Thursday, 1 October 2015

সৌদি রাজবংশ নিপাত যাক

সময় এসেছে অযৌক্তিক ধর্মীয় জজবা ঝেড়ে মানবিকতা আর বিবেক বোধ কে জাগ্রত করার।

সময় এসেছে সৌদিআরব নিয়ে আমাদের মোহ ঝেড়ে ফেলার।

অপেক্ষায় আছি বিবেকবান মুসলিম রাস্তায় নেমে আসবে আর স্লোগান দিবে 'সৌদি সরকার নিপাত যাক'।

প্রশ্নাতীত বলা যায় নুপুংশুক সৌদি রাজবংশ মুসলিম উম্মাহর এক নগ্ন কলংক

আমি অবাক হই, ইরাকে আফগানিস্তানে ইরাক ব্রিটেনের বোমা নিক্ষেপে মুসলিম দেশগুলোতে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। নিরীহ নারী শিশু হত্যার জন্য তাদের প্রতি আমাদের ঘৃণায় থুথু আসে অথচ সেই একই অপকর্ম সৌদি যখন ইয়ামনের নিরীহ মানুষদের হত্যা করছে, আমরা বসে বসে তামাশা দেখছি!

গতকাল সৌদি বোমায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের ৪৫ (সর্বশেষ সংবাদ অনুযায়ী এ সংখ্যা ১৫০)

নিরপরাধ মানুষ নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে অনেক।

কিন্তু কি নির্লজ্জ আমরা! আমরা নির্বিকার! যেন সৌদি সরকারের বোমায় মানুষ হত্যায় যেন কোন পাপ নেই!

দুর্ভাগ্য মুসলিম উম্মাহর। কোটি কোটি মুসলিমদের প্রানের স্পন্দন যে মক্কা, তার তত্ত্বাবধানে আছে এই ঘাতকরা।

আমি সে দিনের অপেক্ষায়, রাস্তায় রাস্তায় সৌদি সরকার আর রাজবংশের নিপাত কামনা করে প্রতিটি মুসলিম দেশের জনগনের কন্ঠ উচ্চকিত হবে, এমন কি হতে পারে সৌদি রাজার কুশপুত্তলিকা পুড়ানো হবে, পুড়ানো হবে সৌদি আরবের ফ্লাগ।

