরই স্ট্যাটাস। যাদের গানগুলো কলেজ – ভার্সিটি পড়ুয়াদের টুঠে শুনা যেত তাদের গানই এক সময় চলে আসল হাই স্কুল পড়ুয়াদের টুঠে। (ব্যাক্তিগতভাবে আমি এই শ্রেনীর।) ব্যান্ড সঙ্গীতের নাড়িয়ে দেবার, আলোড়িত করার ক্ষমতা কিন্তু এক দিনে হয় নি, একজনের দ্ধারাও হয়নি। তাই সেই ইতিহাস আপাতত এখানে টানছিনা।
বর্তমানে যে সকল ব্যান্ড রয়েছে তাদের কাছ থেকেও আসছে প্রচুর বিদ্রোহী ও প্রতিবাদী গান।
ব্যান্ড সঙ্গীতের সাথে বর্তমানে যারা সংযুক্ত তাদের কেউ কেউ নিজেদের আন্ডারগ্রাউন্ড ব্যান্ড হিসেবে প্রচার ও বলতে দেখা যায়। তবে এখানে কিছুটা বিভ্রান্তি আছে। আছে বিতর্কও। তারপরও তাদের কেউ কেউ চরম কিছু বিদ্রোহী ও প্রতিবাদী গান গাচ্ছে; যদিও তাদের নাম বা ব্যান্ডের নাম সাধারন শ্রুতা বলতে যা বুজায়, তাদের কাছে সম্পুর্ন অপরিচিত। বর্তমানে সেটা আরো প্রকট। এটা হয়ত শ্রোতা শ্রেনীর বিভাজন কে মেনে নিয়েই হয়ত।
একটা ব্যাপার এই ফাঁকে বলে নেয়া অযুক্তিক হবে না যে, ব্যান্ড এর গান আর আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে গাওয়া গান এক ব্যাপার না। এবং এটা মনে রাখা দরকার যে বর্তমানে যারা অত্যাধুনিক মিউজিক সিস্টেম ব্যবহার করে গান তৈরী করছেন, ভিবিন্ন শিল্পীকে প্রমোট করেছেন, তারাও কিন্তু ব্যান্ড শিল্পী নন, নয় তাদের গানও। বর্তমান ব্যান্ড দল ও ব্যান্ড শিল্পীকে এই বিষয়ে আরো মনযোগ দেয়া উচিৎ, উচিৎ নিজেদের অবস্থার ও অবস্থানের স্বকীয়তাকে রক্ষা করা।
আমার লেখাটা কিছু অগুছালো জানি। মাকসুদ ও ঢাকা (এক্স ফিডব্যাক)এর একটি গান গুলো শুনে চার পাঁচ লাইন লিখব নেটবুক খোলা।
(ছয় বছরেরও উপর প্রবাশে, নিয়মিত তাদের গান শুনা হয়না, কিন্তু ইন্টারনেট ঘেটে যে সব গান শুনে আসছি ও সংগ্রহ করছি, সে অভিজ্ঞটা থেকেই লেখা।, ফাকঁ বা জানার, শুনার ফাঁক কিছু থাকবেই, আপনারাও ব্যাপারটা সহজভাবে নিবেন আশা করি।)  
যে গানটি শুনে এই লেখার চিন্তা সেটার লিং দিচ্ছে, আপনারাও বুজতে পারবেন পুরো ব্যাপারটা।(আমার দৃষ্টিতে এই একটি প্রায় পুরো এ্যালবামে দেশ, সমাজ ও রাস্ট্রের কুৎসিত দিক গুলো নিয়ে সোচ্চার হয়েছে, এর আগে কেউ এইরকম হইনি, সাম্নেতে হবে কিনা সেটাও দেখার বিষয়।

