Monday, 2 January 2017

বৃক্ষ জীবন; মানবের বৃক্ষ

বলছি না যে সকালটা অন্য আর সকালগুলোর মতই ছিল। উয়িন্ডি, রেইনি এন্ড কোল্ড। স্বভাবত এভাবেই বর্ণনাটা যুতসই। গাড়ি পার্ক করে কর্মস্থানে প্রবেশ করার আগে কিছুটা হাটা পথ। অন্য দিনগুলোর মতই হাঁটছিলাম। মাথায় তুলে নেওয়া হুডি বাতাসের ঝাপটায় মাথা থেকে সরে যাচ্ছিল। অনেক খানি সামনের দিকে টেনে নিতে গিয়েই চোখে পড়ল এই দৃশ্য। থমকে দাঁড়ালাম। কি একটা তীক্ষ্ণ উপলব্ধি বিদ্যুৎ গতিতে মাথায় খেলে গেল। তার পর সেই উপলব্ধির একের পর এক ব্যবচ্ছেদ। নিজের মনে প্রশ্ন, নিজের মনেই উত্তর আসে। কিন্তু যে উপলব্ধির তীক্ষ্ণতা বোধ আর উপলব্ধির মাত্রাকে পাশ খাটিয়ে অন্য এক মাত্রায় দুলতে থাকে, তাকে কি এই কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার সময় বাধ্যবাধকতার মইয়ে ছোঁওয়া যায়? তাই ভিডিও করে নিলাম। তার পর অনেকদিন গেছে। বেশ কয়েকবার দেখেছি। যেই সময়ে আমি ভিডিওটি রেকর্ড করি, সেই সময়ের অনুভূতি ফিরে আসছিল না।
কিছুক্ষণের মধ্যেই নতুন ইংরেজি বর্ষ ২০১৭। অর্থাৎ ২০১৬ এর বিদায়। মানে ঝড়ে যাওয়া আরেকটি বছর।
এই বাতাসের সাথে উড়ে যাওয়া পাতা, এই যে ক্ষণ, অনেক ভাবেই আমি একে উচ্চারণ করেছি। ঝড়ে যাওয়া, খসে পরা, ছিটকে পরা, মরে যাওয়া, পরে যাওয়া। কি থেকে বা কার থেকে অথবা কোথায় থেকে প্রশ্নের উত্তর অবশ্য একটাই, বৃক্ষ থেকে। যদিও বৃক্ষ কে ছোট, বড় কিংবা বট গাছ ইত্যাকার বিশেষণ জুড়ে দেওয়া যায় কিন্তু উৎসমুখ তো একটাই, বৃক্ষ।

শুনেই তো আসছি, মানব জীবন আর বৃক্ষ জীবন বেশ কিংবা অনেকটাই সাদৃশ্যপূর্ণ।

এই  গাছের পাতার মতই মানব জীবন ঝরে যায়। সময় হলে। ছোটকালে বাবার কাছে একটি গল্প না ঠিক, মিথ, প্রায় শুনতাম। যখন স্বচ্ছ চাঁদ আকাশে দেখা দিত। বাবা চাঁদের দেশের বিরাট গাছ কে দেখিয়ে বলতেন যখন ঐ চাঁদের গাছে নতুন পাতা জন্ম নেয় তখন সেই পাতায় যার নাম লেখা থাকে দুনিয়াতে তার জন্ম হয়। আর যখন ঐ চাঁদের গাছের একটি পাতা ঝরে পরে তখন দুনিয়াতে সেই পাতায় লেখা যার নাম তার মৃত্যু হয়।

এই গাছের পাতার মতই আমরা ঝরে পড়ছি, খসে পড়ছি, ছিটকে পরছি, পতিত হচ্ছি। উড়ে যাচ্ছি। কিন্তু কার থেকে, কি থেকে সেটা বেশ একটু জটিলই। বৃক্ষ জীবন আর মানব জীবন সম ভেবে সহজেই বলতে পারতাম, পাতা যেমন গাছ থেকে আমরা তেমনি জীবন থেকে। কিন্তু সেই বলা কি সঠিক হত?

