হেফাজতের আমীর আশিতপর বৃদ্ধ আল্লামা আহ্মদ শফী কে নিয়ে যেরকম কথা বলা হচ্ছে তাতে আর যাই হোক তাদের কে রুচিশীল চিন্তার মানুষ বলে মনে হয় না। কুরুচীশীল মানুষের প্রধান অস্রই হচ্ছে অশ্লীল ভাষা নয়ত গালি। সুতরাং আর কি বলা আছে তাদের কে নিয়ে? তবে আমার কাছে একটা ব্যাপার মনে হচ্ছে যেটা বলেই ফেলি; যারা অন্ধভাবে হেফাজত কে নিয়ে চরম চুলকানি অনুভব করেন তাদের রোগটা আর কিছু না, এটা আমাদের সিলেটি ভাষায় বলে 'দাউদ।' মামুষের গায়ে সেটা যেমন গরূ মহিষদেরও সেটা হয়, বিশেষ করে কাঁধের দিকে। আমাদের বাড়িতে দেখতাম বলদ গুলোর সেকি অস্বস্থি আর চুলকানি সেই দাউদ নিয়ে। কোন কিছু পেলেই সেকি ঘষারে ভাই ? কি বলব, রক্ত বের হয়ে যেত, তারপর সেই 'দাউদ' আক্রান্ত অনশ নিয়ে ঘষামাজা কিন্তু থামাত ন। সেদিঙ্গুলোতে যেমন ব্যাপারটা নিজের কাছে খারাপ লাগত, সেটা চিন্তা করে আজও খারাপ লাগে। এই 'দাউদ' এ আক্রান্ত মানুষদের দেখিছি চরম অস্বস্থি এমন কি তাঁরা সে দাউদ চুলকাতে গিয়ে এমন কিছু করেন যা রীতিমত ভয়ংকর।এখানে সেটা উল্লেখ করে আর তাদেরকে হেয় করবনা। আমার নিজের সেটা না হলে দেখিছি খুব কাছ থেকে। আমাদের অঞ্চলে বাজারে দাউদ আর চুলকানীর ঔষদ বিক্রি করা ক্যনভাসারদের কথাগুলোতো চরম! যারা শুছেন তারাই কেবল জানেন।একটা উল্লেখ করি- 'মাইলর ধরা খাউজওয়ানী, জেগাত খাওজওয়ায়, বে জেগাতও খাওজওয়ায়।' এবার আসি আসল কথায়, হেফাজতের দফা কিংবা হেফাজতে ইসলাম নিজেই কারো কারো কাছে 'দাউদ' বা একটা চুলকানীর রোগ। সুতরাং যখন চুলকানি শুরু হয় তখন আর মনে থাকেনা জায়গা-অজায়গা, স্থান কাল, বয়স কাল।চুলকাতে হয়ই, বলদের মত কিংবা সে আক্রান্ত মানুষটির মত, ভয়ংকর উপায়ে। আর সেটাই দেখছি হেফাজতকে নিয়ে এ যাবৎ কিছু দিন।
স্বীকার করি হেফাজতের দফা নিয়ে দেশ বিদেশের সব বাংলাদেশীই যে একমত হবেন, তাতো না, তাহলে আর দফা দেয়ার দরকারটা কি? কিন্তু যারা দফাগুলোকে ফেলে ব্যক্তি মানুষ নিয়ে লাফালাফি করেন তখন সেটা অরুচিকর শুধু নয়, অমানবিকও বটে।
স্বীকার করি কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক কিংবা ছাত্ররা ততটা আমাদের মত ততটা বৈষয়িক নন। কিন্তু সময়তো বদলেছে।যারা ছাত্র শিক্ষক সম্পর্ক বলতে লাল দল নীল দলের আর ভিসির চেয়ার দখল বুঝেন তাঁরা কওমি মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষক সম্পর্কে চুল পরিমাণও ধারণা নেই। ধারনা থাকলে আল্লামা শফি সাহেব এর হেলিকপ্টার এ চড়া নিয়ে কুটিলতা করতেন না। প্রকৃত শ্রদ্ধা বা সম্মান চেহারা বা আদল দেখে আসে না , আসে হৃদয় থেকে যেটা আমাদের চলমান শিক্ষা ব্যবস্থায় অকল্পনীয়। তাই 'লিল্লাহ খাওয়া হুজরের' হেলিকপ্টার চড়া দেখে যাদের চুলকানি চরমে তাদেরকে কিছু আর বলার নেই, রোগের চিকিৎসা আগে না রোঘীর চিকিৎসা আগে, সেটা হোমিওপ্যাথির যে কোন হাতুড়ে ডাক্তারও বলে দিতে পারবেন।
তাছাড়া দেশের যে অবস্থা, তাতে যে কোন ধর্ম পরায়ন লোক এই অবস্থায় 'হুজুরকে' সহায়তা করবেন, এটা এমন কি আশ্চর্যের ? আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেক কেই জানি যারা এখনও না খেয়ে (!) পকেটের শেষ পেনিটাও হেফাজতের আমীর এর হাতে তুলে দিতে একপায়ে খাঁড়া। তাই প্লিজ, হেফাজতে ইসলাম এর অর্থনৈতিক ব্যাপারটাকে 'আন্ডার এস্টিমেট' করবেন না।
শেষ যে আশঙ্কা আমার সেটা বলে এই প্যাচাল শেষ করছি। বর্তমানে যে ভাবে ভিন্নমতের কারনে ব্যক্তিগতভাবে একে অন্যকে মুখের ভাষা দিয়ে অপমান করছেন, তাতে সন্দেহ সেদিন আর বেশি দূরে নেই ছেলে তা্র 'বাবা কে শালা বলে গালি দিবে' কেননা, পারিবারিক ক্ষেত্রে বিশেষ করে জায়গা জমি বাটরা করতে গিয়ে বাবার সাথে প্রায়ই ছেলেদের মতের মিল হয় না। শুভেচ্ছা সবাই কে।
No comments:
Post a Comment