https://soundcloud.com/abu-shakil/maksud-o-dhaka-gonotontro

এবং
ইউটিউব লিং
https://www.youtube.com/watch?v=YEnTtQPwhh8

অথবা  Viemo -তে

http://vimeo.com/64030743

সবাই কে শুভেচ্ছা

Saturday, 13 April 2013

মানুষের প্রতি মানুষের এই হিংস্রতা অন্ধকার যুগের কথাই মনে করিয়ে দেয়


মাজে মধ্যে ভাবি- আল কায়েদা ও অন্যান্য চরম পন্থিরা আমাদের চেয়ে অনেক ভাল, অন্তত তারা মানুষ মেরে তার দায় স্বীকার করে, কিন্তু আমাদের এখানে কেউ স্বীকার করে না।
এই কি সেই বাংলাদেশ- জাতীর সাত শ্রেষ্ঠ বীর সহ তাজউদ্দীন, উসমানি, জিয়াউর রহমান, ব্রিগ্রেডিয়ার খালেদ মোশারফদের নিয়ে সাতকোটি 'বাংলাদেশীর' চৌদ্দকোটি হাত প্রসারিত করেছিল- স্রষ্টার কাছে - 'হে বিশ্ব প্রতিপালক, এই জনপদ কে অত্যাচারী জালেমের হাত থেকে মুক্ত করে দাও, আমাদের লাঞ্চনার দিনগুলোর অবসান ঘটাও' -
কিন্তু ফল তাতে কি হল--- আমার তো মনে হয় আমরা যারা সাধারন, তাদের অবস্থা বরং কড়াই থেকে অংগারের মধ্যে প্রতিস্থাপন।
গত পরশু ফটিকছড়িতে যে হত্যাযগ্গ হল, সেটা শুনে এবং আজকে বেশ কয়েকটি ভিডিও দেখে উপরিক্তো কথা গুলোই বার বার মাথায় চক্কর দিচ্ছে।
দায়টা কার বেশী সেটা না হয় উহ্য থাকল, কিন্তু মানষের প্রতি মানুষের এই ঘৃণার দায়বার কেউ নিবে না জানি। আজ হয়ত ঐ জায়গায় আমি থাকলে একটা পক্ষ আমাকে নিতেই হত। কেউ ই চায় না ঘাতকের হাতে নিজের সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ তার জীবনটাকে তুলে দিতে। কিন্তু আমার জানতে ইচ্ছা করে আমাকে ঐ জায়গায় টেনে নিল কে????
আমি বিশ্বাস করি ঐ ঘটনায় আপানদের (হেফাজতে ইসলামের) সংগঠন হিসাবে কোন ভুমিকা ছিলনা, তবুও আপনাদের উচিৎ এই ঘটনার জন্য আপনাদের অবস্থান সবার কাছে পরিষ্কার করা। শিবির কিংবা জামাতের প্রতিরোধ বা প্রতিশোধের কিংবা স্থনীয় জনগনের কথিত প্রতিরোধের দায় কেন আপনারা নিবেন?
আমি আগেও লিখেছি এখনো লিখছি- হেফাজতে ইসলামের নেতৃবিন্দ, সতর্ক থাকুন আপানাদের চারপাশে কে ? কেউ কি আপনাদের ব্যবহার করছে? অতি উৎসাহীদের থেকে সতর্ক থাকুন।
আর অন্ধভাবে যদি চলেন আমাদের আবেগ কে পুজি করে, তবে আপনাদের পরিনতিও যে খুভ ভালো হবে সেটা আমি বিশ্বাস করিনা, অন্তত: আগামী দিনের ইতিহাস আপনাদের ক্ষমা করবে না।

Thursday, 4 April 2013

মাথার ভেতর পোকারা করে কিল বিল


মাথার ভিতর বেশ কয়েকটি বিষয় কিল বিল করছে............ শেয়ার না করে  যে পারলাম না।

** বাংলাদেশ দেশ থেকে যে সকল পেইজ বিশেষ করে পার্টিকুলার মত ও দলের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করে তাদের এডমিন গুলোকে আমার মানুসিকভাবে অসুস্থ মনে হয়। '১৮ দলীয় জোট' নামে একটি পেইজ এর স্টাটাসে দেখলাম শামীম ঊসমানের হেফাজতে ইসলাম এর নং মার্চ এ সমর্থনে একটি মিটিং।  ঐ স্টাটাসে একটি বাক্য পড়ে আমিতো টাস্কি খাইলাম। ফেইসবুকে এইসব মস্তিষ্ক বিকৃতরাও লাইক শেয়ার পায়? শামীম ঊসমানের ঐ সমর্থন দেখে স্টাটাস দাতার হযরত উমর রাঃ এর ইসলাম গ্রহনের কথা মনে পড়ে গেল! কতবড় টাল হলে এইরকম স্টাটাস কেউ দিতে পারে সে ভাবনা আর ভাবছিনা......।
https://www.facebook.com/photo.php?fbid=615309875149905&set=a.435320413148853.117552.435316696482558&type=1&theater