আমাদের তো জীবনকালে ছিটকে, খসে, পতিত হওয়ার আগেই অনেকবার ছিটকে,খসে, পতনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। পরিবার থেকে, সমাজ থেকে, ভালোবাসার মানুষের কাছ থেকে। স্বপ্নের কাছ থেকে, কাঙ্ক্ষিত বাসনা, কামনা আর আপন বলয় থেকে। পাতার মত উরে উরে কোথায় যে যাই, কারো উঠোনে, দরজার সামনে কিংবা চালে। পিচ ঢালা রাস্তায় নয়ত গ্রামের কোন মেঠো পথে। নিজের বৃক্ষ জীবনের কাছে কি যাই কখনো ফিরে? না।
তাই, আমার কাছে, জীবন থেকে খসে পরা, ছিটকে পরা শুরু জীবন শুরুর সাথে সাথেই। মায়ের কোল থেকেই যার শুরু।
কিন্তু বার বার একই প্রশ্ন, তাহলে আমার বৃক্ষ কে?





Thursday, 1 October 2015

সৌদি রাজবংশ নিপাত যাক

সময় এসেছে অযৌক্তিক ধর্মীয় জজবা ঝেড়ে মানবিকতা আর বিবেক বোধ কে জাগ্রত করার।

সময় এসেছে সৌদিআরব নিয়ে আমাদের মোহ ঝেড়ে ফেলার।

অপেক্ষায় আছি বিবেকবান মুসলিম রাস্তায় নেমে আসবে আর স্লোগান দিবে 'সৌদি সরকার নিপাত যাক'।

প্রশ্নাতীত বলা যায় নুপুংশুক সৌদি রাজবংশ মুসলিম উম্মাহর এক নগ্ন কলংক

আমি অবাক হই, ইরাকে আফগানিস্তানে ইরাক ব্রিটেনের বোমা নিক্ষেপে মুসলিম দেশগুলোতে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। নিরীহ নারী শিশু হত্যার জন্য তাদের প্রতি আমাদের ঘৃণায় থুথু আসে অথচ সেই একই অপকর্ম সৌদি যখন ইয়ামনের নিরীহ মানুষদের হত্যা করছে, আমরা বসে বসে তামাশা দেখছি!

গতকাল সৌদি বোমায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের ৪৫ (সর্বশেষ সংবাদ অনুযায়ী এ সংখ্যা ১৫০)

নিরপরাধ মানুষ নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে অনেক।

কিন্তু কি নির্লজ্জ আমরা! আমরা নির্বিকার! যেন সৌদি সরকারের বোমায় মানুষ হত্যায় যেন কোন পাপ নেই!

দুর্ভাগ্য মুসলিম উম্মাহর। কোটি কোটি মুসলিমদের প্রানের স্পন্দন যে মক্কা, তার তত্ত্বাবধানে আছে এই ঘাতকরা।

আমি সে দিনের অপেক্ষায়, রাস্তায় রাস্তায় সৌদি সরকার আর রাজবংশের নিপাত কামনা করে প্রতিটি মুসলিম দেশের জনগনের কন্ঠ উচ্চকিত হবে, এমন কি হতে পারে সৌদি রাজার কুশপুত্তলিকা পুড়ানো হবে, পুড়ানো হবে সৌদি আরবের ফ্লাগ।