Wednesday, 3 June 2015

বিশ্বাসহীন বিশ্বাসী

মাজে মাজে ভাবি, আসলেই কি কেউ 'প্রকৃতিগতভাবে অবিশ্বাসী' হতে পারে? আর যদি কেউ হয়েও থাকে, সেটা কিভাবে বাস্তব সম্মত? ধর্মের বর্ণিত সৃষ্টিকর্তা ধারণার সাথে নিজে কেউ ভিন্নতর মত পোষণ করতে পারে কিন্তু সৃষ্টিকর্তার ধারণার সাথে যে অদৃশ্য শক্তির সহাবস্থান, তা অস্বীকার করার মত জ্ঞানী বা যুক্তিবাদী কেউ আছে বলে আমার মনে হয় না।
আমার প্রিয় একজন কাষ্টমার, রক এন্ড রল আইডল, টপ টু বটম। যার দাড়ি নেমে পেঠের নিম্নাংশ পর্যন্ত প্রলম্বিত। সাধারণত আমার ধারনা ছিল যারা রক এন্ড রল টাইপ, প্রচন্ড শব্দের মোটর বাইক চালায় তারা রুক্ষ হয়, ব্যবহারে হয় আগ্রেসিভ। কিন্তু এই লোকটার সাথে পরিচয় হওয়ার পর আমার সে ধারণায় চির ধরেছে। সেই যাই হোক।
লোকটির সাথে আমার প্রায়শই ধর্ম সমাজ রাজনীতি নিয়ে কথা হয়। এমনকি বর্ণবাদ নিয়েও।( বলে রাখা ভাল, লোকটির অরিজিন সাউথ আফ্রিকা, এবং শ্বেতাঙ্গ।)
এই লোকটির সাথে যুক্তি তর্কের এক পর্যায়ে আমার নিজের নতুন এক উপলব্ধি জন্ম নিল? ঐ, আসলেই কি কেউ 'পরম অবিশ্বাসী' হতে পারে? না পারে না। সে যতই আধুনিক ধারণার সাথে পরিচিত হোক, বিজ্ঞানের চরম অনুগত হোক না কেন, তার দৈনিক জীবনের অধিকাংশ সময়ই কাটে বিশ্বাসের মধ্য দিয়ে।
আবার যদি বলা হয় বিশ্বাস আর আস্থা এক নয়, তবে সেটা ধরে নিয়েও কেই কি আস্থাহীন জীবন যাপন কিংবা ধারণ করতে পারে? অসম্ভব। 
এই যে রক এন্ড রোল মানুষটির কথা বলছি- সে যদিও প্রচলিত (সাধারণত খিশ্চিয়ান) ধর্মীয় স্রষ্টার ধারণার সাথে ভিন্নমত পোষন করে, কিন্তু একটি অদৃশ্য শক্তিতে সেও বিশ্বাস করে। না সেটি 'ডেভিল ওয়ারশিপ' নয়, প্রকৃত। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে সে সেই শক্তিকে বিনা প্রশ্নে মেনে নিতে নারাজ যেটাকে সে কখনো বলে 'সেন্স' কখনওবা আখ্যায়িত করে নলেজ হিসেবে।
আমরা, আমাদের জীবনটাই সম্পুর্ণ আস্থা বা বিশ্বাসের উপর নির্ভরশীল। চারপাশে যে দিকেই তাকাই, দেখি বিশ্বাস আর আস্থার উপস্থিতি। বিশ্বাস আর আস্থাহীন জীবন স্থবির।
হাইওয়েতে ৭০ - ৯০ মাইল গতিতে চলা হাজার হাজার মোটর বাহন চলে বিশ্বাস আর আস্থার উপর। হাজার ফুট উপর দিয়ে চলা বিমান থেকে শুরু করে সাগরে মাছ শিকারি ডিঙি নৌকার মানুষ গুলোর জীবনে দেখি সেই একই আস্থা আর বিশ্বাস। সুউচ্চ অট্টালিকা নির্মানে শত ফুট উচ্চতা থেকে শুরু করে খনির নীচে কাজ করা শ্রমিকরা প্রতিটি দিন শুরু হয় বিশ্বাস দিয়ে।
আর যে জটিল মনস্থাত্ত্বিক সম্পর্কে মানব জীবন গতিময় সেটিও সম্পুর্ণ আস্থা আর বিশ্বাস নির্ভর।
তবে কি করে কেউ দাবী করতে পারে, সে অবিশ্বাসী।
জাগতিক এই বিশ্বাস আর আস্থার গোলকে বন্ধী আমি আমরা হয়ত দ্বিধাগ্রস্ত, শংসিত কিন্তু অবিশ্বাসী? না, সেটি অসম্ভব। অবাস্তব; যদি না কেউ মানসিকভাবে অসুস্থ কিংবা অস্থিরতা দ্বারা প্রভাবিত।
বিশ্বাস আর আস্থার এই সীমাকে কেউ যদি নিয়ে যায় সীমাহীনতায়, অসীম কোন শক্তিতে- অবলীলায় বলা যায়- সে বিশ্বাস আর আস্থা জাগতিক বিশ্বাস আর আস্থার চেয়ে শ্রেয়তর- কিংবা বলা যায় 'এডভাঞ্চারাস'।