'টিনের চালে কাক, আমিতো অবাক' এই পেইজ এর সট্যাটাস পড়ে যে কোন ভদ্র লোকের ই মুখে অশ্লীল গালি চলে আসার সম্ভাবনা স্বাভাবিক। প্রজন্ম চত্বরের মৌলিক দাবীর প্রতি সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক আবেগ কে তারা ধরে নিয়েছে তাদের সকল চিন্তা, কর্ম কান্ডের প্রতিও সাধারণ মানুষের সমর্থন রয়েছে। তারা ভুলে যায় তাদের অবস্থান। 'বাশের কেল্লা' আর তাদের মধ্যে যে বিষয় বস্তু ছাড়া গুন গত কোন পার্থক্য নাই সেটা বুজতে পিএইচডি লাগেনা, হাই স্কুল পাশ দিলেই চলে। 'বাসের কেল্লা' ধর্মীয় ব্যাপার সামনে এনে যেমন মাথা ধুলাই দেয় তেমনি 'টিনের চালে কাক, আমিতো অবাক'রাও মুক্তিযুদ্ধ আর স্বাধীনতার পক্ষ বিপক্ষ নিয়ে চাপাবাজি করে সহানুভূতি আর মানুষ কে বিভ্রান্ত করতে সকল কুটিলতাই তারা প্রয়োগ করে। মিথ্যা আর নিজেদের প্রপাগান্ডা করতে গিয়ে মাজে মধ্যে বাশের কেল্লাকেও শত মেইল পিছনে ফেলে দেয়। তবে গত কিছুদিন থেকে এই পেইজ থেকে বেগম জিয়া কে সরাসরি ইঙ্গিত করে যে সকল পোষ্ট দিচ্ছিল তাতে আমার মনে হয়েছে এই পেইজ এর এডমিনরা আর যাই হোক কোন ভদ্র পরিবারে সন্তান নয়। আর  গত দুদিন থেকে এই পেইজ থেকে আল্লাম শফি সাহেব কে নিয়েও এই পেইজ চরম অবজ্ঞা করছে। মৌলবাদী, হেফাজতে জামাত তো বলছেই সাথে সাথে উনাকে ব্যাক্তিগতভাবে মুনাফিক আখ্যা দিতেও মুখে আটকাচ্ছে না। এখন আমি নিশিচত কোন ভদ্র বাঙ্গালী (মুস্লিম কিংবা অমুসলিম) পরিবারের ছেলে বা মেয়ে) এই পেইজ এর সাথে নেই। আরে বাবা তোমার মতের সাথে মিল না তাহলে আমাকে গালি দিতে হবে। আর আমাদের সমাজ বিজ্ঞানীরাতো এদের পরিচয় অনেক আগেই দিয়ে গেছেন যারা অন্যকে গায়েল করতে অশ্লীল বাক্য আর গালি ব্যাবহার করে। এরা হচ্ছে তারা যারা মূল উৎপাঠিত, শিখড়হীন, কচুরিপানার মত অবস্থান সমাজের মধ্যে। এর বেশি কিছু বলার রুচি আসলেই আমার নেই এদের প্রতি। 

 একটা প্রবণতা দেখছি কিছু মুখ পরিচিত 'সামাজিক যোগাযোগ' ব্যাক্তিদের মধ্যে। একটা গা বাঁচানোর প্রবনতা। এতদিন যারা সজ্ঞানে, স্ববোধে, অতিউৎসাহী হয়ে বর্তমান সরকারের চাটুকারীতা করেছেন, তাদের অপকর্মের প্রতি সমর্থন দিয়েছেন, দেখেও না দেখার ভান করেছেন, সত্যকে স্বীকার করার প্রতি দেখিয়েছেন অস্বাভাবিক নির্লিপ্ততা আজকে তারাই বলছেন,' আমারা জানতাম আওয়ামীলীগ এইরকম করবে, গাছে তুলে মই কেড়ে নিবে, আওয়ামিলীগ কে চিনে রাখলাম, তাদের অপকর্মকে মেনে নেইনি' ইত্যাদি ইত্যাদি; তখন তাদের এই বর্ন চোরা স্টাইল আর স্টাটাস দেখে এই বরফ শীতল দিনেও  বেশ উষ্ণতা বোধ করি। বিনা গ্যাস ইলেকট্রিক খরচে এই উষ্ণতা আসলেই তুলনাহীন। অন্য অনেকের সব স্ট্যাটাস পড়ার সুযোগ হয়না, তবে কিছুদিন যাবত নিজুম মজুমদারের স্টাটাস গুলো পড়ি মনেযোগ দিয়ে। আর যাই হোক  এ দেশে থেকে আমাদের দেশের প্রচলিত চিন্তা ভাবনা থেকে হয়ত উনার চিন্তা ভাবনা একটু ভিন্ন হবে, কিন্তু না যে চর্বন একবার উনি শুরু করেছেন, সেই চর্বিত চর্বন ই এই শীতের দেশে এসেও চালিয়ে যাচ্ছেন, ‘লন্ডনীস্টাইলে। এখনো উনারা মাদ্রাসা শিক্ষা কে জঙ্গি উৎপাদনের উর্বর ক্ষেত্র হিসেবেই দেখেন। ধর্মীয় অনুভূতির বাহ্যিক চরম প্রকাশ কে দেখেন মৌলবাদির উথ্বান কে। আমার হাসি পায় এদের চিন্তা ভাবনার গোড়ামি দেখে। এরা এখনও রয়ে গেছেন সেই একই কাসুন্দি গাওয়াতে ।  অবশ্য এর বাহিরে গিয়ে কোন কাসুন্দি গাওয়ার মোলিক কোন সৎ ইচ্ছা আছে কিনা সেটাও ভাবার বিষয়। তবে একটা ব্যাপার উনাদের বলতে চাই, যদি বেয়াদবি না নেন, আপনারা ছলে, কৌশলে, কথার মার প্যাচে, যেভাবেই ইসলামিক এই সংগবদ্ধতাকে মৌলবাদহিসেবে আখ্যায়িত করেন না কেন, এই মৌলবাদ থাকবেই, অন্তত আপানাদের মত বর্নচোরা ব্লগার আর মুক্তমনারাথাকবেন।আপনারা তাদের হাতে তীর তুলে দিবেন আর তারা সেটা হাতে করে সাজিয়ে সুজিয়ে আয়জন করে নৌ বিহারে যাবেন সেটা  নিশ্চই আপনারা ভাবেন না? আরেকটি ব্যাপার  না বললেই নয়। ১৯৯৬ সালেও আওয়ামীলীগ যখন ক্ষমতায় এসেছিল, তখনও কিন্তু মৌলবাদজুজু দেখিয়ে ইসলামিক কমন প্লাটফর্ম কে আপনারা প্রশ্ন বিদ্ধ করতে চেয়ে ছিলেন, পেরেছেন কিনা, সে উত্তর আপনারাই ভালো জানেন। এইবার এসেওই সেই একই জুজু তবে শব্দ নির্বাচনে বৈচিত্রতা এনেছেন সন্দেহ নেই। জঙ্গিমুক্তি যুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি, স্বাধিনতা বিরোধী চক্র, 'যুদ্ধাপরাধিদের বাঁচানোর জন্য একটি বিশেষ মহল' ইত্যাকার শব্দ চয়নে আপনারা সৃ্ষ্টি করেছেন বাংলা শব্দ ভান্ডারে এক নতুন মাত্রা, সন্দেহ নেই। জামাত বিরোধিতাকরতে গিয়ে এক সময় আপনারা অন্য একটি শ্বাপদীয় খোলস গায়ে জড়িয়েছেন, সেই উপলব্ধি আসছে, কিংবা আসতে আরো সময় নিবে হয়ত, কিন্তু আসবেই, সেটা আজ কাল, কিংবা অনেক অনেক বছর পর। সাময়িক উন্মাদনা নিজের অস্তিত্যকে জানিয়ে দিতে সাহায্য করলেও আসলে কিন্তু ক্ষয় সেখান থেকেই শুরু। আপনাদেরও শুরু হয়েছে, শুধু ফিলকরছেন না এই যা ! আর যেটা সবচেয়ে ভয়ংকর, সেটা হচ্ছে এই ক্ষেত্রে জামাত-শিবির আর আপনাদের সাইকোলজিক্যাল মিল কিন্তু খুভই সুক্ষ, ক্ষেত্র বিশেষে স্থূলও বটে। আপনাদের প্রতি শুভ কামনা।