Wednesday, 3 June 2015

বিশ্বাসহীন বিশ্বাসী

মাজে মাজে ভাবি, আসলেই কি কেউ 'প্রকৃতিগতভাবে অবিশ্বাসী' হতে পারে? আর যদি কেউ হয়েও থাকে, সেটা কিভাবে বাস্তব সম্মত? ধর্মের বর্ণিত সৃষ্টিকর্তা ধারণার সাথে নিজে কেউ ভিন্নতর মত পোষণ করতে পারে কিন্তু সৃষ্টিকর্তার ধারণার সাথে যে অদৃশ্য শক্তির সহাবস্থান, তা অস্বীকার করার মত জ্ঞানী বা যুক্তিবাদী কেউ আছে বলে আমার মনে হয় না।
আমার প্রিয় একজন কাষ্টমার, রক এন্ড রল আইডল, টপ টু বটম। যার দাড়ি নেমে পেঠের নিম্নাংশ পর্যন্ত প্রলম্বিত। সাধারণত আমার ধারনা ছিল যারা রক এন্ড রল টাইপ, প্রচন্ড শব্দের মোটর বাইক চালায় তারা রুক্ষ হয়, ব্যবহারে হয় আগ্রেসিভ। কিন্তু এই লোকটার সাথে পরিচয় হওয়ার পর আমার সে ধারণায় চির ধরেছে। সেই যাই হোক।
লোকটির সাথে আমার প্রায়শই ধর্ম সমাজ রাজনীতি নিয়ে কথা হয়। এমনকি বর্ণবাদ নিয়েও।( বলে রাখা ভাল, লোকটির অরিজিন সাউথ আফ্রিকা, এবং শ্বেতাঙ্গ।)
এই লোকটির সাথে যুক্তি তর্কের এক পর্যায়ে আমার নিজের নতুন এক উপলব্ধি জন্ম নিল? ঐ, আসলেই কি কেউ 'পরম অবিশ্বাসী' হতে পারে? না পারে না। সে যতই আধুনিক ধারণার সাথে পরিচিত হোক, বিজ্ঞানের চরম অনুগত হোক না কেন, তার দৈনিক জীবনের অধিকাংশ সময়ই কাটে বিশ্বাসের মধ্য দিয়ে।
আবার যদি বলা হয় বিশ্বাস আর আস্থা এক নয়, তবে সেটা ধরে নিয়েও কেই কি আস্থাহীন জীবন যাপন কিংবা ধারণ করতে পারে? অসম্ভব। 
এই যে রক এন্ড রোল মানুষটির কথা বলছি- সে যদিও প্রচলিত (সাধারণত খিশ্চিয়ান) ধর্মীয় স্রষ্টার ধারণার সাথে ভিন্নমত পোষন করে, কিন্তু একটি অদৃশ্য শক্তিতে সেও বিশ্বাস করে। না সেটি 'ডেভিল ওয়ারশিপ' নয়, প্রকৃত। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে সে সেই শক্তিকে বিনা প্রশ্নে মেনে নিতে নারাজ যেটাকে সে কখনো বলে 'সেন্স' কখনওবা আখ্যায়িত করে নলেজ হিসেবে।
আমরা, আমাদের জীবনটাই সম্পুর্ণ আস্থা বা বিশ্বাসের উপর নির্ভরশীল। চারপাশে যে দিকেই তাকাই, দেখি বিশ্বাস আর আস্থার উপস্থিতি। বিশ্বাস আর আস্থাহীন জীবন স্থবির।
হাইওয়েতে ৭০ - ৯০ মাইল গতিতে চলা হাজার হাজার মোটর বাহন চলে বিশ্বাস আর আস্থার উপর। হাজার ফুট উপর দিয়ে চলা বিমান থেকে শুরু করে সাগরে মাছ শিকারি ডিঙি নৌকার মানুষ গুলোর জীবনে দেখি সেই একই আস্থা আর বিশ্বাস। সুউচ্চ অট্টালিকা নির্মানে শত ফুট উচ্চতা থেকে শুরু করে খনির নীচে কাজ করা শ্রমিকরা প্রতিটি দিন শুরু হয় বিশ্বাস দিয়ে।
আর যে জটিল মনস্থাত্ত্বিক সম্পর্কে মানব জীবন গতিময় সেটিও সম্পুর্ণ আস্থা আর বিশ্বাস নির্ভর।
তবে কি করে কেউ দাবী করতে পারে, সে অবিশ্বাসী।
জাগতিক এই বিশ্বাস আর আস্থার গোলকে বন্ধী আমি আমরা হয়ত দ্বিধাগ্রস্ত, শংসিত কিন্তু অবিশ্বাসী? না, সেটি অসম্ভব। অবাস্তব; যদি না কেউ মানসিকভাবে অসুস্থ কিংবা অস্থিরতা দ্বারা প্রভাবিত।
বিশ্বাস আর আস্থার এই সীমাকে কেউ যদি নিয়ে যায় সীমাহীনতায়, অসীম কোন শক্তিতে- অবলীলায় বলা যায়- সে বিশ্বাস আর আস্থা জাগতিক বিশ্বাস আর আস্থার চেয়ে শ্রেয়তর- কিংবা বলা যায় 'এডভাঞ্চারাস'।