Wednesday, 29 April 2015

পয়লা বৈশাখে নারীদের শ্লীলতাহানি, অন্যদৃষ্টিতে

ঢাবি ক্যাম্পাস সহ অন্যান্য যে সকল স্থানে বৈশাখ উদযাপন করতে গিয়ে মেয়ে-নারীরা সেক্সুয়ালী এবিউজড হয়েছে, ইতিমধ্যে কথার কথা হয়ে গেছে অনেক।
কিন্তু আমার কথা হচ্ছে- সমগ্র বাংলাদেশ যেখানে ধর্ষিত, সেখানে নাগরিকদের এমন দু চারটি অনাখাংকিত ঘটনায় খুব বেশি 'উতলামী' ঠিক মানায় না।
অনেকেই দৃষ্টান্তস্বরূপ শাস্তি দাবী করেছেন। এটা হচ্ছে বইয়ের ভাষা। কেননা, তারা ভাল করেই জানেন, বিচার যে বা যারা করবে, তাদের সেই নৈতিক কাঠামো ভেঙে গেছে অনেক আগেই।
রাষ্ট্রের কাঠামোগত গঠন যতই চাকচিক্যময় হোক না কেন, রাষ্ট্রের যে প্রান, সরকার- সে নিজেই ধর্ষকামী হলে তাকে দিয়ে আর যাই হোক, নৈতিক মানদণ্ডের কোন কাজের আশা করাটা একই রকম অপরাধ। কেননা তাতে পরোক্ষভাবে মেনে নেওয়া হচ্ছে সেই ধর্ষকামীকে, যে আমার আখাংকা পুরন করতে সক্ষম। এটি এথিকসের সাথে সাংঘর্ষিক। কেননা একজন খুনী আরেক জন খুনীর বিচার করার নৈতিক অধিকার রাখে না, একজন ধর্ষক পারে না আরেকজন ধর্ষকের বিচার করতে।
আবার যদি বলালা হয়, তবুওতো আছে একটা সরকার। হ্যাঁ সেটাও ঠিক, আছে একখান সরকার, যেমন আছে সিরিয়ায়, আছে জিম্বাবুয়ে, এমনকি ইরাকে যে আইসিস এক তৃতীয়াংশ দখল করেছে, তাদেরও কিন্তু একটা সরকার কাঠামো আছে। সুতরাং সিভিলাইজড সমাজে সরকারের কাঠামোগত অস্তিত্ব থাকাটাই আসল কথা নয়, বরং সেই সরকারের গুনগত উপস্থিতি ও কাজের উপর নির্ভর করে সেই সরকার একটি রাষ্ট্র ও জনগনেরর উপর নিজেদের শাসন প্রক্রিয়া চালানোর নৈতিক অধিকার রাখে কিনা। বাংলাদেশে চলমান আক্ষরিক সরকার এর একটা উদাহরন।
সুতরাং, বিচার চাওয়ার আগে আমাকে ভাবতে হবে বিচারটা আমি চাইব কার কাছে।
দ্বিতীয় যে ব্যাপারটি, এবং ভয়াবহ, সেটি হচ্ছে- এই রকম আচরণ যারা ঘটায় তাদের মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়া। হয়ত আমরা মনে করছি, গুটি কয়েক ছেলে পুরুষ এই অপকর্ম গুলো করেছে। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে কিন্তু সেটি নয়। যে মনস্তাত্ত্বিক বিকৃতি থেকে তারা এই নোংরামি করেছে, সেই একই মনস্তাত্ত্বিক আচরণগত ক্রিয়া আমাদের বিশাল একটি সংখ্যার মধ্যেও রয়েছে। আমরা অনেকেই কাজে না হোক, চিন্তায় এবং কথায় তাদের থেকে একটুও কম নয়।
ভেবে দেখুন:
# আমরা কি নিজ নিজ অবস্থান সাপেক্ষ নিজেদের 'পাওয়ার স' করি না। ফ্যামিলিতে, সমাজে এবং রাষ্ট্র ক্ষমতায়।
# সংখ্যাধিক্যের সুবিধা নিয়ে আমরা কি প্রতিপক্ষের, এমন কি কাছের মানুষের অনিষ্ট করি না?
# শুধু বাংলাদেশেই নয়, সমগ্র পৃথিবীতেই নারী অবলা। আইন দিয়ে নারীর ক্ষমতা নিশ্চিত করা আর প্রকৃত নারীর অকৃত্রিম ক্ষমতা ভিন্ন জিনিস।
যে সমাজ যৌনতা দিয়ে 'সুন্দর'কে সংজ্ঞায়িত করে, নারীকে মুল্যায়ন করা হয় শারীরিক গঠন দিয়ে, অস্বীকার করা হয় নারীর মনুষ্যত্বকে, সেখানে নারীর প্রতি কি ধরনের আচরণ সমাজ থেকে আশা করা যেতে পারে।
পয়লা বৈশাখের ঘটনা শুধু কেবল একটি বিচ্ছিন্ন গুটি কয়েক বখাটের আচরণ নয়, বরং এটি একটি সমাজের চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ। সেই সমাজের বিশাল একটি অংশের বিচার বা শাস্তি নিশ্চিত করবে কে? 'ঠগ বাছতে গিয়ে গাঁ উজার' করার অবস্থা হবে তখন।