 আচ্ছা হেফাজতে ইসলাম এর লং মার্চ নিয়ে জামাত-শিবির এর এত আগ্রহ কেন? বি এন পিও কম যাচ্ছে না তলে তলে। কারণটা কি? হেফাজতে ইসলাম তো কোন রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে আসছে না। তাহলে এইসব রাজনৈতিক দলের নিদহীন রাত্রী যাপনের অর্থ কি ? হ্যাঁ, এখানে আপনাদের অনেকেরই সাথে আমার সহমত। জামাত-শিবির চাচ্ছে এই লং মার্চ থেকে ফায়দা লুটতে, বিএনপি চাইছে নির্ভেজাল মসনদের সিড়ি। শুনেছি এরশাদ সাহেবের জাতীয় পার্টিও লং মার্চ এ পানি পান করিয়ে অশেষ সোয়াব হাসিল করার সুযোগ হাত ছাড়া করতে চাচ্ছে না। যদিও আমাদের কুঠিল মন(!) এর অন্য অর্থ করে নিচ্ছে। কিছু কিছু জ্ঞানপাপীরা জামাত ও হেফাজতে ইসলামের কাজ কর্ম প্রক্রিয়া কে সমধাচে ফেলতে চাচ্ছেন । তারা জানেন না যে তা নয়, ভালো করেই জানেন, শুধু নিজেদের জাবড় কাটাকে আরো সুস্বাধু করার জন্যই জামাত ও হেফাজত কে একচোখে দেখেন। অথচ কোন কওমি মাদ্রাসায় জামাতের বা শিবিরের নাম গন্ধ শুনলেই একজন শিক্ষকের চাকরী ঠেকানো দায় হবে, ছাত্রকে গুড বাই বলা হবে তৎক্ষনাত। এখনও এই ওপেন লং মার্চএ যদি শিবির বা জামাত যোগ দেয় তার দায় হেফাজতে ইসলাম নিতে প্রস্তুত হবে কিনা সেটাও ভাবার ব্যাপার।
এর থেকেও কিছু কিছু জেগে ঘুমানোদের হুঁশ আসছে না যে, ‘হেফাজতে ইসলামহচ্ছে একটা পাকা ফল, এই ফলের গ্রহণযোগ্যতা আছে মুটামুটি সবার কাছেই। তাই সব রাজনৈতিক দল ই চাচ্ছে এই ফলটাকে নিজেদের ঘরে নিতে। এই সহজ সমীকরনটাতে যারা হাইয়ার ম্যাথ এর সুত্র ব্যবহার করতে চান আর যাই হোক আপনাদের উচ্চ জ্ঞান আর শিক্ষার তারীফ না করে পারি না। জয় হোক আপনাদের কৃত্তিম অহমের।