Wednesday, 29 April 2015

পয়লা বৈশাখে নারীদের শ্লীলতাহানি, অন্যদৃষ্টিতে

ঢাবি ক্যাম্পাস সহ অন্যান্য যে সকল স্থানে বৈশাখ উদযাপন করতে গিয়ে মেয়ে-নারীরা সেক্সুয়ালী এবিউজড হয়েছে, ইতিমধ্যে কথার কথা হয়ে গেছে অনেক।
কিন্তু আমার কথা হচ্ছে- সমগ্র বাংলাদেশ যেখানে ধর্ষিত, সেখানে নাগরিকদের এমন দু চারটি অনাখাংকিত ঘটনায় খুব বেশি 'উতলামী' ঠিক মানায় না।
অনেকেই দৃষ্টান্তস্বরূপ শাস্তি দাবী করেছেন। এটা হচ্ছে বইয়ের ভাষা। কেননা, তারা ভাল করেই জানেন, বিচার যে বা যারা করবে, তাদের সেই নৈতিক কাঠামো ভেঙে গেছে অনেক আগেই।
রাষ্ট্রের কাঠামোগত গঠন যতই চাকচিক্যময় হোক না কেন, রাষ্ট্রের যে প্রান, সরকার- সে নিজেই ধর্ষকামী হলে তাকে দিয়ে আর যাই হোক, নৈতিক মানদণ্ডের কোন কাজের আশা করাটা একই রকম অপরাধ। কেননা তাতে পরোক্ষভাবে মেনে নেওয়া হচ্ছে সেই ধর্ষকামীকে, যে আমার আখাংকা পুরন করতে সক্ষম। এটি এথিকসের সাথে সাংঘর্ষিক। কেননা একজন খুনী আরেক জন খুনীর বিচার করার নৈতিক অধিকার রাখে না, একজন ধর্ষক পারে না আরেকজন ধর্ষকের বিচার করতে।
আবার যদি বলালা হয়, তবুওতো আছে একটা সরকার। হ্যাঁ সেটাও ঠিক, আছে একখান সরকার, যেমন আছে সিরিয়ায়, আছে জিম্বাবুয়ে, এমনকি ইরাকে যে আইসিস এক তৃতীয়াংশ দখল করেছে, তাদেরও কিন্তু একটা সরকার কাঠামো আছে। সুতরাং সিভিলাইজড সমাজে সরকারের কাঠামোগত অস্তিত্ব থাকাটাই আসল কথা নয়, বরং সেই সরকারের গুনগত উপস্থিতি ও কাজের উপর নির্ভর করে সেই সরকার একটি রাষ্ট্র ও জনগনেরর উপর নিজেদের শাসন প্রক্রিয়া চালানোর নৈতিক অধিকার রাখে কিনা। বাংলাদেশে চলমান আক্ষরিক সরকার এর একটা উদাহরন।
সুতরাং, বিচার চাওয়ার আগে আমাকে ভাবতে হবে বিচারটা আমি চাইব কার কাছে।
দ্বিতীয় যে ব্যাপারটি, এবং ভয়াবহ, সেটি হচ্ছে- এই রকম আচরণ যারা ঘটায় তাদের মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়া। হয়ত আমরা মনে করছি, গুটি কয়েক ছেলে পুরুষ এই অপকর্ম গুলো করেছে। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে কিন্তু সেটি নয়। যে মনস্তাত্ত্বিক বিকৃতি থেকে তারা এই নোংরামি করেছে, সেই একই মনস্তাত্ত্বিক আচরণগত ক্রিয়া আমাদের বিশাল একটি সংখ্যার মধ্যেও রয়েছে। আমরা অনেকেই কাজে না হোক, চিন্তায় এবং কথায় তাদের থেকে একটুও কম নয়।
ভেবে দেখুন:
# আমরা কি নিজ নিজ অবস্থান সাপেক্ষ নিজেদের 'পাওয়ার স' করি না। ফ্যামিলিতে, সমাজে এবং রাষ্ট্র ক্ষমতায়।
# সংখ্যাধিক্যের সুবিধা নিয়ে আমরা কি প্রতিপক্ষের, এমন কি কাছের মানুষের অনিষ্ট করি না?
# শুধু বাংলাদেশেই নয়, সমগ্র পৃথিবীতেই নারী অবলা। আইন দিয়ে নারীর ক্ষমতা নিশ্চিত করা আর প্রকৃত নারীর অকৃত্রিম ক্ষমতা ভিন্ন জিনিস।
যে সমাজ যৌনতা দিয়ে 'সুন্দর'কে সংজ্ঞায়িত করে, নারীকে মুল্যায়ন করা হয় শারীরিক গঠন দিয়ে, অস্বীকার করা হয় নারীর মনুষ্যত্বকে, সেখানে নারীর প্রতি কি ধরনের আচরণ সমাজ থেকে আশা করা যেতে পারে।
পয়লা বৈশাখের ঘটনা শুধু কেবল একটি বিচ্ছিন্ন গুটি কয়েক বখাটের আচরণ নয়, বরং এটি একটি সমাজের চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ। সেই সমাজের বিশাল একটি অংশের বিচার বা শাস্তি নিশ্চিত করবে কে? 'ঠগ বাছতে গিয়ে গাঁ উজার' করার অবস্থা হবে তখন।

