Wednesday, 29 April 2015

পয়লা বৈশাখে নারীদের শ্লীলতাহানি, অন্যদৃষ্টিতে

ঢাবি ক্যাম্পাস সহ অন্যান্য যে সকল স্থানে বৈশাখ উদযাপন করতে গিয়ে মেয়ে-নারীরা সেক্সুয়ালী এবিউজড হয়েছে, ইতিমধ্যে কথার কথা হয়ে গেছে অনেক।
কিন্তু আমার কথা হচ্ছে- সমগ্র বাংলাদেশ যেখানে ধর্ষিত, সেখানে নাগরিকদের এমন দু চারটি অনাখাংকিত ঘটনায় খুব বেশি 'উতলামী' ঠিক মানায় না।
অনেকেই দৃষ্টান্তস্বরূপ শাস্তি দাবী করেছেন। এটা হচ্ছে বইয়ের ভাষা। কেননা, তারা ভাল করেই জানেন, বিচার যে বা যারা করবে, তাদের সেই নৈতিক কাঠামো ভেঙে গেছে অনেক আগেই।
রাষ্ট্রের কাঠামোগত গঠন যতই চাকচিক্যময় হোক না কেন, রাষ্ট্রের যে প্রান, সরকার- সে নিজেই ধর্ষকামী হলে তাকে দিয়ে আর যাই হোক, নৈতিক মানদণ্ডের কোন কাজের আশা করাটা একই রকম অপরাধ। কেননা তাতে পরোক্ষভাবে মেনে নেওয়া হচ্ছে সেই ধর্ষকামীকে, যে আমার আখাংকা পুরন করতে সক্ষম। এটি এথিকসের সাথে সাংঘর্ষিক। কেননা একজন খুনী আরেক জন খুনীর বিচার করার নৈতিক অধিকার রাখে না, একজন ধর্ষক পারে না আরেকজন ধর্ষকের বিচার করতে।
আবার যদি বলালা হয়, তবুওতো আছে একটা সরকার। হ্যাঁ সেটাও ঠিক, আছে একখান সরকার, যেমন আছে সিরিয়ায়, আছে জিম্বাবুয়ে, এমনকি ইরাকে যে আইসিস এক তৃতীয়াংশ দখল করেছে, তাদেরও কিন্তু একটা সরকার কাঠামো আছে। সুতরাং সিভিলাইজড সমাজে সরকারের কাঠামোগত অস্তিত্ব থাকাটাই আসল কথা নয়, বরং সেই সরকারের গুনগত উপস্থিতি ও কাজের উপর নির্ভর করে সেই সরকার একটি রাষ্ট্র ও জনগনেরর উপর নিজেদের শাসন প্রক্রিয়া চালানোর নৈতিক অধিকার রাখে কিনা। বাংলাদেশে চলমান আক্ষরিক সরকার এর একটা উদাহরন।
সুতরাং, বিচার চাওয়ার আগে আমাকে ভাবতে হবে বিচারটা আমি চাইব কার কাছে।
দ্বিতীয় যে ব্যাপারটি, এবং ভয়াবহ, সেটি হচ্ছে- এই রকম আচরণ যারা ঘটায় তাদের মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়া। হয়ত আমরা মনে করছি, গুটি কয়েক ছেলে পুরুষ এই অপকর্ম গুলো করেছে। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে কিন্তু সেটি নয়। যে মনস্তাত্ত্বিক বিকৃতি থেকে তারা এই নোংরামি করেছে, সেই একই মনস্তাত্ত্বিক আচরণগত ক্রিয়া আমাদের বিশাল একটি সংখ্যার মধ্যেও রয়েছে। আমরা অনেকেই কাজে না হোক, চিন্তায় এবং কথায় তাদের থেকে একটুও কম নয়।
ভেবে দেখুন:
# আমরা কি নিজ নিজ অবস্থান সাপেক্ষ নিজেদের 'পাওয়ার স' করি না। ফ্যামিলিতে, সমাজে এবং রাষ্ট্র ক্ষমতায়।
# সংখ্যাধিক্যের সুবিধা নিয়ে আমরা কি প্রতিপক্ষের, এমন কি কাছের মানুষের অনিষ্ট করি না?
# শুধু বাংলাদেশেই নয়, সমগ্র পৃথিবীতেই নারী অবলা। আইন দিয়ে নারীর ক্ষমতা নিশ্চিত করা আর প্রকৃত নারীর অকৃত্রিম ক্ষমতা ভিন্ন জিনিস।
যে সমাজ যৌনতা দিয়ে 'সুন্দর'কে সংজ্ঞায়িত করে, নারীকে মুল্যায়ন করা হয় শারীরিক গঠন দিয়ে, অস্বীকার করা হয় নারীর মনুষ্যত্বকে, সেখানে নারীর প্রতি কি ধরনের আচরণ সমাজ থেকে আশা করা যেতে পারে।
পয়লা বৈশাখের ঘটনা শুধু কেবল একটি বিচ্ছিন্ন গুটি কয়েক বখাটের আচরণ নয়, বরং এটি একটি সমাজের চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ। সেই সমাজের বিশাল একটি অংশের বিচার বা শাস্তি নিশ্চিত করবে কে? 'ঠগ বাছতে গিয়ে গাঁ উজার' করার অবস্থা হবে তখন।

No comments:

Post a Comment