 হেফাজতে ইসলামের মৌলিক নেতৃবিন্দের দৃষ্টি শুধু একটি বিষয়ের প্রতি রাখার অনুরোধ করব। আপাতত এই সময়ে আপনারা কোন দলের গিনপিগ হবেন না। আপনাদের কাধে বন্দুক রেখে কূট শিকারীদের বড় শিকারের সুযোগ করে দিবেন না প্লিজ। আপনাদের আশ পাশের লোক জনদের কে চিনুন, বুজুন, অনাকাঙ্কিতদের কানটা ধরে বের করে দিন। বাংলাদেশে একটি বিরাট অংশের বিশ্বাস আর শ্রদ্ধার সাথে সামান্য ভুল সিদ্ধান্ত বা কথার মাধ্যমে বালি মিশিয়ে দিবেন না। বিশেষ করে জামাত ও শিবির- এর দিকে একটু বিশেষ নজর রাখবেন। ইনশাল্লাহ আপনারা সফলকাম হবেন ই। 

Monday, 25 March 2013

YOUNG.BRITISH.FEMALE.MUSLIM


সালটা ছিল ২০১০,২৯শে মে । সানডে টাইমসে ছাপা হয় Sarah Harris এর এক যুগান্তকারী রিপোর্ট, সাথে সাক্ষাৎকার। (রিপোর্টটি সম্পুর্ন পড়া যাবে না যদি না আপনি দি টাইমস / সানডে টাইমস এর পেইড সাস্ক্রাইভড মেম্বার না হন)। রিপোর্টা ছিল বর্তমান ইউ কে তে ক্রমবর্ধমান মুসলিম জনগোষ্ঠী ও তুলনামূলক বৃটিশ তরুণীদের মধ্যে ইসলাম ধর্মে প্রত্যাবর্তনএর উপর। রিপোর্টটি ছিল তথ্য নির্ভর ও নও মুসলিমদের সাক্ষাৎকার ভিত্তিক ফলে পুরো রিপোর্টটি আবেগ বা পক্ষপাত দুষ্ট থেকে মুক্ত। আমার মনে হয় ঐ রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে অন্য সবাই এই কথা ব্যাপক প্রচার করেছেন যে ইউ,কে তে বৃটিশ তরুণীদের মধ্যে ইসলাম গ্রহণ করার হার বেশি। আমি এখন পর্যন্ত ঐ রিপোর্টের কোন লিংক বা বাংলায় ভাষান্তরিত পূর্ণ রিপোর্টটি কোথাও পড়িনি।
গত সপ্তাহ দুই আগে কয়েকজন মুসলিম তরুণ কে ইংল্যান্ডের একটি কোর্ট সন্ত্রাসী কাজের পরিকল্পনাকারী হিসেবে দোষী সাব্যস্থ করে। তাদের কে অলিম্পিক পার্কের নিকটবর্তী একটি টাউন থেকে পুলিশ এরেস্ট করে জুলাই এর ৭ তারিখ, ২০১২, 
এর ই একদিন আগে মহাসড়কে রুটিন টহল কালে আরও সাত জন কে আটক করে পুলিশ; 
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী তারা একটি গাড়ি আটক করে ইনস্যুরেন্স না থাকার কারনে। তখন গাড়ির ভিতর সার্চ করতে গিয়ে পুলিশ আগ্নেয়াস্ত্র সহ ভিবিন্ন যন্ত্রানাদি পায়।
এইসব নিউজ পড়লে আর মুখ দেখানোর উপায় থাকে না, একে তো মিডিয়া গুলো মুসলিম কমিউনিটিতে বা মুসলিম নামের কারো পান থেকে চুন খসলেই সংবাদের শিরোনাম করতে দ্বিধা করে না, সে ক্ষেত্রে এইরকম ঘটনাতো তাদের কাছে ৭/৭ এর মতো। আর সবচেয়ে মারাত্বক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে আমাদের উপর যখন সেই সব নিউজ প্রথম পৃষ্ঠায় বড় করে ছবিসহ ছাপায়। এতে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলেও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে শত ভাগ। তারাএমনভাবে কথা বলবে যে যাকে আমরা বলি মিটা জুতাদেওয়া। এই ব্যাপারটা আসলে বলে বুজাবার না, ভুক্তভোগী মাত্রই জানে সে যন্ত্রণা কতটা নিষ্ঠুর। ইদানীং অনেক কেই দেখি তাই সহজে মুসলিম পরিচয় দিতে দ্বিধা বোধ করেন। অবশ্য সেটা তাদের ক্ষুদ্র ব্যাক্তি স্বার্থের জন্যই করেন বলে আমার কাছে মনে হয়। অনেকে আবার তখন সামনে আনেন বাঙ্গালীত্ব / বাংলাদেশিত্ব। যতোটা না দেশবোধ বা জাতীবোধ থেকে তারচেয়ে বেশি এটা করেন হীনমন্যতার কারনে।
তো, সবচেয়ে কষ্টদায়ক হচ্ছে সে দোষীদের মধ্যে এমন একজন ছিল যে কিনা নও মুসলিম। শুধু তাই না উনি, রিচার্ড ডার্ট, ধর্মান্তরিত হওয়ার আগে দু বছরের মত মেট্রোপলিটন পুলিশ বিভাগে কাজ করেছেন খুবই দক্ষতার সাথে। কিন্তু ধর্মান্তরিত হওয়ার পর তাঁর এইরকম চরমপন্থি অবস্থান বেছে নেওয়ায় অন্যদের কাছে  সহজেই এই ক্ষুদ্র অংশ একটি নেগেটিভ ম্যাসেজ দেয় ইসলাম সম্পর্কে। আমি এর পেছনের কারন, কারা এদেরকে চরম পন্থা বেচে নিতে উৎসাহ দেয় কিংবা এইসব চরম পন্থা বেচে নেবার পক্ষে ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি কি, সেইসব এখানে আলোচনা করতে চাচ্ছি না, তবে এটুকু বলতে পারি তারা যে দোষী ইউ,কের প্রচলিত আইনে, তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। জাস্টিস এর ক্ষেত্রে এখনো এখানকার যে কোন কোর্ট তথাকথিত ইসলামিক দেশের যেকোনো কোর্টের চেয়ে অনেক বেশি দায়িত্বশীল, হাতে গোনা দু চারটি ঘটনা ছাড়া।  
এইসব শুনে এবং পড়ে মনটা স্বাভাবিক ভাবেই অস্থির থাকে। একদিকে অমুসলিমরা ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আসছে দলে দলে আবার অন্যদিকে আমাদের মধ্য থেকেই অনেকে জড়িয়ে পড়ছে চরমপন্থি কর্মকাণ্ডে। সেদিন আমার উইন্ডোজ স্কাই ড্রাইভ এ পুরনো ফাইলগুলো সর্টিং করতে গিয়ে এই রিপোর্টটি চোখে পড়ল। ২০১০ সালেই আমি ম্যাগাজিন থেকে ঐ অংশটুকু স্ক্যান করে রাখি। ঐ সময়ে আই ফোন থ্রি জি এস দিয়ে স্ক্যান করার কারণে ততটা পরিষ্কার আসেনি, কিন্তু পড়া যায় অপেক্ষাকৃত বেশি চোখটার উপর প্রেসার দিয়ে।