Friday, 13 December 2013

মা আর মাসীর গল্প

সময় বদলেছে। কিন্তু শত বছরের প্রবাধ 'মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি' এর রকম ফের খুভ হয়েছে বলে মনে হয় না!

আপনি যাদের কে স্বাধীনতার পক্ষের লোক বলে চিতকার করতে দেখেন, একাত্তরে দেশের মানুষের উপর পাকিদের নৃশংসতায় যাদের হৃদয় ভারাক্রান্ত-ক্ষোভে ফুসফুস ফেটে যাবার উপক্রম, রাজাকার-স্বাধীনতা বিরোধী মুক্ত স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার তাত্ত্বিকতায় আস্ফালন করছেন, তারা কিন্তু বর্তমান দেশের অবস্থায় ততটা উদ্ধিগ্ন নন।
কথাটা বোধহয় সম্পুর্ন সত্য নয়। হ্যাঁ, কিছুটা তো উদ্ধিগ্ন তো বটেই, সেটা 'জামাত শিবিরের তান্ডবতায়'।
আজকে শত শত মৃত্যু তাদের কে আহত করে না। কারন মরছে যারা সেতো জামাত শিবির কিংবা বি এন পি, তারা অন্য পক্ষ। এই মাইন্ড সেটের কারনে আজকে তাদের মন দেশের জন্য কাদেঁনা।

এবার একটু ভিন্ন দৃষ্টি। ব্যাপারটা মনস্তাত্ত্বিক। ৭১ পাকিরা নিরস্র বাংলার জনগনকে হত্যা করেছে পাইকারি হারে। কেন? কারন তারা ছিল 'পাকিস্তান' বিরোধী। 'দেশ বিরোধী' বিপক্ষ গোষ্ঠী। তার মানে সেখানেও সেই পক্ষ বিপক্ষ। পক্ষ বিপক্ষের পুতুল নাচে এক সময়ের 'ন্যায়' অন্য সময় 'অন্যায়', আবার 'অন্যায়' তার সংজ্ঞা বদলে হয়ে যায় 'অন্যায়'। সুতরাং এই মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে পাকি এবং বর্তমান অবস্থাকে যারা মৌন সম্মতি দেন, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এপ্রিসিয়েট করেন, তাদের মধ্যে পার্থক্য কিন্তু নেই, বরং সমগোত্রীয় বৈশিষ্টের   আধিক্যই বেশি। ভাষা আর স্লোগান বদলে গেলে এবং  আবেগের রং গাঢ় করে মিশিয়ে দিলেই যে তা 'পবিত্র' হয়ে যাবে, সেটা ভাবাও নিশ্চয়ই কোন সুস্থ মস্তিষ্ক প্রসূত নয়।

