বলছি না যে সকালটা অন্য আর সকালগুলোর মতই ছিল। উয়িন্ডি, রেইনি এন্ড কোল্ড। স্বভাবত এভাবেই বর্ণনাটা যুতসই। গাড়ি পার্ক করে কর্মস্থানে প্রবেশ করার আগে কিছুটা হাটা পথ। অন্য দিনগুলোর মতই হাঁটছিলাম। মাথায় তুলে নেওয়া হুডি বাতাসের ঝাপটায় মাথা থেকে সরে যাচ্ছিল। অনেক খানি সামনের দিকে টেনে নিতে গিয়েই চোখে পড়ল এই দৃশ্য। থমকে দাঁড়ালাম। কি একটা তীক্ষ্ণ উপলব্ধি বিদ্যুৎ গতিতে মাথায় খেলে গেল। তার পর সেই উপলব্ধির একের পর এক ব্যবচ্ছেদ। নিজের মনে প্রশ্ন, নিজের মনেই উত্তর আসে। কিন্তু যে উপলব্ধির তীক্ষ্ণতা বোধ আর উপলব্ধির মাত্রাকে পাশ খাটিয়ে অন্য এক মাত্রায় দুলতে থাকে, তাকে কি এই কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার সময় বাধ্যবাধকতার মইয়ে ছোঁওয়া যায়? তাই ভিডিও করে নিলাম। তার পর অনেকদিন গেছে। বেশ কয়েকবার দেখেছি। যেই সময়ে আমি ভিডিওটি রেকর্ড করি, সেই সময়ের অনুভূতি ফিরে আসছিল না।
কিছুক্ষণের মধ্যেই নতুন ইংরেজি বর্ষ ২০১৭। অর্থাৎ ২০১৬ এর বিদায়। মানে ঝড়ে যাওয়া আরেকটি বছর।
এই বাতাসের সাথে উড়ে যাওয়া পাতা, এই যে ক্ষণ, অনেক ভাবেই আমি একে উচ্চারণ করেছি। ঝড়ে যাওয়া, খসে পরা, ছিটকে পরা, মরে যাওয়া, পরে যাওয়া। কি থেকে বা কার থেকে অথবা কোথায় থেকে প্রশ্নের উত্তর অবশ্য একটাই, বৃক্ষ থেকে। যদিও বৃক্ষ কে ছোট, বড় কিংবা বট গাছ ইত্যাকার বিশেষণ জুড়ে দেওয়া যায় কিন্তু উৎসমুখ তো একটাই, বৃক্ষ।
শুনেই তো আসছি, মানব জীবন আর বৃক্ষ জীবন বেশ কিংবা অনেকটাই সাদৃশ্যপূর্ণ।
এই গাছের পাতার মতই মানব জীবন ঝরে যায়। সময় হলে। ছোটকালে বাবার কাছে একটি গল্প না ঠিক, মিথ, প্রায় শুনতাম। যখন স্বচ্ছ চাঁদ আকাশে দেখা দিত। বাবা চাঁদের দেশের বিরাট গাছ কে দেখিয়ে বলতেন যখন ঐ চাঁদের গাছে নতুন পাতা জন্ম নেয় তখন সেই পাতায় যার নাম লেখা থাকে দুনিয়াতে তার জন্ম হয়। আর যখন ঐ চাঁদের গাছের একটি পাতা ঝরে পরে তখন দুনিয়াতে সেই পাতায় লেখা যার নাম তার মৃত্যু হয়।
এই গাছের পাতার মতই আমরা ঝরে পড়ছি, খসে পড়ছি, ছিটকে পরছি, পতিত হচ্ছি। উড়ে যাচ্ছি। কিন্তু কার থেকে, কি থেকে সেটা বেশ একটু জটিলই। বৃক্ষ জীবন আর মানব জীবন সম ভেবে সহজেই বলতে পারতাম, পাতা যেমন গাছ থেকে আমরা তেমনি জীবন থেকে। কিন্তু সেই বলা কি সঠিক হত?
আমাদের তো জীবনকালে ছিটকে, খসে, পতিত হওয়ার আগেই অনেকবার ছিটকে,খসে, পতনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। পরিবার থেকে, সমাজ থেকে, ভালোবাসার মানুষের কাছ থেকে। স্বপ্নের কাছ থেকে, কাঙ্ক্ষিত বাসনা, কামনা আর আপন বলয় থেকে। পাতার মত উরে উরে কোথায় যে যাই, কারো উঠোনে, দরজার সামনে কিংবা চালে। পিচ ঢালা রাস্তায় নয়ত গ্রামের কোন মেঠো পথে। নিজের বৃক্ষ জীবনের কাছে কি যাই কখনো ফিরে? না।
তাই, আমার কাছে, জীবন থেকে খসে পরা, ছিটকে পরা শুরু জীবন শুরুর সাথে সাথেই। মায়ের কোল থেকেই যার শুরু।
কিন্তু বার বার একই প্রশ্ন, তাহলে আমার বৃক্ষ কে?
No comments:
Post a Comment