তখনই মাথায় আসল এই রিপোর্টটির বাংলা অনুবাদ করলে কেমন হয়? শুরু করলাম কিন্তু সমস্যা বাধল বাংলা প্রতি শব্দ নির্বাচনে। বাক্যটি আমি বুজতে পারছি কিন্তু বাংলায় লিখে প্রকাশ করার জন্য যুতসই শব্দ পাচ্ছিনা। কোন কোন ক্ষেত্রে আক্ষরিক অনুবাদ করতে পারলেও বাক্যের মধ্যে শব্দের বিন্যাস কিছুতেই করতে পারছিনা। তাই, মেনে নিলাম চর্চা না থাকলে অনেক কিছুই নিজের অনিচ্ছা সত্বেও ছেড়ে দিতে হয়। এবং আরও রূঢ়ভাবে এই সত্যটাকে মেনে নিলাম অনুবাদ কর্ম সহজ সাধ্য নয়। একটি ভাষা জানলেই যে তাকে সহজে নিজ মাতৃভাষায় ভাষান্তরিত করতে পারব, এই রকম ভাবটাই বড় একটা বোকামি। যেহেতু আমি প্রফেশনাল অনুবাদক নই, তাই এই লেখার সাথে মুল রিপোর্টটির স্ক্যান করা অংশ গুলোও জুড়ে দিলাম। এমনতো হতে পারে আমি যেমন করে একটি বাক্য কে বুজেছি আসলে সেটি সেরকম বুজায় না। এই সহজ সত্য অনেকে বুজতে পারেন না বলেই ধর্মীয় ব্যাপারে অতিমাত্রায় ভুল বুজাবুজির প্রাদুর্ভাব।
এই রিপোর্টটিতে
*Joanne Bailey, solicitor 30,Bradford;
* Aqeela Lindsay, Housewife & mother 26 leads; 
*Sukina Douglas, spoken-word poet,28, London; 
*Catherine Huntley, Retail assistant, 21, Bournemouth;
*Catherine Heseltine, Nursery school, teacher, 31, North London

মোট ৫ জন তরুণীর ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার আগে ও পরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে

আজ আমি রিপোর্টটির ভূমিকা সহ রিপোর্টটিতে বর্ণিত Joannae Bailely- এর  অভিজ্ঞতা আপনাদের  জন্য এখানে হুবহু অনুবাদ করে তুলে ধরছি, বাকি চারজনেরটাও আশা করি আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আপনাদের সামনে আনতে পারব আশা করি, তবে শর্ত একটাই, আপনাদের ফিডব্যাক। ভাল/খারাপ যে কোন ফিডব্যাক ই আমার পরবর্তী অনুবাদ কর্মের সলতেতে তৈল পাবে বলে আমি বিশ্বাস করি। 