আজকে যারা মনে করেন বর্তমান পরিস্তিতির জন্য দায়ী বি এন পি আর জামাত কিংবা যারা মনে করেন 'যুদ্ধাপরাধী'দের বাঁচানোর জন্য (যা গত কয়েক বছর ধরে আমাদের আওয়ামি জীবন্ত কিংবদন্তিদের মুখ নি:সৃত উজ্জল সম্ভাবনাময় রাজনৈতিক বানী) আজকের এই অবস্থা সৃষ্টি, তবে তাদের 'সেন্স অব হিউমারের' প্রশংসা করতেই হয়। যারা নিজেদের স্বার্থে সংবিধান সংশোধন করে আজীবন ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার বেসম্ভব ইচ্ছার মানিসিক বৈকল্যতায় এই বি এন পি-জামাতের রাস্তায় নেমে সহিংসতা, তাদেরকে কেউ কি প্রশ্ন করেছেন 'কেন আপনি বা আপনারা তাদের সেই সুযোগ দিলেন'? না, সেই প্রশ্ন করার যে মানসিক পরিশুদ্ধতা প্রয়োজন, তা আপনাদের নেই।
আজকের বর্তমান পরিস্থিতি কিন্তু ঘটনা পরষ্পরা হচ্ছে না, বরং এটি একটি প্লান মাফিক এগুচ্ছে। কি ভাবেন আপনি? একটি দল ক্ষমতা আঁকড়ে থাকবে আর অন্যান্য রাজনৈতক দল ও দল প্রধানরা হাত পাখা নিয়ে সেই ক্ষমতার মসনদে বাতাস করবেন, এব সেই আয়েসি মুহুর্তে আমাদের 'শেখ সাবের বেটি' চোখ বুজে হিন্দি সিরিয়াল দেখবেন, নিশ্চই এইরকম প্লান করে রাখেন নি। বরং প্লান মাফিকই প্রতিদিন মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। এগুচ্ছেন নিজের ক্ষমতায় থাকার মনস্তাত্ত্বিক বিকৃতির রক্তের নদীতে নৌকা ভাসিয়ে সমুদ্রের দিকে! পশুবত জানোয়ার যখন বাসে আগুন দিয়ে জীবিত মানুষ হত্যা করে, তার দায়ভার নেই উনার? কিংবা ইন্ধন?

কিন্তু আমাদের দেশ দরদী প্রগতিশীল আর স্বাধীনতার একমাত্র পক্ষাবলম্বনকারীরা কিন্তু বলছেন না, জননেত্রী আপনি থামেন, আপনি যাকে রাস্তায় গুলি করে হত্যা করছেন, সেও আমার দেশী ভাই, সেও এই দেশের নাগরিক। আমি ও সে একই পাড়ায়, এক সাথে ক্রিকেট খেলে, দুষ্টুমি করে, সিগারেট ফুকে বড় হয়েছি। তাকে হত্যা করা আর আমাকে হত্যা করা সেতো সমান? আর রক্ত? তার মতো আমারও সেই একই মেঘ বৃষ্টি আলো বাতাস আর আবেগের রক্ত!
কিন্তু বলবেন না, কারন ঐ একটাই, পক্ষ আর বিপক্ষ। আপনাদের হৃতপিন্ডের অলিন্দ যদি হয় আলোকিত তবে হৃদয়ের অন্য অংশ 'নিলয়' অন্ধকার। সেই অন্ধকার দেখার বা উপলব্ধি করার যে চেতনা, যে মানবিক প্রবৃত্তি, সেটা নেই আজ আর আপনাদের মধ্যে কিংবা বিকৃত হয়ে গেছে।