                   YOUNG.BRITISH.FEMALE.MUSLIM
                    MEET THE NEW CONVERTS 
                   মূল রিপোর্ট - Sarah Harris
                  ভাষান্তর-     সৈ য় দ কা ম রা ন আ হ মে দ

মুসলিম মেয়েদের মৌলিক হেডস্কার্প হিসেবে হিজাব পরা নিয়ে বৃটিশ মহিলাদের জন্য এখন একটি বিতর্কিত সময়। গত মাসে ইউরোপিয়ান প্রথম দেশ হিসেবে বেলজিয়াম বোরকা নিষিদ্ধ করতে আইন পাশ করে, কারন হিসেবে তারা বোরকা কে মহিলাদের আত্ম সম্মানের প্রতি হুমকি বলে উল্লেখ করেছে। একি সিদ্ধান্ত নেয়ার পথে ফ্রান্স। এ মাসের প্রথম দিকে একটি পোস্ট অফিসের বাহিরে নেকাব পরার কারণে একজন মুসলিম মহিলাকে ৫০০ ইউরো জরিমানা করে ইতালি।
বর্তমানে যেখানে মোট জনসংখ্যার ২ শতাংশেরও কম লোক চার্চ অব ইংল্যান্ডের সাপ্তাহিক প্রার্থনা সভায় অংশ নেয় সেখানে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত মহিলাদের সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলছে। রিসেন্ট পার্কে অবস্থিত লন্ডন সেন্ট্রাল মাসজিদ’ ; যেখানে নও মুসলিমরা তাদের  ধর্মীয় বিশ্বাসের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়, তাদের প্রায় দুই তৃতীয়াংশই মহিলা এবং অধিকাংশের বয়সই ত্রিশ বছরের নীচে।
ধর্মান্তরের পরিসংখ্যান সুনির্দিষ্ট না হলেও ২০০১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী মুসলিম ধর্মান্তরিত বৃটিশ মহিলাদের সংখ্যা ছিল কমপক্ষে ৩০,০০০। Sawn sea - বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘Central for Migration Policy Research’ বিভাগের কেভিন ব্রাইস এর মতে এ সংখ্যা বর্তমানে ৫০,০০০ এর কাছাকাছি এবং অধিকাংশই মহিলা। ব্রাইস নিশ্চিত করেন যে, প্রাথমিক পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, এই ক্রম বর্ধমান ধর্মান্তরন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া কুড়ি থেকে ত্রিশ বছরের তরুণীদের মধ্যে থেকেই হচ্ছে বেশি। Dr Mohammad Seddon, lecturer in Islamic studies at the university of chester, তিনি তার এক ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেন যে, ‘আমাদের বহুজাতিক ২১ শতাব্দীর মুক্ত সমাজ হচ্ছে এমন, যেখানে আমরা আমাদের নিজস্ব ক্যারিয়ার, রাজনৈতিক মতাদর্শ পছন্দ করে নিতে পারি, বেচে নিতে পারি আমরা কে কোন ধর্ম বিশ্বাসী হবআমরা এখন ধর্মীয় সুপারমার্কেটএ বাস করছি’- বলেন তিনি। 

JOANNE BAILEY, Solicitor,30, Bradford.