কিন্তু আপনাদের এই পক্ষ আআর বিপক্ষ খেলায় একটা ভাল দিক আছে। দায় মুক্তির। ৭১ পিচাশদের! আংগুল দিয়ে তারা আজ দেখিয়ে দিচ্ছে- দেখ, দেখ, পক্ষ বিপক্ষ যে খেলা খেলে আমরা আজ তোদের ইতিহাসে ঘৃনিত প্রেতাত্মা, সে একই খেলা এখন তোরা খেলছিস! সুতরাং আমরা যা করেছি সুযোগ ও সময় হলে তোরাও তা করতে পারিস! তাহলে তোদের আর আমাদের মধ্যে পার্থক্য কি! আয় ভাই, আয়! আমরা বুক মিলাই, একসাথে না হয় আবার শুরু করব পক্ষ বিপক্ষ খেলা!!
তাই বুজতে পারিনা- দেশের জন্য কার দরদ বেশী, মায়ের না মাসির? আর এই মা'টাই বা কে আর মাসীটাই বা কে?

Sunday, 13 October 2013

আরাফাত দিবস

"লাব্বয়িক আল্লাহ হুম্মা লাব্বায়ীক
লাব্বায়িকা লা শারিকালাকা লাব্বায়িক
ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’মাতা
লাকা ওউয়াল মুলকা লা শারিকা লাক"

                                               বিদায় হজ্জের ঐতিহাসিক ভাষনের বিষয়াবলি

১০ই হিজরীর ৯ই জিলহাজ্জ তারিখে বিশ্বনবী সাঃ আরাফাতের বিশাল ময়দানে উপস্থিত লক্ষাধিক সাহাবীর সম্মুখে জীবনের যে অন্তিম ভাষন দান করে ছিলেন তা ইসলামের ইতিহাসে বিদায় হজ্জের ভাষন নামে পরিচিত।

উক্ত ভাষনে রাসূল সাঃ মানবাদিকার সম্পর্কিত কতগুলো বিষয়ে সঠিক দিক নির্দেশনা দান করেন; যার প্রধান বিষয়গুলো হচ্ছেঃ

১। ধর্মীয় আদেশ নিষেধ মনোযোগ সহকারে শ্রবন করা
২। দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
৩। আমানতের খিয়ানত না করা
৪। জুলুম নির্যাতন বন্ধ করন
৫। সুদের লেনদেন নিষিন্ধ করন
৬। নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠাকরন
৭। ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করন।
৮। আভিজাত্যের গর্ব রহিত করন।
৯। দ্বীনের পরিপূর্নতা লাভ।
১০। সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠায়  গুরুত্বারোপ
১১। রক্তপাত নিষিদ্ধকরন
১২। নবুয়্যতের ধারা সমাপ্ত ঘোষনা
১৩। শ্রমিকের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠাকরন।
১৪। শিরক্ নিষিদ্ধকরন
১৫। আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা
১৬। পিতামাতার সাথে উত্তম আচরন করা
১৭। জ্ঞান অর্জনে গুরুত্বারোপ
১৮। প্রতিবেশীর অধিকার প্রতিষ্টা
১৯। আল্লাহকে সর্বাবস্থায় ভয় করা
২০। চাকর চাকরানির অধিকার প্রতিষ্টাকরন
২১। মানবতার সেবা করন
২২। ঘুষ ও অন্যান্য হারাম পদ্ধতিতে উপার্জন নিষিদ্ধকরন
২৩। উত্তারাধিকারীত্বে অধিকার নিশ্চতকরন
২৪। মদ ও ব্যাভিচার নিষিদ্ধকরন
২৫। ইয়াতীমের মাল ও সম্পদ আত্বসাৎ না করা
২৬। আমীরের আনুগত্ব করা
২৭। মাপে ও ওজন কম না দেয়া
২৮। অঙ্গীকার পালন করা
২৯। পথ ভ্রষ্ট না হবার উপায়
৩০। কৃতজ্ঞতা ও কর্তব্যপরায়নতা
৩১। তাবলীগ তথা দ্বীন প্রতিষ্টার জন্য দাওয়াতি কাজ করা।

তিনি আরো বলেনঃ হে উপস্থিত জন মন্ডলীগন, তোমরা যারা এখানে উপস্থিত আছ তারা আমার এ বানী যারা এখানে উপস্থিত নেই তাদের কাছে পৌছে দিবে। ভাষন শেষে রাসুল সাঃ বলেনঃ হে সাহাবীগন আমি কি আমার দায়িত্ব পালন করতে পেরেছি? উপস্থিত সাহাবীগন সমুচ্চস্বরে বললেনঃ হ্যাঁ আপনি তা করেছেন।

এর পর বিশ্বনবী আকাশের দিকে তাকিয়ে বললেনঃ হে আল্লাহ আপনি সাক্ষ্য থাকবেন।

এর পর পবিত্র কোরাআনের সুরা মায়েদার ৩ নং আয়াত অবতীর্ন হয়ঃ ‘আজিকার এই দিনে আমি তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামতকে পূর্ন করলাম। আর জীবন ব্যাবস্থা হিসেবে ইসলাম কে তোমাদের জন্য মনোনীত করলাম।  

Sunday, 2 June 2013

ঘাসফুল জীবন

ঘাস ফুল। কি অযতন আর অবহেলায় জন্ম তার। কিন্তু যখন তাকাই ছোখ জুড়িয়ে যায়। জানি, খেলার মাঠে বলটাকে জালে ডুকানোর প্রতিযোগিতায় কেউই সেদিকে ছোখ রাখার বা দেখার অবসর পায় নি। 'কাটা যুক্ত' বুটের পিষ্ট হয়েছে বার বার।
 - কি ভাবছিল ঘাসফুল? কি ভাবছিল ঘাসফুল তার সমস্থ শরীরকে পিষ্ট করে যখন পায়ের কারসাজি দেখিয়ে যাচ্ছিল কন্টকি পা?
 পড়ন্ত বিকেলে ক্লান্ত রোদ যখন দিনের শেষ চুমু দিয়ে যায় ঘাস ফুলের শরীরে, ঘাস ফুল কি পারে সাড়া দিতে পথম চুমুর মত, ভোরের আলোকে দিয়েছিল যেমনটি করে? আর সে একই শিহরন কি পেয়েছিল পিষ্ট দেহে, ক্ষত বিক্ষত হওয়া শরীরে?
ঘাসফুল কি জানত তার বিকেল এমনটি হবে? নাকি তপ্ত দুপুর তাকেও দিয়েছিল আলসেমি? প্রচণ্ড অভিমানে কি ভ্রুকুটি কেটেছিল সুর্য্যকে। নাকি হেয়ালীর ঠোট বাকিয়ে হেলিয়ে দিয়েছিল বাড়ন্ত শরীর?
নিজের গন্ডি পেরিয়ে দেখাতো হলনা, নিজের চারপাশ, এই সবুজ মাঠের অপাশে ঐ পিচডালা রাস্তা। শোঁ শোঁ করে হাজারে হাজার যন্ত্র দানব চলে যাওয়া, একবারও কেন আমার দিকে তাকায় না? কিংবা ঐ বহুতল ফ্ল্যাটের বিমর্ষ নারী। জানা যদি যেত, কিংবা একবার যদি তার চুলের ঘ্রান নেয়া যেত? ইস' কতকি যে দেখার বাকি, কত কি স্প্র্শ করার বাকী!
পাস! পাস! এইদিকে! এই দিকে........
 - ঘাসফুল সত্যি সত্যিই নেতিয়ে পড়ে। ঘাসফুল প্রচন্ড অভিমানে আর ঘৃনা নিয়ে মিশে যায় সবুজ ঘাসের শরীরে ।। 02:09 AM 02/06/2013