প্রথমবারের মত আমি যখন অফিসে হিজাব পড়ি, আমি খুবই নার্ভাস ছিলাম। আমি বাহিরে দাঁড়িয়ে আমার বন্ধুর সাথে অনেক্ষন ফোনে কথা বলছিলাম। দুনিয়া শুদ্ধ সবাই কি বলবে?
আমি যখন হেটে ভিতরে প্রবেশ করলাম দুজন লোক আমাকে জিজ্ঞেস করল তুমি কেন এই স্কার্প পড়েছ। আমি জানতাম না যে তুমি একজন মুসলিম
আমি হচ্ছি সেই ব্যাক্তি যাকে ইসলামে ধর্মান্তরিত হওয়ার ক্ষেত্রে সবার শেষে আশা করা যেতে পারে।  সাউথ ইয়রকশিয়ারে আমি ছিলাম স্থায়ীভাবে বেড়ে উঠা কর্মজীবিদের একজন । এমন কি ইউনিভার্সিটিতে যাবার আগ পর্যন্ত আমি হঠাৎ কালে ভদ্রে দু একজন মুসলিম দেখেছি।
Barnsley- তে একটি সলিসিটর ফার্মে আমার প্রথম কর্মজীবন শুরুর দিকে, আমি সচেতনভাবেই চেষ্টা করতাম নিজেকে একজন তরুণ স্বাবলম্বী হিসেবে দেখতে।  অত্যধিক ডায়েটিং, কেনাকাটায়, বারে সময় কাটাতাম, কিন্তু কখনই আমি সত্যিকার অর্থে স্বস্তি বোধ করতাম না।
তারপর, ২০০৪ সালে, সব কিছু কেমন পরিবর্তিত হয়ে গেল। আমি আমার এক মুসলিম বন্ধুর সাথে কফি খেতে খতে আলাপ করার কালে সে আমার গলায় স্বর্ণের ক্রুশদেখতে পায়।
-সে বলল, ‘তুমি স্রষ্টায় বিশ্বাস কর তাহলে’?
-আমি এটা ধর্মীয় দিক থেকে নয় বরং ফ্যাশনের জন্যই পড়ি, আর হ্যাঁ, আমি স্রষ্টায়ও বিশ্বাস করিনা।
তখন সে তার ধর্মীয় বিশ্বাসের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথাবার্তা শুরু করল।
প্রথমে আমি তাকে পাত্তাই দিইনি, কিন্তু তার কথাগুলো আমার মনে গেঁথে গেল। এর কিছুদিন পর দেখি আমি নিজেই অনলাইনে এক কপি কোরআন শরীফ অর্ডার দিচ্ছি! ‘Leeds New Muslims Group’ দ্বারা পরিচালিত স্থানীয় একটি মহিলাদের অনুষ্ঠানে যেতে নিজেকে প্রস্তুত করতে বেশ সময় নিয়েছিল। আমার মনে পড়ে, দরজার বাহিরে দাঁড়িয়ে আমি তখন ভাবছিলাম
- ‘দুর ছাই, আমি এখানে কি করছি?’
আমি কল্পনা করছিলাম, সেখানে থাকবে সবাই পা থাকে মাথা পর্যন্ত কালো কাপড়ে ঢাকা, আমার মত ২৫ বছর বয়সী স্বর্ণ কেশী ইংলিশ মেয়ের সাথে তাদের কি মিল থাকতে পারে? কিন্তু আমি যখন ভিতরে প্রবেশ করলাম, দেখলাম তারা কেউই ঘড়ে আবদ্ধ সচরাচর মুসলিম গৃহিণীদের সাথে খাপ খায় না। বরং তাদের সবাই ছিল কেউ ডাক্তার, কেউ শিক্ষক এবং কেউবা মন বিশেষজ্ঞ। আমি তাদের মধ্যে যে পরিতৃপ্ততা আর দৃঢ়তা দেখেছি, তা দেখে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম। আমি মুসলিম হতে চাই- এই সিদ্ধান্ত নিতে আমি অন্য যে সকল বই পত্র পড়ে এগিয়েছিলাম, তার মধ্যে ঐ যোগসূত্রটাই প্রভাব রেখেছে বেশি।
চার বৎসর পরে ২০০৮ সালে আমি আমার এক বন্ধুর বাসায় আমার নতুন ধর্ম বিশ্বাসের ঘোষণা দেই। প্রথমে আমি খুবই উদ্বিগ্ন ছিলাম এই ভেবে যে আমি বোধহয় সঠিক সিদ্ধান্ত নেইনি। কিন্তু খুব দ্রুতই আমি স্বাভাবিক হয়ে উঠি যেমন ঘটে নতুন একটি চাকরী বা কাজ শুরুর কালে।
এর কিছু মাস পর আমি আমার বাবা মার কাছে বসে বললাম
- ‘ তোমাদের কে আমার কিছু বলার আছে
কিছুক্ষণের জন্য নীরবতা নেমে আসল।
তারপর আমার মা বললেন:
-তুমি মুসলিম হতে যাচ্ছ, তাই নয় কি?’
তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন এবং একের পর এক কথা আমার কাছে জিজ্ঞেস করতে লাগলেন যেমন তুমি বিয়ে করার পর কি হবে, তোমার নিজেকে কি ঢেকে রাখতে হবে, তোমার চাকরীর কি হবে?
আমি তাকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করলাম যে আমি যা তাই (আমার মতই) থাকব। কিন্তু তিনি আমার ভালর চিন্তায় অস্থির ছিলেন।
ইসলাম বিষয়ে অধিকাংশ মানুষ যে সকল বিপরীত চিন্তা করে, ইসলাম আমাকে কোন জবরদস্তি বা নির্যাতন করেনি বরং এটি আমাকে আমার মত হতে সাহায্য করেছে যে রকমটি ছিলাম আমি আমার জীবনভর। আমার যা আছে সেগুলো নিয়ে এখন আমি আরও বেশি সন্তুষ্ট এবং কৃতজ্ঞ। কয়েক মাস আগে একটি প্রশিক্ষণ কোর্সে পরিচয় হওয়া একজন মুসলিম আইনজ্ঞের সাথে বাগদান সম্পন্ন হয়েছে। ক্যারিয়ার বিষয়ে তার সাথে আমার কোন সমস্যাই নেই কিন্তু আমি মুসলিম পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যকার প্রত্যাশিত ইসলামিক নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থার সাথে একমত। আমি চাই আমার বাচ্চা ও সন্তানদের দেখাশুনা করতে এবং আমি আমার স্বাধীনতাও চাই। আমি একজন বৃটিশ হিসেবে গৌরব করি, একজন মুসলিম হিসেবেও গৌরব বোধ করি। এবং আমি তাদের মধ্যে কোন সাংঘর্ষিক কিছু দেখি না।